নবদ্বীপ থেকে শিবনিবাসের পথে ভক্তরা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত দুদিন ধরে আপনাদের মাঝে নবদ্বীপের স্নানযাত্রার কিছু মুহূর্ত শেয়ার করছিলাম ।আসলে শ্রাবণ মাসের এই শেষ সোমবারের দিনকে সত্যিই আমাদের বাঙ্গালীদের মধ্যে একটা আবেগ কাজ করে। চোখে না দেখলে হয়তো বোঝা যাবে না। এতদিন আমি দূর থেকে দাঁড়িয়ে সমস্তটাই উপভোগ করতাম।কিন্তু এবার নিজে স্বচক্ষে সমস্ত কিছু দেখে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছিল। হয়তো আমাদের এই বাঙালিরা বলেই এত কিছু উদ্যোগ নিয়ে করতে পারে। কাঁধে বাঁক নিয়ে কেউ ২ লিটার কেউ বা ১০ লিটার আবার কেউ এর থেকে বেশি পরিমাণে গঙ্গা জল নিয়ে ভিজে জামা কাপড়ে প্রায় 40 থেকে 45 কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। তাতে আবার কেউ পছন্দ মতো বাঁক টাকে সুন্দর করে সাজায়। কেউ আবার বড় বড় জলের ঘড়া গুলো দুই পাশে নেই কেউ তিনটে ঘড়া এক একটা ঘড়ার ওজন আমরা আশা করি জল ভরলে কত হবে আমরা সকলেই জানি। সেটাকে একটা বাকের সাহায্যে অতটা রাস্তা অতিক্রম করে যাওয়া সত্যিই খুবই কষ্টের ব্যাপার। কথায় আছে ভক্তের ভক্তির জোর থাকলে সমস্ত কিছুই সম্ভব।
আবার কেউ কেউ তার সন্তানকে একদিকে বাঁকে ঝুড়িতে বসিয়ে অন্যদিকে সেই ওজনেরই জল নিয়ে বয়ে চলেছে। সত্যিই সন্তানগুলো ভাগ্যবতী। কাঁধে করে ওইভাবে অতটা রাস্তা অতিক্রম করে ভিড় ঠেলে নিয়ে যাওয়া খুব একটা সহজ নয়। কেউ আবার গাড়ি গাড়ি করেছে সেখানে যে যার মত জল তুলে গাড়িটাকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে। এক এক ভক্তদের একেক কীর্তি দেখে সত্যিই আশ্চর্য লাগছিল। মহাদেবের অগুনতি ভক্ত যেন সারা দেশ জুড়েই রয়েছে। তবে এই শিব নিবাসের সময় নিজে চোখে না দেখলে বোঝা যায় না। মহাদেবের ভক্তদের এত অক্লান্ত পরিশ্রম। তবে সবসময় চাই এত পরিশ্রম করে মহাদেবের দোর পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে সমস্ত ভক্তরা ছোট থেকে বৃদ্ধ সকলেই অটুট মনের জোর নিয়ে চলছে একনাগারে হাঁটতে হাঁটতে মহাদেবের কাছে।
মহাদেব যেন সকলেরই মনস্কামনা পূর্ণ করে। এদিকে আবার সমস্ত ভক্তদের যাতে কোন কষ্ট না হয়, প্রত্যেক জায়গাতে খিচুড়ি, আলুর দম , পায়েস মিষ্টি বিভিন্ন রকমের শরবত এছাড়া কোলড্রিংস থেকে শুরু করে সমস্ত খাবার ভক্তদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে রাস্তায়। সকলকে জল দেওয়ার জন্য সকলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া ওষুধ থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুরই পরিষেবা রয়েছে।। মানুষ সারা রাস্তায় পরিসেবা পেতে পেতে চলেছে। তবুও এতটা হাটার পরিশ্রম সত্যিই যেন সমস্ত কিছুকে হার মানিয়ে তারা একনাগাড়ে চলেছে। তবে আমার এই প্রথমবার বলে ভীষণ কষ্ট হয়েছে। তবে ভগবানের নাম নিয়ে বেরিয়ে ছিলাম মহাদেব সমস্ত কিছু থেকে আমাকে উদ্ধার করেছে।কিন্তু মহাদেবের অশেষ কৃপা যে আমাকে বাড়ির দৌড় পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।
সত্যিই মহাদেবের আশীর্বাদ না থাকলে হয়তো আমি একদমই পারতাম না। কারণ আমার এইভাবে হাঁটার অভ্যাস কোন দিনই ছিল না। আর রাস্তায় বেরোলেই রোদ গরমে প্রচন্ড শরীর খারাপ করত। সকালের দিকে শরীর খারাপ করলেও হাঁটতে হাঁটতে কিন্তু কোন শরীর খারাপ হয়নি। তাতে আবার বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে রওনা দিয়েছিলাম। আকাশে ছিল ঘন কালো মেঘ । সময়ে আবার কোথাও বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছিল। তবুও যেন তারা ছিল মহাদেবের নাম করে বাড়িতে ফেরার। মনের জোর না থাকলে এসব একেবারেই সম্ভব নয়। তবে আমাদের এখানে সকলেই নবদ্বীপ থেকে জল নিয়ে এসে খানিকক্ষণ রেস্ট নিয়ে আবার সন্ধ্যাবেলার দিকে রওনা দেয় শিবনিবাসের উদ্দেশ্যে। এ যেন এক বিশেষ উৎসব চোখে না দেখলে কিছুই বোঝা যাবে না।
ছোট থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভক্তদের দেখেছি। কিন্তু এ বছরেই আমি নিজেই এক ভক্ত হয়েছিলাম। রাস্তাতে আসতে আসতে পায়ে ভীষণ ব্যথা করছিল। তাই অনেকেই পায়ে ভলিনি স্প্রে করে দিয়েছিল। কিন্তু বাড়ির দোরগোড়ায় এসে আমি একেবারেই আসতে পারছিলাম না। তবুও ভীষণ কষ্ট করে মহাদেবের কাজ পর্যন্ত এসেছিলাম। যাই হোক আমরা আর শিবনিবাসে যায়নি। নবদ্বীপ থেকে আনা জল বাড়িতে রেখে দিয়েছিলাম। সেটাই পরের দিন মহাদেবের মাথায় ঢালবো বলে। আসলে এ বছরে আমি কি কারনে গিয়েছিলাম সেটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়নি। পরের পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। নীচের ছবি তিনটি সোস্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




TEAM 5
Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.Thank you 🙏