সরস্বতী পুজোর প্রথম দিনের কাটানো মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
সকলকে সরস্বতী পুজোর অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টটি শুরু করছি। আশা করছি সরস্বতী পুজো সকলেরই খুব ভালো কেটেছে। ছোট থেকেই সরস্বতী পুজো নিয়ে অনেক আনন্দ পেতাম। ছোটবেলায় অনেকদিন আগে থেকেই মা কিংবা দিদার কোন শাড়িটা পড়বো সেটা ভাবতে শুরু করতাম। তখনকার দিনে ছোট ছোট আনন্দ গুলোই ছিল জীবনে সেরা আনন্দ ছিল। ছোটবেলায় সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠেই কাঁচা হলুদ মেখে সকালে ঠান্ডা জলে স্নান সেরে নিতাম। যার বাড়িতে আগে পুজো হবে তার বাড়িতেই অঞ্জলি দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। সেটা হোক চেনাজানা বাড়ি কিংবা অচেনা বাড়ি। যেখানেই হোক না কেন অঞ্জলি দেওয়া হয়ে যেত। সাথে সরস্বতী ঠাকুরের কাছে যত বই থাকতো সমস্ত বই দেওয়া থাকতো। যাতে দুদিন অন্তত পড়াশোনা থেকে ছুটি থাকে। ছোটবেলায় সরস্বতী পূজো নিয়ে প্রচুর আনন্দ করেছি।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে ।হয়তো যেখানে ছোট করে পুজো হতো সেখানে এখন বিরাট পুজো হয়। এখন দশটা পুজোর জায়গায় হয়তো ৫০০ টা পুজো সারা কৃষ্ণনগর জুড়ে হয়। তবুও যেন আনন্দ উত্তেজনা কোথায় হারিয়ে গেছে। সারাদিনের ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কখন কেটে যায় বুঝতেই পারি না। অঞ্জলি দেওয়া তো দূরের কথা তবে বিগত কয়েক বছর ধরে আমি একেবারেই অঞ্জলি দিতে ভুলে যাই। ছোটবেলায় সরস্বতী পূজা আসার আগে সামনে কুল দেখেও কখনো খাইনি। মনে মনে ভাবতাম কুল খেলে হয়তো পরীক্ষায় ফেল করব । সরস্বতী পুজো হলে তবেই কুল খেতাম। এখনকার দিনে তেমন কোন ব্যাপার নেই।।
তবে সরস্বতী পূজার দিন অঞ্জলি না দিলেও সন্ধ্যা বেলায় বেরিয়ে পড়েছিলাম একটু ঠাকুর দেখবার জন্য। তবে ছোটবেলায় আমরা সমবয়সীরা মিলে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়তাম। তবে সেই আনন্দ এখন আর পাই না ।এখন হয়তো ঠাকুর দেখার সঙ্গী হয়েছে। তবুও আগেকার সেই মুহূর্ত আনন্দ কিছুই খুঁজে পাই না। আসলে প্রত্যেক বছরই আমার বোন আসে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে। তাকে নিয়ে একটু না বেরোলেও হয় না। তাই সন্ধ্যা বেলায় আমি বোন আর মামার মেয়ে তিনজনের রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম আশেপাশে কিছু ঠাকুর দেখবার জন্য। কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের থেকেও বেশি সরস্বতী পুজো হয় ।পায়ে হেঁটে ঠাকুর দেখে শেষ করবার উপায় নেই। তবে এ বছরে দেখলাম জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের দেখার মত মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল সরস্বতী পুজোয়।রাস্তা এপার থেকে ওপারে একদমই যাওয়া যাচ্ছিল না। এত ভিড়ে থেকে বেশিক্ষণ ঘোরাঘুরি করতে পারিনি। কাছে পিঠে বেশ কয়েকটা ঠাকুর দেখে নিয়েছিলাম।
এ বছরে প্রত্যেকটা মণ্ডপের ঠাকুর ভীষণ সুন্দর হয়েছে। জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের মত সারা রাত জেগে মানুষের ঠাকুর দেখার ধুম পড়ে গিয়েছিল ।তবে আমরা বেশি রাত পর্যন্ত একদমই ঘোরাঘুরি করিনি। কারণ সরস্বতী পূজার দিন কে রাতের দিকে বেশ ভালোই ঠান্ডা ছিল। কয়েকটা ঠাকুর দেখে কাছেই একটা ক্যাফেতে তিন জন মিলে একটু চা খেয়ে খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে নিয়েছিলাম। এরপর হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। বাড়ি ফেরার পথে আশেপাশে প্রচুর ঠাকুর হয় সেই ঠাকুর গুলো দেখতে দেখতেই বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম প্রায় রাত দশটা নাগাদ। সরস্বতী পুজোর দিন ছোট থেকে বড় সকলেই শাড়ি পড়ে ঠাকুর দেখার ব্যাপারটা ভীষণ ভালো লাগে।
রাস্তায় বেরোলে ছোট থেকে বড়োরা কি সুন্দর সেজে গুজে ঘুরে বেড়ায় দেখতে ভীষণ মিষ্টি লাগে। বিশেষ করে ছোটদের দেখতে আরো ভালো লাগে। ছোটরা শাড়ি পড়ে হেঁটে হেঁটে বেড়ায় তাদের আনন্দ উত্তেজনা দেখে ভীষণ ভালো লাগে। আজকে প্রথম দিনের সরস্বতী ঠাকুর দেখার সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।





Thank you 🙏