ননদের বিয়েতে
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকে আপনাদের মাঝে একটা বিয়ে বাড়ির সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। গতকালকের পরিচয় পর্বটা আমার কাছে একদমই নতুন এক নিমন্তন্ন পত্র ছিল। আজকে শেয়ার করব আরেক ননদের বিয়ের নিমন্ত্রণ। প্রথম থেকেই কোন বিয়ে বাড়িতেই যাবার একেবারেই ইচ্ছে ছিল না। আমার কোথাও যাবার কথা শুনলেই যেন অস্বস্তি বোধ হয়। আবার সাজগোজ করে যাওয়া এটা একেবারেই বিরক্তি কর লাগে। কিন্তু কিছু আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে না গেলেই নয়। তাই বাধ্য হয়ে যেতে হয়। অনেকে নেমন্তন্ন পেলে ভীষণ খুশি হয় ।আর আমি নেমন্তন্ন পেলে আগেই ভাবতে শুরু করি আবার আমাকে সেজেগুজে তাদের বাড়িতে পৌঁছাতে হবে। আর বাড়ির বাকি সদস্যরা আমাকে নিয়ে এক পা নড়তে চাই না। তাই তাদের মুখের দিকে চেয়ে আমাকে বাধ্য হয়ে পৌঁছাতে হয় নেমন্তন্ন বাড়িতে।
গত শনিবার দিন ছিল আমার এক মাসতুতো ননদের বিয়ের নিমন্ত্রণ। সে হয়তো আমাকে চিনত। কিন্তু আমি তাকে কোনদিনই দেখিনি। ওদের বাড়ি আমাদের শ্বশুরবাড়ি ছাড়িয়ে প্রায় অনেকটাই যেতে হয় ।সেখান থেকে আবার অনেকটা গ্রামের ভিতর। শশুর, শাশুড়ি, বর তিনজনেই খুব জোরাজুরি করছিল। তাই তাদের কথা মতো হঠাৎ করেই গাড়ি ঠিক করে ফেলেছিলাম। যেহেতু সেদিন প্রচুর বিয়ের তারিখ ছিল। তাই গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। কোনরকমে চেনা জানার মধ্যেই একটা গাড়ি ঠিক করে ফেলেছিলাম ।এরপর সকলেই বিকেল চারটে নাগাদ তৈরি হয়ে নিয়েছিলাম আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জন্য। যেহেতু গ্রাম থেকে অনেকটাই ভিতরে তাই একটু তাড়াতাড়ি বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কথাই বলে বাঙালি টাইম কোন জায়গায় সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারেনা ।
এরপর সোজা চলে গিয়েছিলাম তেহট্টতে ।সেখান থেকে আরেক দাদা আর দাদার মেয়ে দুজনেই আমাদের সাথে গাড়িতে উঠে পড়েছিল ।তারা এসেছিল বহরমপুর থেকে। এই মাসি শাশুড়ি উনি নাকি প্রত্যেকের বাড়িতেই নিমন্তন্ন রক্ষা করতে যান। তাই সকলেই উনার নেমন্তন্ন রক্ষার জন্য মোটামুটি পৌঁছে গিয়েছিলেন। যাইহোক কোনদিনই যাওয়া হয়নি। তাই রাস্তা চিনতে একটু হলেও অসুবিধে হচ্ছিল ।আমরা যখন বিয়ে বাড়ি পৌছালাম তখন বিয়ে বাড়ি মোটামুটি ফাঁকা। কারণ গ্রামের মানুষেরা অত সকাল সকাল বিয়ে বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি। শুনেছিলাম বিয়ে নাকি একদমই সন্ধ্যের লগ্নে। কিন্তু কনে তখনো সেজে রেডি হয়ে উঠতে পারিনি।
আমরা গিয়ে সকলের সাথে পরিচয় পর্ব সেরে নিয়েছিলাম ।কারণ আমি একেবারেই নতুন আমাকে নিয়ে সকলে বিয়েবাড়িতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছিল। যাইহোক এরপর যাওয়ার সাথে সাথে ওরা আমাদের বিভিন্ন রকমের মিষ্টি দিয়েছিল খেতে। এরপর ছিল কফি ,পকোড়া, ফুচকা সমস্ত কিছু অল্প অল্প করে টেস্ট করে নিয়েছিলাম। যাবার প্রায় ঘন্টাখানেক পর বরের গাড়ি ঢুকলো। আমরা বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথেই আগে পরেছিল বরের বাড়ি। তারপরে মেয়ের বাড়ি ।আমরা তো রীতিমতো বরের বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগা শুরু হয়ে গিয়েছিল বিয়ের পর্ব।
এদিকে আমরা সকলে রাতের ডিনার সেরে নিয়েছিলাম। কারণ আমাদের আবারো অনেকটা পথ অতিক্রম করে আসার জন্য। এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক খাওয়া দাওয়া সেরে খুব তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়েছিলাম। তখন বাজে রাত আটটা। এদিকে যে দাদা আর দাদার মেয়ে আমাদের সাথে গিয়েছিল তাদের আবার ওখান থেকে প্রায় অনেকটা পথ পৌঁছে দিয়ে আসতে হয়েছিল। কারণ ঠান্ডার মধ্যে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে যদি গাড়ি না পায় সেই জন্য। ওদের পৌঁছে দিয়ে আবারও আমরা আমাদের নিজেদের পথে রওনা দিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরতে প্রায় রাত সাড়ে দশটা বেজে গিয়েছিল।
তবে গ্রামের বিয়ে হলেও খাবার আয়োজন ছিল এলাহী। শহরের থেকে কোন অংশে কম নয়। বিয়ে বাড়িতে বিশেষ করে গ্রামে যত বড় জায়গা দেওয়া যায় না কেন তবুও মানুষের ভিড় সামলানো যায় না। ননদের বিয়েতে এত পরিমাণে লোক এসেছে যে উঠানে জায়গা দেওয়া অসম্ভব হয়ে যাচ্ছিল। যাই হোক বিয়ে বাড়িতে সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল। নতুন মানুষদের সাথে পরিচয় করে ভীষণই ভালো লেগেছে। সেই সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।





Congratulations @mou.sumi! Your post was upvoted by @supportive. Accounts that delegate enjoy 10x votes and 10–11% APR.
Thank you 🙏