দিদাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে নিয়ে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোষ্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
যেকোনো মানুষের দেহে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাণ থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তার বাড়ির আত্মীয়-স্বজন প্রিয়জনেরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় তাকে ভালো রাখার জন্য। এইরকমই আজকে আমার খুব কাছের একজনকে নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ডাক্তারের কাছে চেকআপ করবার জন্য। বেশ কিছুদিন ধরে দিদার ভীষণ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিল ।কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম তাকে আলাদা করে অন্য ডাক্তারের কাছে চেকআপ করবার জন্য নিয়ে যাব। কিন্তু সময়ের অভাবে হয়ে উঠছিল না। সেদিন মামাদের সকলকে বলতেই মামারা রাজি হয়ে গিয়েছিল। তাই সাথে সাথে আমার কথা শুনে ডাক্তারের কাছে নাম লিখে দিয়েছিল। ডাক্তারবাবু বসেন কল্যাণীতে। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লাগে যেতে।
অনেকদিন বাদে আজকে আবারো ট্রেনে করে গিয়েছিলাম দিদাকে ডাক্তার দেখাবার জন্য ।সচরাচর সেভাবে ট্রেনে করে কোথাও যাতায়াত করা হয় না। আমাদের সমস্ত আত্মীয় স্বজন সকলেই রয়েছে করিমপুরের দিকে ।ওই দিকে ট্রেন লাইন নেই।মানে সকলের বাড়িতেই বাসে করে যাতায়াত করতে হয়। তাই সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়েছিলাম ডাক্তার দেখাতে যাব বলে। বাড়ি থেকে স্টেশনে টোটো করে যেতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে। কোন প্লাটফর্মে কখন ট্রেন দেবে? এসব কিছু আমি একেবারেই বুঝিনা। আজকে আমি ,আর ছোট মামা দুই জন মিলে দিদাকে নিয়ে গিয়ে ছিলাম।কারণ আমার সেভাবে ট্রেনে করে কোথাও যাওয়া হয় না। যাবার সাথে সাথে ট্রেনের টিকিট কেটে নিয়েছিলাম ।এরপর কিছুক্ষণ দাঁড়াতেই ১২:১৫ নাগাদ ট্রেন ঢুকে পড়েছিল। আমরাও সাথে সাথে ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম।
কিছুটা পথ যাওয়ার পর রাস্তা তে গিয়ে দিদার একটু অসুবিধা হয়েছিল তাই আবারও খানিকক্ষণের জন্য নেমে পড়তে হয়েছিল ট্রেন থেকে। ট্রেন তো কারো জন্য থেমে থাকে না। সে দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকে। তাই সেই স্টেশনে নেমে খানিকক্ষণ রেস্ট নিয়ে আবারও কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন ঢুকে পড়েছিল। আমরা আবার ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম। এরপর তিনটে স্টেশন বাদেই ছিল আমাদের গন্তব্যস্থল। সেখানে খুব ভালোভাবেই নেমে পড়েছিলাম নামার পর স্টেশনে আবারো খানিকক্ষণ রেস্ট নিতে হয়েছিল। এরপর চলে গিয়েছিলাম যেখানে ডাক্তার বসে সেখানে। এখনকার দিনে ডাক্তারদের এত ভিজিট নেয় তা বলার কথা নয় ।উনি হাসপাতালেও বসেন ।কিন্তু বাইরে রোগী দেখতে প্রায় হাজার টাকা নেয়।
গরিব মানুষদের এত টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখানো খুবই অসুবিধা ।যাই হোক খানিকক্ষণ বসার পর ডাক্তার দেখিয়ে আবারো সেখান থেকেই ওষুধ কিনতে হবে এইরকমই বাধ্যতামূলক রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখানো হয়ে গিয়েছিল।সেখান থেকে ওষুধ নিয়ে আবারো স্টেশনে এসে খানিকক্ষণ বসে ছিলাম। স্টেশনে বসে থাকার পর খানিকক্ষণ পর ট্রেন ঢুকলো আবারো হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম বাড়ি পৌঁছাব বলে। আমার একেবারেই ভিড় পছন্দ হয় না। কিন্তু ট্রেনে করে আসতে হলে ভিড় ঠেলেই তবেই ট্রেনে উঠতে হয়। ভিড়ের মধ্যে তাতে আবার বারে বারে ট্রেনের হকারীরা বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতে ওঠে এগুলোতে আরো অসুবিধা হয়। যাই হোক ওখানে থেকে ট্রেনে উঠে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম।
আমার মনে হয় যে কোন মানুষ যখন অসুস্থ হয় তার পিছনে সব টুকু দিয়ে করা উচিত ।কারণ এখনকার দিনে মানুষের জীবনটা আজ আছে কাল নেই। সব মানুষেরই রোগের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। মানুষ যখন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে তখন আমাদের হাহাকার করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তাই যতদিন বাঁচতে হবে সুস্থ স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে থাকতে হবে। তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই জরুরী।
আজ এখানেই শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল ।সকালে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।




Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟