বিশেষ দিনে বিশেষ মানুষের সাথে কাটানো দুপুর
নমস্কার ,বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত তিনদিন ধরে আপনাদের মাঝে কোন পোস্ট শেয়ার করা হয়নি । আজকে টাইটেল দেখে আপনারা বুঝতেই পেরেছেন কি শেয়ার করতে চলেছি। গত ৩০ শে মে ছিল আমার জন্মদিন। বয়সের সংখ্যাটা আরো একটা বছর বেড়ে গেল। বছর যেন জলের মতো পার হয়ে যাচ্ছে।আর দিন দিন বয়সের সংখ্যাটা আরো বেড়ে চলেছে। বয়স একটা সংখ্যা মাত্র। তবে এখন ও পর্যন্ত দিদা, মা, বাবা, মামাদের কাছে সেই ছোট্ট টি হয়ে রয়েছি।যাই হোক প্রত্যেক বছরই ওই দিনটি আমার ভীষণ আনন্দে কাটে। আমি বাড়ির বড় মেয়ে।মা বাবার প্রথম সন্তান। ওদের বিয়ের পর ওই দিনে আমার মা প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছিল। আমি সকলের কাছেই ভীষণ আদরের ।বাবা আমার জন্মের আগে বিদেশে কাজ করতেন। তখন এত ফোনে প্রচলন ছিল না। আমার মাকে দিদার কাছে রেখে আবার চলে গিয়েছিলেন বিদেশে কাজ করতে। কিন্তু সময় মতো ফিরে এসেছিল এসে মেয়ে হওয়ার খবর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিল। প্রথম সন্তান তাও আবার কন্যা সন্তান। মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসতেন। এখনো অবশ্য এক ফোঁটাও কমতি নেই। চারটে মেয়ে বলে কখনো কেউ অবহেলা করেননি।
বাড়ির বড় মেয়ে আর ছোট মেয়ের আদর একটু বেশি হয়, আমি যেহেতু দুই তরফ থেকেই বড় ।তাই সব থেকে আদর আমারই বেশি। মেয়ে হওয়ার আনন্দে বিদেশ থেকে যত টাকা রোজগার করে নিয়ে এসে ছিলেন সমস্তটা তার মেয়ের নামে ব্যাংকে রেখে দিয়েছিলেন ।কারণ মেয়ে হলেই প্রত্যেক বাবা যেমন খুশি হয়। ঠিক তেমনি বাবাদের আগেই চিন্তা করতে হয়।কন্যা সন্তান হলেই মেয়ের বিয়ে দিতে হবে তার জন্য প্রচুর টাকা খরচ। তাই তখন থেকেই বাবা আমার জন্য নিজের সবটুকু রোজগার রেখে দিয়েছিল। যাইহোক প্রত্যেক বছরের মতো এবছর একটু অন্যরকমই কেটেছিল। তাদের সেই ছোট্ট মেয়েটা আজ অন্য বাড়িতে সংসার করতে ব্যস্ত। এখন প্রত্যেকটা দিন প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কেটে যাচ্ছে। ব্যস্ততার কারণ অবশ্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়নি। সুযোগ পেলে শেয়ার করে নেব।
আমাদের বাড়িতে প্রত্যেকের জন্মদিনের আগে থেকেই দিদা ব্যস্ত হয়ে পড়ে ।আমার জন্মদিনের আগে দিদাকে মামার মেয়ে মনে করিয়ে দিয়েছিল।এ বছরে শ্বশুরবাড়িতে কিছুই আয়োজন করা হয়নি। দিদার সাধ্যমত আয়োজন করেছিল। শ্বশুরবাড়ি থেকে দুপুর বেলায় রেডি হয়ে গিয়েছিলাম দিদার কাছে খাওয়া-দাওয়া করবার জন্য। দিদা বয়স্ক মানুষ যতটুকু পারে সমস্ত কিছু আয়োজন করে রেখেছিল। আমার শ্বশুর বাড়িতে শনিবার পালন করা হয়। তাই শ্বশুরবাড়িতে সেভাবে আয়োজন এর কোন উদ্যোগ ছিল না। প্রত্যেকটা বাঙালি পরিবারে যেমন পাঁচ রকম ভাজা ,মাছ ,মাংস সমস্ত কিছু রান্না করে দেয় দিদা ও ঠিক প্রত্যেক বছর বিভিন্ন রকমের পদ রান্না করে সাজিয়ে গুজিয়ে খেতে দেয়। সবথেকে আসল জিনিস হল জন্মদিনের দিদার হাতের পায়েস রান্না।
যাইহোক আমি যাওয়ার সাথে সাথেই দিদা মামি কে বলেছিল তুমি সমস্ত কিছু নিজের হাতে সাজিয়ে দাও। মামী ও সমস্ত কিছু সাজিয়ে দিয়েছিল। এরপর দিদা ধান ,দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেছিল। এরপর আমি সমস্ত কিছু খাওয়া শুরু করেছিলাম। তবে প্রত্যেক বছরের মত এ বছরটা একেবারেই অন্যরকম ছিল। দিদার হাতে সমস্ত রান্নাবান্না খেয়ে আমি আবারও বাড়ি চলে এসেছিলাম। কারণ আমার বাড়িতে চলছিল কিছু কাজকর্ম ।সেগুলো দেখাশোনা করবার জন্যই আমাকে সাথে সাথে ফিরে আসতে হয়েছিল। এদিকে শনিবার তাই আমার বর বারবার বাইরে নিয়ে গিয়ে কিছু অ্যারেঞ্জ করার কথা বলেছিল। কিন্তু আমি আপত্তি করার জন্য আর জোর করেনি। যাইহোক একটা বছরের এ বিশেষ দিনটি আমি আমার বিশেষ মানুষের সাথে কাটানোর চেষ্টা করি। যাতে উনিও ভীষণ আনন্দ পাই ।আর আমারও ভীষণ ভালো লাগে। জন্মদিনের দুপুর বেলাটা আমি দিদার সাথে কাটিয়ে খুব ভালো লেগেছিল। সেই সুন্দর মুহূর্তই আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏