বোনের বিয়েতে যাবার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
সেদিন বাড়িতে আংটি কিনে নিয়ে আসার পর গাড়ি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। এদিকে আমার বর যেখানেই যাবে সেখানে লেট করবে। তার সময় জ্ঞান ক্ষমতা একেবারেই কম। আজ পর্যন্ত কোথাও কোনদিন সময়ে পৌঁছাতে পারে না। যাই হোক বাড়িতে ঢোকা মাত্রই খানিকক্ষণ পর আমি, বড় মামা, মেজ মামা ,বড় মামার মেয়ে আর আমার বর এই কজন মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম দেব গ্রামের উদ্দেশ্যে।আমাদের বাড়ি থেকে প্রায়ই ৬০ কিলোমিটারের রাস্তা। আমরা বেরিয়ে ছিলাম তখন দুপুর ১:৩০ মিনিট। কথা হয়েছিল দেবগ্ৰামের ওখানে এক মন্দির আছে ওই মন্দির থেকেই নাকি বিয়ে দেওয়া হবে। সব কিছুই ছেলের বাড়ি থেকে ঠিক করা। যাই হোক বাড়ি থেকে অনেকটা পথ। বাইরে কাঠ ফাটা রোদ। গাড়ি করে যেতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লাগে।
তবে এভাবে বিয়ে দেওয়া আমাদের কারোরই মত ছিল না। সব কিছুই আমাদেরও অমতে হয়েছিল ।আর মনে মনে ভাবছিলাম যে জানিনা বোনের ভাগ্যে কি লেখা আছে ।আসলে ভাগ্যে যেটা লেখা থাকবে সেটা তাকে খন্ডাতে হবে। আমরা মনে মনে ভেবে দুশ্চিন্তা করে কোন কিছুই করতে পারবো না। এছাড়াও গাড়ির মধ্যে অনেক কিছুই ভাবতে ভাবতে চলছিলাম। মন্দিরে বিয়ে দেখার অভিজ্ঞতা এর আগে কখনো হয়নি। এই প্রথমবার নিজের বোনের বিয়ে মন্দিরে দেখবো। একটা এক্সাইটেড ব্যাপার ছিল। আমরা যে কজন যাচ্ছিলাম প্রত্যেকেই রাগ কারণ সকলেই ভেবেছিল বিয়েটা একটু দেরিতে হোক আনন্দ করতে পারব। আমরা মন্দিরটা যেহেতু চিনি না তাই রাস্তা সকলকে জিজ্ঞেস করতে করতে অনেকটা পথ চলে গিয়েছিলাম।
শেষে বাধ্য হয়ে এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তখন আশেপাশের লোকজন কে ভালো করে জিজ্ঞেস করেছিলাম তখন সেই লোক আমাদের মন্দিরটা দেখানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। তখনই দেখি পিছনে ছেলের বাড়ি থেকে ছেলের, দাদা, বৌদি আরো কয়েকজন পেছনের গাড়িতেই রয়েছে। তাই আমরা আবার নিজেদের গাড়িটা ব্যাক করে তাদের পিছনে পিছনে ছুটলাম। আমরা যখন মন্দিরে পৌছেছিলাম তখন বাজে পৌনে তিনটে, তখনও আমার মা এসে পৌঁছায়নি। কারণ সকালবেলায় মা বোনকে আইবুড়ো ভাত রান্না করে দিয়েছিল ।এদিকে বোন একটু পার্লার থেকে সাজগোজ করবে ।একটু দেরি তো হবেই। দেরি হচ্ছে দেখে মামা ভীষণ রাগ করছিল ।কারণ সময়ে পৌঁছানোর ব্যাপারটা ভীষণ জরুরী। বাঙালিরা কোনদিনই সময়ের পৌঁছাতেও পারে না। সময়ের কাজ সময়ে করতেই পারেনা।
আমরা খানিকক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পর মা বোন পাশের বাড়ির দাদা বৌদি আমার ছোট বোন এছাড়াও আরো কয়েকজন এসেছিল আমাদের বাপের বাড়ির কাছে থেকে।মানে আমাদের তরফ থেকে। তারা আসামাত্রই আমরা সকলেই মিলে সেই মন্দিরের পথে রওনা দিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে শুনেছিলাম ছেলের বাড়িতে থেকে ঠাকুর মশাই, রেজিস্ট্রার সমস্ত কিছুই রেডি করে রাখবে। কিন্তু আমরা দেরিতে পৌঁছানোর কারণে সবাই চলে গিয়েছিল। পরের মূহুর্ত অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজিয়ে তব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


