শ্বশুর বাড়ির কাছে একটি মন্দিরের পৌরাণিক কাহিনী
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে একটি মন্দিরের পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের মাঝে তুলে ধরবো। আমরা যেখানেই বসবাস করি না কেন প্রত্যেকটা জায়গাতেই কোনো না কোনো মন্দির রয়েছে। তবে সেই মন্দিরের পেছনেও বহু অতীত লুকিয়ে থাকে। কিছু অতীতের গল্প হয়তো আমরা জেনে থাকবো আবার কিছু অতীতের গল্প একদমই অজানা। বহু বছর ধরে এইরকম বহু কাহিনী আমরা শুনে আসছি। আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষ্ণনগরেই বড় হয়েছি। তবে আমার মামার বাড়ির সামনে রয়েছে একটি শিব মন্দির। তারও এক বিশাল কাহিনী রয়েছে। যে কথা আমি অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব। তবে আমার শ্বশুরবাড়ি কাছে একটি কেষ্ট রায় মন্দির রয়েছে। সেখানে কৃষ্ণের পূজা অর্চনা হয়। অনেকে আবার গোপাল বলে ডাকে।যার যে নাম ভালো লাগে।সেই মন্দিরের কিছু পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
অনেকের কাছে এইসব জিনিস গল্প হতে পারে। কিন্তু এগুলো একদমই সত্য ঘটনা। হয়তো আমরা নিজের চোখে দেখিনি। কিন্তু কানে শোনা কাহিনী ।এই কাহিনী পুরোটাই সত্য। কৃষ্ণনগর থেকে আমার বাপের বাড়ি করিমপুর। তার মাঝামাঝি জায়গাতেই আমার শশুর বাড়ি। শশুর বাড়ির কিছুটা দূরেই রয়েছে কেষ্ট রাই নামে একটি মন্দির।ওখানে আমার বর শাশুড়ি মা মন্দিরের সামনে একটি বাড়িতে অনেক বছর ভাড়া ছিল ।বরের পড়াশোনার সুবিধার জন্য এমনকি শ্বশুর মশাইয়ের অফিস ও খুব কাছাকাছি ছিল। মন্দিরটি ছিল একেবারেই বাড়ির সামনে। অন্যান্য পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের আগেও জানিয়েছিলাম আমার বর ভীষণই ঠাকুর ভক্ত। তাই প্রত্যেকদিন সন্ধ্যাবেলা হলে ও চলে যেত কেষ্ট রাই মন্দিরে সন্ধ্যা আরতি দেখার জন্য। তবে এখন যেটা বলবো সেটা হল কিভাবে মন্দিরটি ওখানে স্থাপন করা হয়েছিল।
এটা বেশ কিছু বছর আগের ঘটনা। এক ব্রাহ্মণ প্রত্যেক মন্দিরে মন্দিরে পূজা করে বেড়াতেন। উনি হঠাৎ একদিন স্বপ্ন দেখেন ওনাকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিল ছোট্ট এক গোপাল।স্বপ্নে বলেছিল আমি এক জায়গাতে বন্দী অবস্থাতে রয়েছি। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ।তুই আমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যা। আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে।তখন ঠাকুরমশাই স্বপ্নের মধ্যেই বলেছিল আমি তো ভীষণ গরিব। আমি তোমাকে নিয়ে এসে কি খাওয়াবো ।সেই কথা শুনে বলেছিল আমাকে কিছু খেতে দিতে হবে না। তুই শুধু এক গ্লাস জল আর একটা তুলসী পাতা দিলে আমি সন্তুষ্ট থাকবো। ঠাকুর মশাই ভগবানের দেওয়া স্বপ্ন দেখে সে নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি। রাতের বেলায় ঘুম ভাঙ্গার পর দিনের আলো ফোটার আশায় ছিলেন।পরের দিন সে ছুটতে ছুটতে সকালবেলায় থানায় গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। আসলে ওই মূর্তিটি ছিল চুরি করা তাই থানার এক কোনায় পড়েছিল।
থানাতে গিয়ে সমস্ত ঘটনা পুলিশ কে জানিয়েছিল। পুলিশরা তো কিছুতেই বিশ্বাস করছিল না। ঠাকুর মশাই কে বাইরে রেখে রীতিমতো জেলের ভিতর সমস্ত কিছু ওলট পালট করে পুলিশ গুলো খুঁজতে শুরু করেছিল। কিন্তু ওরা কেউ খুঁজে পায়নি। শেষে ঠাকুর মশাই কে বকাবকি করেছিল । ভুলভাল খবর এনে ওদের এতটা মূল্যবান সময় নষ্ট করবার জন্য। পুলিশের বকা খেয়ে ঠাকুরমশাই ভয়ে ভয়ে আবারো বাড়িতে চলে গিয়েছিল। এরপর রাতের বেলায় আবারও সেই স্বপ্ন। স্বপ্নের মধ্যে আবারো উনি স্বপ্নাদেশ দিচ্ছেন যে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তুই কেন আমাকে নিয়ে আসলি না। তখন ঠাকুর মশাই স্বপ্নের মধ্যেই বলেছিল ওরা তো অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিল। তবুও তো তোমাকে পেলো না। তখন স্বয়ং কেষ্ট রাই বলেছিল তুই নিজে আমাকে খুঁজবি তাহলেই পাবি। আসলে চোর ডাকাত অনেক কিছুই চুরি করে সেগুলো পুলিশে পেলে গুদাম ঘরে এক কোণে ফেলে রেখে দেয়। শুধু সোনা গয়না বলে না যে কোন পাথরের মূর্তি চোরেরা চুরি করে নিয়ে চলে যায়। সেই রকমই এক বহু যুগের মূর্তি থানায় বহুদিন ধরেই নাকি পড়েছিল।
যাইহোক ঠাকুরমশাই পরদিন সকাল বেলায় আবারও থানায় গিয়ে হাজির। আবারো পুলিশদের একই কথা বলছিল। কিন্তু পুলিশরা সকলেই বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। শেষে ওদের থানার ষ্টোর রুম ঠাকুর মশাই কে ছেড়ে দিয়েছিল। ঠাকুর মশাইকে আগেই স্বপ্ন দিয়েছিল যে আমি এক বাস্কে কোণে পড়ে আছি, ঠাকুর মশাই সেইমতো সমস্ত জিনিসপত্র ছড়িয়ে শুধু বাস্ক খুঁজে চলেছিল। খুঁজতে খুঁজতে এক সিন্দুকের মধ্যে এক কোণে পড়ে রয়েছে কেষ্ট রাই এর একটি মূর্তি। সেখান থেকে ঠাকুর মশাই সযত্নে মূর্তিটিকে বের করেছিল। বের করার পর পুলিশরাও সকলে অবাক হয়ে গিয়েছিল। ওখানকার যে বড় বাবু ছিল সে দায়িত্ব নিয়ে একটি মন্দির স্থাপন করে দিয়েছিল। এরপর ওখানে ওর মূর্তিটি কেষ্ট রাই মন্দির হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
এখন বহু ভক্তের আনাগোনা রয়েছে।ওই মন্দিরে এ ছাড়া প্রত্যেক বছরেই বাৎসরিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই হয়। এখন ওই ঠাকুর মশাই এর ছেলে আমার শাশুড়ি গুরুদেব পাতিয়েছেন। মাঝেমধ্যে উনি আমাদের বাড়িতে এসে থাকেন। উনার মুখ থেকেই সমস্ত ঘটনা শোনা। তবে ওই মন্দিরে আমার এখনো যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি।যাই হোক আমার এই মন্দিরের গল্পটি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আমার তো এই রকম পৌরাণিক গল্প শুনতে বেশ ভালোই লাগে। এখানে অন্য গোপালের ছবি ব্যবহার করেছি।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏