টাইগার হিল ভ্রমণের অভিজ্ঞতার -প্রথম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
বেশ কিছুদিন আগে আমি হঠাৎ করে দার্জিলিঙে বেড়াতে গিয়েছিলাম সেটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে ঘোরার কোন কিছু আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়নি। আজকে শেয়ার করব টাইগার হিল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ।দার্জিলিং হল আমাদের মধ্যবিত্তদের স্বপ্নের শহর। অনেক সময় অনেক বাঙালিরা স্বপ্ন দেখলেও সেটা আর্থিক দিক থেকে মেটাতে পারে না। তবে আমার ও স্বপ্ন ছিল ঘুরতে যাওয়ার।কিন্তু স্বপ্ন যে খুব সহজেই পূর্ণ হয়ে যাবে সেটা ভেবে উঠতে পারিনি। স্বপ্ন হয়তো এভাবেই পূর্ণ হয়। এর আগে টিভিতে দেখতাম পাহাড় পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট ঘর এ যেন এক স্বপ্নের মত ভেবেছিলাম। স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আমার বর বেড়াতে একেবারেই পছন্দ করে না। আমার শখ তো মাঝে মাঝেই জাগে বেড়াতে যাওয়ার। কথায় আছে শখের দাম লাখ টাকা।
আজ হয়তো আমি ২৫ বছর বয়সে যে আনন্দটা করতে পেরেছি সেগুলো হয়তো আরেকটু বয়স হলে করতে পারব না। তাই সময় থাকতে থাকতে সব স্বপ্ন গুলো পূর্ণ করে নেওয়া উচিত। আমি সব সময় নিজের সব স্বপ্ন গুলো নিজের উপার্জনের টাকাতেই পূরণ করার চেষ্টা করি। তবে আমার সব স্বপ্ন পূরণ করতে আমার সামনে শ্বশুর ,শাশুড়ি, স্বামী কেউ কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না বরং আমাকে উৎসাহ জোগায়। সেদিন পাশের বাড়ির কাকু ,কাকিমা যখনই শাশুড়ি মা কে বলেছিল দাজিলিং এ যাওয়ার কথা এক কথায় উনি রাজি হয়ে গিয়েছিল। তাই আমিও ছুটে চলে যেতে পেরেছিলাম আমার স্বপ্নের জায়গায় দার্জিলিংয়ে ঘোরার জন্য ।যাই হোক সেদিন দার্জিলিংয়ে পৌঁছানোর পর ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।আর কোথাও ঘোরাঘুরি করিনি। বিকেলের দিকে একটুখানি গিয়েছিলাম পাশের মার্কেট গুলোতে ঘোরার জন্য। রাতের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম ।কারণ সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে যেতে হবে, টাইগার হিল সূর্য ওঠা দেখার জন্য।
অচেনা অজানা জায়গায় ঘুম আসতে অনেকটাই দেরি হয়। তাই রাতে একদমই ঠিকঠাক ঘুম হচ্ছিল না। এদিকে সকলে বলেছিল রাত তিনটে থেকে চারটির মধ্যে রেডি হয়ে নিতে হবে। আমার রাতের বেলায় যতবার ঘুম ভাঙছিল ততবার মোবাইল এ দেখছিলাম কটা বাজে ।যখন বাজে ভোর সাড়ে তিনটে তখনো কেউ জাগেনি। তখন আমি পাশে কাকু কাকিমা সকলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেছিলাম ।আমি ডাকার পর কাকু কাকিমা পাশের ঘরে সকলকে ডেকে দিয়েছিল ।এরপর সকলে রেডি হয়ে নিয়েছিলাম টাইগার হিলে সূর্য ওঠা দেখতে যাব বলে। এই দৃশ্য সচরাচর সকলে দেখতে পায় না। আমরা সকলে রেডি হয়ে নিয়েছিলাম বেরোবো বলে এদিকে হোটেলের নিচে গাড়ি ও চলে এসেছিল।
এরপর সকলে মিলে যে যার গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। অত ভোরে তাই আর সকালের কোন কিছুই খাওয়া হয়ে ওঠেনি। আমাদের হোটেল থেকে বেশ অনেকটাই সময় লেগেছিল টাইগার হিলে যাওয়ার জন্য। আমরা যে হোটেলে ছিলাম তার থেকেও পাহাড়ে আরো উঁচুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল টাইগার হিল দর্শন করার জন্য। যাইহোক সামনে কুয়াশা কাটিয়েই পাহাড়ের গা দিয়ে গাড়ি চলছিল। এখানে আশ্চর্যের বিষয় হলো গাড়িগুলো কি সুন্দর ভাবে যাতায়াত করে। গাড়ির কোনো রকম হর্ন ছাড়া কিভাবে যে গাড়িগুলো যাতায়াত করে সেগুলো দেখেই আরো আশ্চর্য লাগছিল। পৌঁছে সেখানে আমাদের সকলকে নামিয়ে দিল। এরপর আরো উঁচুতে আমাদের উঠতে হবে সূর্য ওঠা দেখার জন্য।
আমরা যত উঁচুতে উঠবো আমাদের অক্সিজেনে আরো অভাব বেড়ে যাবে। ভোর বেলায় এমনি শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, তাতে আবার পেটে কোন খাবার কিছুই পড়েনি। আর ও যেন কষ্ট হচ্ছিল। যতই হাঁটছিলাম ততই যেন আরো উঁচুতে হচ্ছিল। ভাবছিলাম হয়তো আমি আর উঠতেই পারব না। আমার পাশে পাশে সকলেই দেখছি হাঁপাতে হাঁপাতে উপরে উঠছে। কারণ সকলেই পয়সা খরচ করে গিয়েছে আনন্দ করবার জন্য। অনেক বয়স্ক মানুষ তারা তো উঠতেই পারছে না। যাই হোক এর পরের মুহূর্তটা আপনাদের মাঝে পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



--
Congratulations! This post has been voted through steemcurator08 We support quality posts, good comments anywhere and any tags.