পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠে পুলি উৎসব পালন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে পৌষ মাসের শেষ দিন। দেখতে দেখতে পৌষ মাস শেষ হয়ে গেল ।আগামীকাল থেকে আবার মাঘ মাসের শুরু ।এ বছরে পৌষ মাসে বেশ জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছিল। পৌষ মাস যে শীতকাল অনেক কয়েক বছর পর সেটা অনুভব করলাম। গতকাল ছিল পিঠে পুলি উৎসব। অর্থাৎ পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ মাসের সংক্রান্তির আগের দিন সকলের বাড়িতে বিভিন্ন রকমের পিঠে পুলি বানিয়ে পরের দিন সেগুলো মহা আনন্দে খেতে ব্যস্ত থাকে। সেই উৎসবকে বলে পৌষ সংক্রান্তি উৎসব। প্রত্যেক বছরের মত এ বছরেও আমাদের বাড়িতে কিছু শীতের পিঠে পুলি তৈরি করা হয়েছিল ।এ বছরে যেহেতু জেঠিমা মারা গিয়েছে তাই সেভাবে তেমন কিছু করা হয়নি। আমাদের এ বছরে নাকি সব কিছু খেতে নেই।
গতকালকে বিকেল থেকেই মা, দিদা সকলেই বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করেন ।তার মধ্যে হল - সরা পিঠে, পুলি, পাটিসাপটা, খেজুরের গুড়ের পায়েস, তেলের পিঠে, গোকুল পিঠে আরো অনেক রকমের সুস্বাদু জিনিস তৈরি করে থাকে। গ্রামের দিকে প্রায় প্রত্যেকেই দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু পিঠে পুলি তৈরি করতে বসে পড়েন। তবে আমাদের শহরে খুব বেশি ধুম না হলেও প্রত্যেক ঘরে ঘরে কয়েকটি জিনিস তৈরি সকলেই করে। গতকালকে যখন বিকেল বেলাতে দিদার বাড়িতে গিয়েছিলাম দিদা প্রত্যেক বছরের মত এ বছরেও গোবরের তৈরি ন'টা ঠাকুর তৈরি করেছিল। সেই ছোটবেলা থেকে দিদার এই রীতি আমি দেখে আসছি। এছাড়াও ছোট মামা সারা বাড়িতে আলপনা দিয়ে ভর্তি করেছিল ছোটবেলায় আমরা আলপনা দিয়ে হাতা ,খুন্তি, হাঁড়ি কড়াই, বাটি এইসব আঁকতাম। পিছনে ফিরে তাকালে সেই সব ছোটবেলার বিভিন্ন স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
ছোটবেলায় আমি সমস্ত কিছু দিদাকে জোগাড় করে দিতাম। এখন ছোট মামা সমস্ত কিছু দিদার হাতের কাছে জোগাড় করে দেয়। ঠাকুর তৈরি করতে গোবর লাগে ।আর ঠাকুর সাজাতে লাগে গাঁদা ফুল, দূর্বা, তুলসির শিস, সিঁদুর আর চালের গুড়ো। এছাড়াও দিদা যখন সার পিঠে তৈরি করে প্রথম পিঠেটা নাকি ওই পরিবারের পূর্ব -পুরুষের নামে চারিদিকে ছুড়ে ফেলে দিতে হয়। আমার মামারা প্রত্যেক বছরই প্রথম পিঠেটা দেখি চারটি দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পৌষ পার্বণ উপলক্ষে ঠাকুর গুলো মাঝরাতে বাইরে উঠানে নামিয়ে রাখা হয় ।এদিকে ঘরে শিল-নোড়া বিচালি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এগুলো সব আগেকার দিনের নিয়ম যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যতদিন মা- দিদিমা থাকবেন। ততদিন এইসব নিয়ম কানুন গুলোর গুরুত্ব দেবে।
এরপর হয়তো পরের জেনারেশনে কেউ আর পালন করবে না। শিল-নোড়া বিচালি দিয়ে বেঁধে না রাখলে নাকি গ্রামের দিকে সকলে চুরি করে নিয়ে চলে যেত। যাইহোক মাঝরাতে গোবরের ঠাকুর গুলো নামানোর পর তাদের ধান ,দূর্বা ,সমস্ত কিছু দিয়ে শঙ্খ বাজিয়ে উলু দিয়ে পুজো করতে হয়। আবার সূর্য ওঠার আগেই তাদের তুলে নিয়ে নদীর জলে ফেলে দিয়ে আসতে হয়। সূর্য ওঠার পরে নাকি জলে দিতে নেই। ছোটবেলায় যখন খুব শীত পড়তো তখন কে জলে দিতে যাবে কে নদীতে ডুব দিয়ে স্নান করতে যাবে এই নিয়ে তর্ক বেঁধে যেত। ছোট থেকেই দেখে আসছি আমার মামারা যতই শীত পড়ুক না কেন সকাল ছয়টার সময় নদীর জলে স্নান করতে যেত। তাই সকলেই আমার মামাকে হাতে ধরিয়ে দিত ঠাকুর গুলো বিসর্জন দেওয়ার জন্য ।
এ বছরে ও তার অন্যথা হয়নি। সকলের বাড়িতে নানা রকমের সুস্বাদু পিঠে পুলি তৈরি করা হয়েছিল। সকাল বেলাতেই ঘুম থেকে উঠেই দেখি।ঈশাদের বাড়ি থেকে কিছু পিঠে পুলি দিয়ে গিয়েছিল। আবারও পাশের বাড়ির থেকে কাকিমা অনেক কিছু দিয়েছিল ।সমস্ত কিছু পিঠে পুলি খুব আনন্দ করে খেতে খেতেই আজকের পৌষ -পার্বণ কাটিয়ে দিলাম। পৌষ পার্বণের সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।




Thank you 🙏