কাঁচা আমের আম পান্না শরবত বানানোর রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
এই বৈশাখ মাসে প্রচন্ড রোদ গরম থেকে বাঁচতে হলে আমাদের প্রত্যেককে বিভিন্ন ধরনের শরবত কিংবা পানীয় খেতে হয়। কীভাবে প্রত্যেক দিন তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে সেটা আমরা সকলে জানি।শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য যে কোন শরবত কিংবা লস্যি খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। যত দিন যাচ্ছে ততই যেন তাপমাত্রার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। কত মানুষ গরমের কারণে বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছে। ঘুম থেকে উঠে বাইরে রোদের তাপ দেখলে বের হতে একেবারে ইচ্ছে করে না। কিন্তু যারা ঘরে থাকেন তাদেরও বিভিন্ন ধরনের শরবত খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। প্রায় মাঝেমধ্যেই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের শরবত তৈরি করা হয়। আগের দিন আপনাদের মাঝে ধরে লস্যি বানানোর পদ্ধতি শেয়ার করে নিয়েছিলাম। তবে এখন আমের সময়। এখন কাঁচা আম সকলের বাড়িতে পাওয়া যাবে। আম দিয়ে বিভিন্ন রকমের শরবত থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু রেসিপি তৈরি করা যায়।
আমের সময় আম খেতে আমরা ভীষণ পছন্দ করি। যে লস্যি হোক আর যে কোন রেসিপি হোক। আজকে এই গরমের দিনে মজাদার কাঁচা আমের আম পান্না বানানোর পদ্ধতি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। আশা করছি সকলেরই ভীষণ কাজে লাগবে। আগের পোস্টটিতে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম আমার বর প্রচন্ড গরমে কাজ করে বাড়ি ফিরলে ওকে বিভিন্ন রকমের ঘরোয়া পদ্ধতিতে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করি। আসলে ও বাইরে কোন খাবারই খেতে চাই না। যতক্ষণে বাড়িতে আসে ততক্ষণে আমি ঘরোয়া পদ্ধতিতে শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য সমস্ত উপকরণ দিয়ে পছন্দ মতো লস্যি শরবত কিংবা যেকোনো খাবার তৈরি করে দিই।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব কাঁচা আমের আম পান্না তৈরি শরবত ।এটি আপনারা একদিন বানিয়ে ফ্রিজে স্টোর করে রাখতে পারেন ।যাতে যখনই কোন অতিথি কিংবা নিজেরাও চট করে এক গ্লাস ঠাণ্ডা জল নিয়ে তার মধ্যে দুই চামচ কাঁচা আমের মিশ্রন দিয়ে খুব সহজেই বানিয়ে নিতে পারবেন কাঁচা আমের আম পান্না। শরীরটা ভালো লাগবে। খেতেও দুর্দান্ত লাগবে। আমরা সকলেই টক ডাল আম দিয়ে । এছাড়াও বিভিন্ন টক জাতীয় জিনিস খাই। সকলে বলে টক জাতীয় জিনিস নাকি গরমের সময় খাওয়া অত্যন্ত জরুরী।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | কাঁচা আম | ৩ টে |
| ২ | চিনি | পরিমাণ মতো |
| ৩ | বিট লবণ | পরিমাণ মতো |
| ৪ | জিরে, গোলমরিচ গুঁড়ো | পরিমাণ মতো |
| ৫ | ঠান্ডা জল | পরিমাণ মতো |
| ৬ | বরফ | পরিমাণ মতো |
প্রথম ধাপ
প্রথমে আমি তিনটে কাঁচা আম নিয়ে নিয়েছিলাম ।কাঁচা আম গুলো ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করে নিয়েছিলাম। আমি এখানে গোটা আম সিদ্ধ করে নিয়েছিলাম । যাতে টক ভাব বেড়িয়ে না যায়।আপনারা চাইলে খোলা ছাড়িয়ে সিদ্ধ করতে পারেন। আমার মনে হয় গোটা আম সিদ্ধ করে নেওয়া ভালো ।সেদ্ধ করে আমি ঠান্ডা করার জন্য একটা পাত্রে রেখে দিয়েছিলাম ।
দ্বিতীয় ধাপে
এরপর ঠাণ্ডা হলে আমগুলো খোসা ছাড়িয়ে একটা চামচের সাহায্যে আমের শাস গুলো একটা বাড়িতে বের করে নিয়েছিলাম। এদিকে গ্যাস অন করে একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছিলাম। কড়াই গরম হলে কড়াইতে কয়েকটা গোলমরিচ আর সামান্য গোটা জিরে ভালো করে ভেজে নিয়েছিলাম ।ভাজা হয়ে গেলে ভালো গুঁড়ো করে রাখবো মসলা হিসাবে ব্যবহার করবার জন্য।
তৃতীয় ধাপে
এরপর ওই পেস্টের মধ্যে পরিমাণ মতো বিট লবণ, চিনি আর ভাঁজা গুঁড়ো দিয়ে একটা মিক্সার গাইন্ডার এর মধ্যে দিয়ে ভালো করে পেস্ট করে নেব ।যাতে সমস্ত উপকরণ খুব ভালোভাবে মিশে যায়।
চতুর্থ ধাপে
এরপর একটা কাঁচের গ্লাস নিয়েছিলাম ।আর গ্লাসের মধ্যে দু চামচ আমের মিশ্রন দিয়ে ছিলাম । আমের মিশ্রন দেওয়ার পরে গ্লাসের মধ্যে পরিমাণ মতো ঠান্ডা জল দিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে নিতে হবে ।চামচ দিয়ে নেড়ে নেওয়ার পর কয়েক টুকরো বরফ দিলেই তৈরি হয়ে যাবে বাড়িতে বানানো কাঁচা আমের আম পান্না শরবত।
গরমের দিনে বাড়িতে এরকম শরবত খেতে আমাদের সকলেরই ভালো লাগে। আমার বাড়ির সকলে তো ভীষণ পছন্দ করে। আমি তো প্রায় দিন বাড়িতে এই রকম ভাবে স্টোর করে রেখে দিই ।যাতে যখন তখন বানিয়ে খেতে পারি ।এমনকি এটা শুধু মুখে আচার হিসেবে আমার খেতে ভালো লাগে। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে। এইরকম চটজলদি শরবত বানাতে বেশিক্ষণ সময় লাগে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বানানো যায় ।রান্নাঘরের মাত্র কয়েকটা উপকরণ দিয়ে এইরকম স্বাস্থ্যকর একটা শরবত বানিয়ে ফেলা যায়। আপনারা চাইলে এখানে পুদিনা পাতা এড করতে পারেন। আমার বাড়িতে পুদিনা পাতা ছিল না তাই আমি ব্যবহার করতে পারিনি ।পুদিনা পাতা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভীষণ উপকারী।
আজ এখানে শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।






Thank you 🙏