গঙ্গা স্নান করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি

in Incredible India2 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260816071313.jpg

আমি ছোটবেলা থেকেই মহাদেবের বিষন্ন ভক্ত। বাড়ির কাছেই ছিল শিব মন্দির তাই ছোট থেকেই মন্দিরের সমস্ত কাজকর্ম করতে ভীষণ ভালো বাসতাম। তবে বিয়ের পর থেকে ভীষণ কুঁড়ে হয়ে গিয়েছি। বাড়ির কাছে মন্দির থাকা সত্ত্বেও একবারের জন্য মহাদেবের সামনে গিয়ে হাজির হয় না। কিন্তু কোন বিপদে পড়লে আমি উনাকেই স্মরণ করি। কিন্তু সমস্ত বিপদ থেকে কিন্তু আমাকে উনি উদ্ধার করে। সেদিন নৌকা পার হয়ে গিয়ে নদীর ধারে ভিড় ঠেলে একে একে দুজনে মিলে স্নান করে নিয়েছিলাম। মাসি যেহেতু কাঁধে বাঁক নিয়ে গিয়েছিল। তাই ওনার বাঁক বাধতে অনেকটাই দেরি হয়েছিল। আমি তো শুধুমাত্র একটা জলের জার নিয়েছিলাম। জল টেনে আনতেও ভীষণ কষ্ট। গঙ্গা স্নান করতে যাওয়ার কথা যে কেউ শুনলেই আগেই হাতে একটা জলের জার ধরিয়ে দেয়। ঠিক তেমনি আমার শাশুড়ি মা ও দুটো জার ধরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু জার টেনে নিয়ে আনতে খুব কষ্ট হয়েছিল।

IMG20260816071300.jpg

এদিকে আবার নৌকা পার হতে হবে অনেকটা হেঁটে তবে নৌকা পার হতে হয়েছিল। আবারো টিকিট কেটে নৌকায় উঠে পড়েছিলাম। কিন্তু সকাল থেকেই শরীরটা ভীষণ খারাপ করছিল। রাতে ঠিকঠাক ঘুম হয়নি ।তাই গ্যাস হয়ে গিয়েছিল। আমি তো প্রথম থেকেই মাসি গিয়ে বলছিলাম আমাকে কিছু খেতে হবে ।কারণ খালি পেটে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আসলে জল আনতে যাওয়ার সময় সকলে নিরামিষ খাবার খেয়ে যাই ।আবার আসার সময়তেও সকলে খেতে খেতে আসে। সেদিনকে নাকি খাবার খেতে কোন অসুবিধা নেই। এদিকে নৌকায় উঠে শরীরটা যেন আরো অস্বস্তি করছিল। কারণ কিছু কিছু ছেলে smoking করছিল। সেটাতেই আমার শরীর আরো খারাপ করে উঠেছিল। আমি এইসব একেবারে সহ্য করতে পারি না।যাইহোক কোনমতে নৌকো থেকে নেমে বমি হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।

IMG20260816072752.jpg

আমি তো মনে মনে ভাবছিলাম এই বুঝি আর হাঁটতে পারবোনা। কারণ আমাকেও হয়তো টোটো করেই বাড়ি ফিরতে হবে। দু-তিন বার বমি করার পর শরীরটা একটু হলেও ভালো লেগেছিল। জলের জার গুলো টোটো করে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এদিকে আমি দোকান থেকে একটা বিস্কুট কিনে খিদে মেটানোর জন্য খেয়েছিলাম। এরপর তো সোজা রাস্তা হাঁটার পালা । মাসি কাঁধে বাঁক নিয়েছিল আর আমি পিঠে জলের জারটা নিয়ে দুজনেই হাঁটতে শুরু করেছিলাম। তবে আমি মাসিকে বলেছিলাম আমি যদি হাঁটতে না পারি তাহলে আমাকে একটা টোটো তে তুলে দিতে। আমি বাড়ি চলে আসব। কারণ আমার একদমই অভ্যাস নেই । মাসি প্রায় দশ বছর ধরে একনাগারে নবদ্বীপ থেকে জল নিয়ে আসে।

আমরা নবদ্বীপ থেকে জল নিয়ে এসে বাড়ির সামনেই শিব মন্দিরে জল ঢালব। কিন্তু আর সকলে নবদ্বীপ থেকে জল নিয়ে এসে শিব নিবাসে জল দিতে যায়। শিবনিবাসে রয়েছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। ওই বিরাট শিবলিঙ্গের মাথায় সবাই ছোটে, জল দেবার জন্য। তবে এই দিনে সমস্ত প্রশাসন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে মানুষজন সমস্ত ভক্তদের সব রকম সাহায্য হাত বাড়িয়ে দেয়। যাই হোক খানিকটা রাস্তা আস্তে আস্তে শুরু হলো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হওয়াতে আরো ভালো হয়েছিল। কারণ রোদের তাপে রাস্তায় হাঁটা মুশকিল তাই ভিজে ভিজে আসা খুবই ভালো হয়েছিল। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দুজনেই আমাদের গন্তব্যের দিকে ছুটছিলাম। আর বারবার মনে হচ্ছিল আর কতদূর। মাসি যেহেতু অনেকবার যাওয়া, তাই মাসি সমস্ত রাস্তায় চেনে। কিন্তু আমার বারবার মনে হচ্ছিল আর কতখানি গেলে আমি বাড়ি পৌঁছাব।

সব থেকে মজার বিষয় হলো একেক ভক্ত একই রকম ভাবে কাঁধে বাঁক নিয়ে ছুটছে। এগুলো নিজের চোখে না দেখলে একেবারেই বোঝা যাবে না। তবে এখন সকলেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবকিছুই দেখতে পাই। তবে সমস্ত ভক্তদের কাঁধে বাঁক নিয়ে যাওয়ার কিছুটা অংশ আমি পরের পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।


আজ এইখানে শেষ করলাম ।আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হচ্ছি আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

TEAM 5

Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.

1000093595.png

Curated by : @ wirngo
 yesterday 

Thank you 🙏