হঠাৎ করেই বাড়ির সকলকে ঈশার বন্ধুর দেওয়া ট্রিট
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে ।
আজকে আপনাদের মাঝে হঠাৎ করেই ট্রিট দেওয়ার একটা মুহূর্ত শেয়ার করে নেব। বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড গরম পরছে। এই গরমে মানুষ ঘরে একেবারেই টিকতে পারছে না। তাতে আবার রান্নাঘরে রান্না করা তো দূরের কথা। তবুও সকলকে রান্না করে খেতেই হবে। গত কয়েকদিন ধরে শাশুড়ি মা বাড়িতে ছিল না। তাই নিজেকে সমস্ত কাজকর্ম রান্নাবান্না করতে হচ্ছিল। এই গরমে হাঁপিয়ে গেলেও সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়।গত মঙ্গলবার দিন অনেক কিছু রান্নাবান্না করেছিলাম। আসলে আমি বরাবরি নিজের পছন্দমত রান্না করতে ভীষণ পছন্দ করি। সাথে যদি পছন্দের সমস্ত জিনিসপত্র থাকে তাহলে পছন্দ মতো রান্না করতে এনার্জি টা আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সেদিন বেশ কয়েকটা রেসিপি আমি নিজে বাড়িতে তৈরি করেছিলাম।
এরপর হঠাৎ করেই বিকেল বেলায় ঈশা ফোন করে বলল বৌদি আজকে বিকেল বেলায় তুমি আমাদের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করবে। আমরা নিজেদের মধ্যে কখনো তুই আবার কখনো তুমি বলে দুজন দুজনকে ডাকি। প্রথমে ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আজকে আবার কীসের খাওয়া দাওয়া এই ভেবে।যাইহোক বাড়িতে শাশুড়ি মা ছিল না ।তাই বেশ খানিকক্ষণ পরে ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। অনেক কয়েকবার ফোনও করেছিল। আমার যেতে দেরি হচ্ছিল বলে আমাকে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। গিয়ে দেখি ওদের বাড়ির উঠানে অলরেডি মাংস রান্নার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম কিসের রান্নাবান্না চলছে? মনে হচ্ছে এই গরমে ধুমধাম করে পিকনিকের প্রস্তুতি চলছিল। তবে গরম কালে পিকনিক ভালো লাগে না।ওর বন্ধু ইচ্ছা হয়েছিল সকলকে মাংস আর রুটি খাওয়ানো। আসলে ওর বন্ধুর বাড়ির সকলে বিয়ে বাড়িতে নিমন্ত্রণও ছিল। শুধুমাত্র ও যাবে না বলেই ঈশাকে বায়না করেছিল ওদের বাড়িতে মাংস আর রুটি রান্না বান্না করার জন্য।
এমনকি বিয়ে বাড়ি থেকে ওর মা ,দাদা ,বৌদি সকলেরই ফেরার পথে ওদের বাড়িতে ঢোকার কথা ছিল। এই গরমের মধ্যে সকলে মিলে জোর কদমে মাংস রান্নার প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম ।আমিও মাংস রান্নার জন্য বেশ কিছুক্ষণ হেল্প করেছিলাম। এরপর রুটি করার জন্য ময়দাগুলো মেখে চলে গিয়েছিলাম দিদার সাথে দেখা করবার জন্য। বেশ খানিকক্ষণ পর আসার পর তখনো ওদের বাড়িতে রান্না শেষ হয়নি। তখনও কেউ খেতে আসেনি। যাইহোক জোড় করে ফোন করতে ওরা গরমের মধ্যে কেউ আসতে রাজি হচ্ছিল না। ঈশা একটু রাগ করেছিল ।তাই ওর বন্ধুর বাবা মা দুজনে বাধ্য হয়ে এসেছিল। এদিকে আমি আবার বাড়িতে এসে আমার শ্বশুরমশাই আর বরকে রাতের খাবার খেতে দিয়ে আবারো গিয়েছিলাম ওদের বাড়িতে নিজে খেতে।
আমি যাওয়ার পর আমার বরের জন্য কাকিমা মাংস, রুটি বাড়িতে খানিকটা পাঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বরের রাতের খাবার খাওয়া হয়ে গিয়েছিল ।তাই ও আর রাতে খাইনি ।আমি ওদের বাড়িতেই খাওয়া দাওয়া করে বেশ খানিকক্ষণ সকলের সাথে মজা আনন্দ করে কাটিয়ে দিয়েছিলাম ।সকলের খাওয়া হয়ে গেলে সকলে নানান রকমের গল্প শুরু করে দিয়েছিলাম ।আসলে সকলেই এক জায়গায় হলে বিভিন্ন রকমের গল্প নিজেদের মধ্যে আপনা আপনি শুরু হয়ে যায়। হঠাৎ করেই এইরকম ট্রিট খেতে সকলেরই ভীষণ ভালো লাগে। যাই হোক হঠাৎ করেই সেই দিনটা খুব ভালোভাবে কাটিয়েছিলাম সকলের সাথে।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


