শীতের সন্ধ্যায় কাজের ফাঁকে সকলে একসাথে বসে আগুন পোহানোর মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
এই বছরে যেমন খুব গরম পড়েছিল ঠিক তেমনি প্রচণ্ড পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছিল। ঠিক তেমনি ঠান্ডাও পড়েছে হাঁড় কাঁপানো। বেশ কিছু বছর পর এইরকম হাঁড় কাঁপানো ঠাণ্ডা পড়েছে। এ বছরে সকলের মুখে ওই একই কথা। বিগত কয়েক বছর ধরে ঠান্ডা পড়া একেবারেই কমে গিয়েছিল। যাই হোক আমার শীতকাল ভীষণ ভালো লাগে। এখন মনে হচ্ছে আমরা দার্জিলিঙে বসে রয়েছি। দার্জিলিং এর মতো কখনো রাতের বেলায় কুয়াশা ভরে যাচ্ছে আবার কখনো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।তবে আমরা যে সময়ে দার্জিলিঙে গিয়েছিলাম সেই সময়ে এইরকম ঠান্ডা উপভোগ করতে পারিনি। শীতের দিনে কাজকর্ম করতে একটু অসুবিধা হয়। মনে হয় শুধু বিছানায় শুয়ে শুয়ে সারাটা দিন কাটিয়ে দিই। তবে আমাদের মাটির কাজ করতে খুবই কষ্ট হয়। শীতকালের দিনে যে ভিজে মাটির কোন কাজ করতে ভীষণ অসুবিধা হয়।
তবে শীতকালে সকলে মিলে একত্রিত হয়ে গল্পের সাথে আগুন পোহালে বেশ মজা লাগে। এখন যখনই রাস্তায় সন্ধ্যার পর বেরোনো হয় দেখি রাস্তার ধারে ধারে সমস্ত মানুষজন একত্রিত হয়ে আগুন ধরিয়ে আগুন পোহাতে। তবে আমি সচরাচর আগুন পোহাতে একদমই পছন্দ করি না। কোনদিন সেভাবে শীতকালে আগুন ধরানো হত না। কৃষ্ণনগরে এইরকম ঠান্ডা পড়তে ছোটবেলায় অনুভব করতাম। কিন্তু তখন এই ভাবে কাউকে আগুন পোহাতে দেখিনি।ছোটবেলায় গ্রামের দিকে দেখতাম একটু ঠান্ডা পড়লেই সমস্ত লোকজন সন্ধ্যা হলেই আগুন ধরিয়ে এক জায়গায় বসে আগুন পোহাতে। শীত পড়েছে বলে আমাদের যে কাজ বন্ধ তেমনটা নয় ।কাজ যেন আমাদের পিছু ছাড়ে না। বারোমাস কাজের ভীষণ চাপ থাকে। এত ঠান্ডা দেখে কাজ করতে ইচ্ছে করছিল না ।তবুও কাকু ভীষণ জোড়াজুড়ি করে কাজ করবার জন্য। তখন শেষমেষ বাধ্য হয়েই কাজ করতে হয়।
শীতের সময় কাজ করতে ভীষণ দেরী হয়। কারণ হাত যেন তাড়াতাড়ি কাজ করে উঠতেই পারে না। সেদিন এত পরিমানে ঠান্ডা পড়েছিল তাই ঘরের ভিতরে কাকু আর একটা ভাই মিলে আগুন ধরানোর বন্দোবস্ত করেছিল। যাতে ঘরটা একটু গরম হয়। আমাদের কাজ ও তাড়াতাড়ি এগোবে। এইরকম অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল আমরা ঠান্ডার দেশে রয়েছি। শুনেছি বরফের দেশের মানুষ জনরা ঘরে সব সময় আগুন জেলে আগুন পোহায় ।আমাদেরও সেই রকমই অবস্থা হয়েছিল। সাথে ছিল গরম গরম চা। একদিকে সকলে বসে আগুন পোহাচ্ছেন ।এদিকে কাকিমা গরম গরম চা করে দিয়েছিল তখনই সবার মনে হল একটু মুড়ি মাখানো হলে ভালো হয়।
তাই সাথে সাথে কাকিমা সমস্ত রকম জিনিসপত্র দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে নিয়ে চলে এসেছিল। শীতকালে ঘরে যে কোন সবজির অভাব হয় না। সব সময়ই সমস্ত রকম সবজি আনা থাকে। তাই সেদিনের শীতের সন্ধ্যেটা গরম গরম চা আর ঝাল মুড়ি মাখিয়ে সুন্দর সময় সকলের সাথে কাটিয়েছিলাম । তবে একদিন যে শুধু ঠান্ডা পড়ছে এমনটা নয় এখন প্রত্যেকদিন প্রচন্ড পরিমাণে ঠান্ডা পড়েছে। আমাদের কৃষ্ণনগরের মানুষ জন শুরু করে দিয়েছে আগুন পোহানো। আগুন পোহাতে গিয়ে সকলে মিলে একসাথে গল্প, আড্ডা, মজা, হাসি, ঠাট্টা সমস্ত কিছু লেগেই থাকে। শীতের সন্ধ্যায় সকলে একসাথে কাটাতে খুব ভালো লাগে।
আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


