সরস্বতী পুজোতে দ্বিতীয় দিন ঘোরাঘুরি করার সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব সরস্বতী পুজোর দ্বিতীয় দিনের কিছু সুন্দর মুহূর্ত ।দেখতে দেখতে সরস্বতী পুজো কেটে গেল। পুজো আসছে, এটাই বেশ আনন্দের ।কিন্তু কিভাবে যে আনন্দের দিনগুলো মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায় সেটা আমরা সকলেই বুঝতে পারিনা। আসলে আনন্দে সময় গুলো হয়তো ক্ষণিকের জন্য। আবারো সারা বছর সেই আগের মতন কাটবে। বাঙ্গালীদের বারোমাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। তবে বাঙালি দের সরস্বতী পুজো ছিল আমাদের বছরের শেষ পুজো। সরস্বতী পুজো নিয়েও আমরা ভীষণ মাতামাতি করি। সরস্বতী পুজো হলো বাঙ্গালীদের ভ্যালেন্টাইন ডে। মানে ভালোবাসার দিন। এই দিনে প্রত্যেকটি ছেলেমেয়েরা ঘুরতে বেড়াতে ব্যস্ত থাকে। এছাড়াও সামনে রয়েছে অন্নপূর্ণা পূজা ,বাসন্তী পুজো । তবে আমাদের এখানে এই সব পুজোতে তেমন কোন ধুম হয় না। সরস্বতী পুজো কৃষ্ণনগরে প্রচুর ধুম হয়। তবে ছোটবেলার সেই রকম আনন্দ না পেলেও ঠাকুর দেখার জন্য একটু আধটু বেরোনো হয়।
প্রথম দিন তো তিন বোনে মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম ঠাকুর দেখতে ।কিন্তু দ্বিতীয় দিন বেরোনোর কোন প্ল্যান ছিল না। ভেবেছিলাম কাছে পিঠে কোথাও থেকে খাবার কিনে নিয়ে এসে বাড়িতেই সকলে মিলে খাওয়া-দাওয়া করব। কিন্তু বোন এসেছে আশা করে ঠাকুর দেখতে যাবে বলে। তাই হঠাৎ করেই প্ল্যান করলাম চল ঘুরে আসি। আমাদের দুই বোনকে বেরোতে দেখে মামার মেয়ে পেছনে লাগল। কারণ ওকে ঠাকুর দেখতে নিয়ে যাবার মতো কেউ ছিল না। তিন বোন মিলে রাত আটটা নাগাদ বেরিয়ে পড়েছিলাম ঠাকুর দেখবার জন্য ।তবে রাস্তায় বেরিয়ে প্রথম দিন যে পরিমাণে ভিড় দেখছিলাম তার বিন্দুমাত্র ভিড় দ্বিতীয় দিনে ছিল না। কারণ প্রথম দিনে মানুষ সারারাত জেগে ঠাকুর দেখে নিয়েছিল।
আমরা তিন বোনই পায়ে হেঁটে ঠাকুর দেখেছিলাম ।পায়ে হেঁটে ঠাকুর দেখা খুব একটা সহজ ছিল না। তাই বেশি দূর পর্যন্ত যাওয়া হয়ে ওঠেনি ।হয়তো দুদিনে ৫০ টা মতো ঠাকুর দেখেছিলাম। প্রথম দিন এক দিকের ঠাকুর গুলো দেখেছিলাম ।আর দ্বিতীয় দিন আরেক দিকের ঠাকুর গুলো দেখতে বেরিয়ে পড়েছিলাম ।তবে কৃষ্ণনগরে ঠাকুর দেখে শেষ করবার উপায় নেই। দ্বিতীয় দিনে কাছে পিঠে বেশ কিছু ঠাকুর দেখে নিয়েছিলাম। রাস্তায় বেরোলেই প্রত্যেকটি গলিতেই পুজো, তাই একটা দেখলেই ইচ্ছে করে সামনে আর একটা প্যান্ডেল দেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। এভাবে বেশ কিছু ঠাকুর দেখা হয়েছিল ।যেহেতু তিনটে মেয়ে একা একা বেরিয়েছিলাম। তাই আর বেশি রাত করিনি, ঘড়ির কাটাই তখন রাত নটা বেজে ৩০ মিনিট। তখনই রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।
আমাদের বাড়ির সামনে ও অনেক বড় করে সরস্বতী পূজা হয়। এরপর বাড়িতে এসে সকলে মিলে নিজেদের বারোয়ারিতে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়েছিলাম। নিজেদের পাড়াতে একটু অন্যরকম শান্তি পাওয়া যায়। এ বছরের প্রত্যেকটি মন্ডপে একটু অন্যরকমের ঠাকুরের মূর্তি পুজো করা হয়েছিল। দেখতে ভারী মিষ্টি লাগছিল। একেকটা পালদের একেক রকম হাতের কাজ। এক এক শিল্পীদের একেক রকম হাতের কাজ দেখে সত্যিই আমরা মুগ্ধ হই। দুদিন পর পর ঘোরাঘুরি করে বেশ ভালো লেগেছিল ।সেই মুহূর্তই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নেই হাজির হবো আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।




We support quality posts, good comments anywhere and any tags.
Thank you 🙏