হাসাডাঙা দূর্গা আশ্রমে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকে আপনাদের মাঝে হাসাডাঙা পার্কে যাওয়ার কিছু সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে পরের মুহূর্ত টুকু আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। সেদিন বেশ খানিকক্ষণ ধরে মহাদেবের আরতি দেখার পর আবারো অন্য আরেকটি মন্দিরের ভিতর শুরু হয়েছিল মা দূর্গার সন্ধ্যা আরতি। কৃষ্ণনগরে সারা বছর পুজো হয় এমন দূর্গা মন্দির সচরাচর দেখা যায় না বললেই চলে। আমাদের কৃষ্ণনগরে কালী মন্দির ,শিব মন্দির ,রাধা কৃষ্ণের মন্দির, লোকনাথ বাবার মন্দির এছাড়া অন্যান্য ঠাকুরের মন্দির সবকিছু আছে। কিন্তু দুর্গা মন্দির খুবই কম আছে। মহাদেবের পুজো সেরে আবারো আলাদা ভাবে মা দূর্গার সন্ধ্যা আরতি হচ্ছিল। সেখানে মা দুর্গার একটি ছবি রাখা হয়েছে । সেইখানেই প্রত্যেক দিন সন্ধ্যা আরতি করা হয়। মা দূর্গার যখন সন্ধ্যা আরতি হচ্ছিল তখন আবার অন্যরকম বাদ্যযন্ত্র সকলে বাজাচ্ছিল। এইরকম মুহূর্ত এই প্রথমবার নিজেই অনুভব করলাম । প্রথম দিন ভাবিনি গিয়ে এতটা আনন্দ পাব।
ওখানেও বেশ খানিকক্ষণ ধরে সন্ধ্যা আরতি হল। সন্ধ্যা আরতির পর সকলকে প্রসাদ নেওয়ার জন্য দাঁড়াতে বলা হচ্ছিল। তবে সন্ধ্যা আরতি যখন শুরু হয়েছিল তখন আসতে আসতে মানুষের ভিড় জমছিল। আসলে আশেপাশের মানুষজন সকলেই হয়তো সঠিক সময়টা জানে। তাই সন্ধ্যা আরতি শুরু হওয়ার সময়ই সকলেই আস্তে আস্তে ভিড় জমে ছিল। এইরকম সুন্দর মুহূর্ত কাটাতে পেরে আমাদের বেশ ভালো লেগেছিল। এরপর সকলকে ফল প্রসাদ বিতরণ করার পর আবারো ঠাকুরের ভোগ পায়েস বিতরণ করা হচ্ছিল। প্রত্যেক সপ্তাহে শনিবার নাকি ঠাকুরের ভোগ দেওয়া হয়। এগুলো আমাদের একদমই জানা ছিল না ।সেদিন আমরা হঠাৎ করে গিয়ে অনেক কিছুই জানতে পেরেছিলাম।
সকলকে প্রসাদ ভোগ দেওয়ার পর আবারো শুরু হয়ে ছিল কীর্তন। প্রত্যেকদিন নাকি ওখানে কীর্তন হয়। তবে কীর্তন শোনার জন্য আর থাকা হয়নি। কারণ আমাদের আবার অনেকটা পথ অতিক্রম করে বাড়ি ফিরতে হবে। এদিকে তখন প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল। চারিদিক কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল। হাইরোডের উপর দিয়ে টোটো করে আসা ভীষণ রিক্স এর ব্যাপার। তাই আর সাহস করে থাকতে পারিনি। চারিদিকে খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আবারো ঠাকুরের নাম করে বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে।তবে নিজেদের হঠাৎ করেই চলে যাওয়াটা বেশ ভালো লেগেছিল। আমার বর কোথাও যেতে চাই না। কিন্তু আবার হুটহাট করে এখানে ওখানে নিয়ে চলে যাই বেশ ভালো লাগে।
মামাশ্বশুরের মেয়েরও ভীষণ পছন্দ হয়েছিল। মোটামুটি কৃষ্ণনগর এলাকাবাসী ওই জায়গাটা পছন্দের জায়গা বলেই মনে করা হয়। তবে শীতের থেকে গরম কালে বেশি ভিড় হয় ।ওখানে বেশি মানুষ সময় কাটায়। যেহেতু বিলের ধারে তাই গরম কালে ভীষণ ভালো লাগবে।তবে ইচ্ছে আছে এ বছরে দুর্গাপুজোর সময় গিয়ে ঘুরে আসবার ।ওখানে নাকি খুব ধুমধাম সহকারে দুর্গাপূজা পালন করা হয়। তবে ওখানকার শিব লিঙ্গ একটু অন্যরকম ছিল। মন্দির টি ও খুব সুন্দর ভাবে করা হয়েছে। এখনো আরো বাড়ানোর কাজ চলছে। ওখানকার সব থেকে আকর্ষন দৃশ্য হল জলের মধ্যে মহাদেবের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।সেদিনের কাটানো সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম ।
সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন ।আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।




We support quality posts, good comments anywhere and any tags.
Thank you 🙏