বসন্তের মৌসুমে প্রথম শিলাবৃষ্টি

in Incredible India2 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG_20260319_214724.jpg

আমরা এখন বসন্তকালে মাঝামাঝি সময় দাঁড়িয়ে রয়েছি।বাংলা মাস প্রায় শেষের পথে।2026 সালে প্রথম শিলা বৃষ্টি হয়েছে।বসন্তকালে কিছুদিন ধরেই প্রচন্ড রোদের তাপ ছিল। বলতে গেলে প্রায় গরম পড়ে গিয়েছিল। দিনের বেলায় প্রচন্ড রোদ গরম এদিকে আবার মাঝামাঝি রাতে কিছুটা হলেও একটু স্বস্তি পাচ্ছিলাম। এই করে করেই প্রচুর মানুষের জ্বর, সর্দি লাগা লেগেই রয়েছে। ইতিমধ্যে আমারও গত তিনদিন ধরে প্রচন্ড জ্বর ,ঠান্ডা লেগেছে মাথা যন্ত্রণা আরও বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই দিনের বেলায় হালকা রোদ উঠছে আর আবহাওয়া মেঘলা মেঘলা রয়েছে। খবরের কাগজ, ফোন, টিভি সবকিছু খুললেই আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিল ঝড়- বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছুদিন আগে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম আমি বেড়াতে যাব বলে কিছু কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছিলাম।

IMG_20260319_214458.jpg

কিন্তু এই আবহাওয়ার জন্যই আমি বেড়াতে যেতে পারিনি।কারণ বাড়ির সকলেই এইরকম আবহাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে ছাড়েনি। কারণ যদিও বা বেড়াতে চলে যেতাম তাহলে হয়তো আমরা ঝড়-বৃষ্টির মুখোমুখি হতাম। কারণ এবার আমরা সমুদ্রে বেড়াতে যেতাম। আর সমুদ্র এলাকাবর্তী অঞ্চলগুলোতেই ঝড় বৃষ্টির প্রভাব বেশি পড়ে। বড়দের কথা অমান্য করে তাই আর বেড়াতে যেতে পারিনি। আমার সাথে আমার বোন আরো যারা যারা যেতাম একসাথে সকলেই ভীষণ মন খারাপ। বেশ কয়েকদিন ধরেই মন খারাপ নিয়ে বাড়িতে বসে আছি। হয়তো মন খারাপের কারণেই শরীরটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে আবহাওয়া খারাপ হলেও রাতের দিকে কিন্তু বৃষ্টি হতো না।

IMG_20260319_214438.jpg

এই করে করেই প্রায় সাত দিন কেটে গেছে। কিন্তু ঝড় বৃষ্টির কোন সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যে থেকে মেঘের ঝলকানি শুরু হয়েছিল। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে অন্যান্য জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির কথা শুনছিলাম। কিন্তু আমাদের কৃষ্ণনগরে তেমন কোন ঝড় বৃষ্টি হয়নি। গতকালকে বিকেল থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে আজকে ঝড় বৃষ্টি কিছু একটা হবেই। এই করে করে সারা সন্ধ্যে কেটে গিয়েছিল। এরপর বৃষ্টি আসছে না দেখে আমি চলে গিয়েছিলাম মামার বাড়িতে। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে শুরু হল ঝড়। চারিদিকে ধুলো উড়ছিল ।বাইরে যাবতীয় নোংরা উড়তে শুরু করেছিল।খানিকক্ষণ ঝড় হবার পরে বেশ বড় বড় ফোটা বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। বসন্তের এই মাঝামাঝি সময় যে বৃষ্টি আমরা বেশ সকলে মিলে আনন্দ উপভোগ করছিলাম।

কিন্তু বৃষ্টির মাঝেই শুরু হল শিল পড়া।শিলাবৃষ্টি ভীষণ ভালো লাগে। কিন্তু আমার আবার বৃষ্টির জল গায়ে পড়লে ভীষণ শীত করে। যে বাইরে শিল পড়তে দেখছিলাম আমি আর আমার মামার মেয়ে দুজনেই চলে গিয়েছিলাম ছাদে সিল কুড়ানোর জন্য। সচরাচর শিলাবৃষ্টি হয় না। কিন্তু আমি আর বোন ছাদে যাওয়া মাত্রই শিলগুলো ছাদে পড়ে একদম ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল। এদিকে ঝড়ের দাপট আর বৃষ্টির দাপটের আমরা আর ছাদে যেতে পারিনি। দূর থেকেই শিলাবৃষ্টির মুহূর্ত উপভোগ করছিলাম। বহু বছর আগে একবার শিলাবৃষ্টি হয়েছিল ।তখন সকলে মিলে প্রচুর শিল মানে বরফ কুড়িয়েছিলাম। আসলে বরফের টুকরোগুলো বৃষ্টির সাথে পড়তে পড়তেই জল হয়ে যায়। আর স্বল্প পরিমাণ হয়তো আমাদের ভূ-পৃষ্ঠে এসে পড়ে। তবে আমরা যেমন শিলাবৃষ্টি উপভোগ করছিলাম। তেমনি শিলাবৃষ্টি হলে বহু চাষীর অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। বৃষ্টি হবে হয়তো আবহাওয়া দপ্তর প্রথম থেকেই জানিয়ে দেয়। কিন্তু ফসল ওঠার সময় যদি না হয় সেই ফসল তো যখন তখন কাটা যায় না। তাই ভীষণ ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায় চাষীদের।

আমি যেহেতু গ্রামের মেয়ে ।আমার বাবা ও একজন কৃষক। তাই সবার আগে আমি বাবার দিকটাই ভাবি। এছাড়া আরো বহু কৃষক রয়েছে তাদেরও অনেক ক্ষয় ক্ষতি হয়। যাইহোক বছরে শেষের দিকে এই শিলাবৃষ্টি ভালোভাবে উপভোগ করেছিলাম ।সেটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম। ছবি গুলো ভিডিও থেকে স্কিন শর্ট নেওয়া।


আজ এখানেই শেষ করলাম ।আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...
Vote-___-@ninapenda.jpg.jpeg
Curated By @ninapenda
 yesterday 

Thank you 🙏

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.31
JST 0.060
BTC 70322.63
ETH 2148.39
USDT 1.00
SBD 0.51