গঙ্গা পুজোর মেলা দেখতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বাঙ্গালীদের বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। তারই মধ্যে একটি পুজো হলো গঙ্গা পূজা। এই পুজো কমবেশি সমস্ত বাঙ্গালীদের মধ্যে থাকে। তবেই এই পুজোর অনেক নিয়মাবলী রয়েছে। সকলকেই মোটামুটি পালন করে থাকে। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই বাপের বাড়ি রয়েছি, তবে সেই সব কোনো মুহূর্ত আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করিনি। সব বোনেরা এক জায়গায় হলে অনেক আনন্দ মজা করতে করতেই সময় গুলো পার হয়ে যায়। আজকে নয় কালকে। কালকে কালকে নয় পরশু। এভাবেই বাড়ি না যাওয়ার বাহানা শুরু হয়ে যায়। আজকে বাড়ি যাবার কথা ছিল। কিন্তু সব বোনেরা মিলে আজকে চলে গিয়েছিলাম বাড়ির কাছাকাছি এক জায়গাতে গঙ্গা পুজোর মেলা দেখতে। এর আগে কখনো এইরকম কোন মেলাতে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। বোনেরাও বায়না করল তাই আমিও আর না করতে পারিনি।
দুপুর বেলায় সকলেই তাড়াতাড়ি স্নান করে রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় অনেকটা দূরেই টোটো করে যেতে হয়। বিকেল পাঁচটা নাগাদ চার বোন আর পাশের বাড়ি আর একটা বোন বোনের মেয়ে ছোটবোনের বর এই কয়েকজন মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম গঙ্গা পুজোর মেলা দেখতে যাব বলে। টোটো থেকে অনেকটা দূরেই নামিয়ে দিয়েছিল। আসলে ভেতর দিকে টোটো যাতায়াতের কোন বন্দোবস্ত নেই ।তাই আমাদের হেঁটে হেঁটে যেতে হয়েছিল। পুরো একটা বাগানের মধ্যে দিয়ে আমরা সকলে হেঁটে গিয়েছিলাম প্রথমে ভাবছিলাম এত বাগানের মধ্যে কারা বসবাস করে। খানিকটা যেতেই চোখে পড়ল বেশ কিছু মানুষের বসবাস ।আরো খানিকটা এগিয়ে গিয়ে চারিদিকে ছোট ছোট বিলের মতো জলাশয়। গ্ৰামের দিকে চারিদিকে বিলের মতো জলাশয় চোখে পড়ে।সেখানে সকলেই মাছ চাষ করে। কেউ কেউ আবার পদ্ম ফুল চাষ করে। এইরকম পরিবেশ দূর্দান্ত লাগে।
ওখানে খানিকটা জায়গা নিয়ে মা গঙ্গার পূজা করা হয় ।অনেকটা বড় এরিয়ার চারিপাশে রয়েছে অশ্বত্থ গাছ। আর চারিপাশে ছোট ছোট বিল।সেই বিল এর মাঝখানের পাড় দিয়ে মানুষের যাতায়াত ।প্রচুর মানুষের ভিড় হয়েছিল। ওখানে প্রত্যেক বছরই ওই একই দিনে সকলকে খিচুড়ি খাওয়ানো হয়। আমরাও প্রথমে গিয়ে সকলে খিচুড়ি খেয়ে নিয়েছিলাম। আজকে বাড়িতেও সেই রকম কিছু রান্না বান্না হয়নি। আসলে এই পুজোর দিন আমাদের বাড়িতে ঠান্ডা ভাত, সারাদিন উনুন ধরানোর বন্দোবস্ত থাকে না।তাই সকলকেই চিড়ে, মুড়ি খেয়ে কাটিয়ে দিতে হয়। এরপর দেখলাম চারিধারে ছোটখাটো মেলা বসেছিল। সারাদিন ভ্যাপসা গরম ছিল।তবে ফাঁকা জায়গাতে গরমের মধ্যে একটু হলেও আরাম লাগছিল।
প্রথমে গিয়ে খিচুড়ি খাওয়া হয়ে গেলে সকলে মিলে একটু ছবি তুলে নিয়েছিলাম। এরপর গ্রামের চারিপাশে সবুজ প্রকৃতি দেখতে সত্যি সুন্দর লাগে। তাই চারপাশে। একটু ঘোরাঘুরি করে নিয়েছিলাম। পদ্ম পুকুরে পদ্মের পাতা তুলে পদ্মের পাতা করে খিচুড়ি খেয়ে নিয়েছিলাম। পদ্মের পাতায় খিচুড়ি খেতে ভালোই লাগে।চারিদিকে বিলের আশেপাশে একটু ঘোরাঘুরি করেছিলাম। এরপর মেলা থেকে সকলে টুকটাক কিছু পছন্দের মত খাবার খেয়ে আবারো বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। আসলে সন্ধ্যা সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। ওখানেও চারিধারে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তবে অন্ধকার হলে ও বহু মানুষের ভিড় ছিল।তাই ওর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করিনি। বাড়ির জন্য খিচুড়ি আনার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু খিচুড়ি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। আজকে বিকেলটা সব বোনেরা মিলে প্রচন্ড আনন্দ করে কেটে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তই আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারও অন্য কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।





Thank you 🙏