শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে ডাক্তার দেখানো

in Incredible India2 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।

IMG-20251230-WA0013.jpg

গতকালকের পোস্টে আপনাদের মাঝে শান্তিনিকেতন যাওয়ার কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আসলে আমি প্রথমে জানতাম না যে মামার মেয়েকে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি প্রথমে শান্তিনিকেতনের নাম শুনে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম ভেবেছিলাম ওখান থেকে হয়তো একটু আশেপাশে ঘোরাতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই সূত্রেই আমার যাওয়া। এর আগেও নাকি বোনকে ওখানে নাচের প্রোগ্রামের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ও যাওয়ার সঙ্গী পাইনি তাই যায়নি। যখন ওকে নাচের প্রোগ্রামের জন্য যেতে বলেছিল তখন ও কাউকে জানাইনি নিজে থেকে কলেজে বারণ করে দিয়েছিল। বোন খুব ভালো নাচতে পারে।

IMG-20251230-WA0014.jpg

যাইহোক সেদিন বেলা একটার পর যখন শান্তিনিকেতনে মেডিকেল কলেজের সামনে পৌঁছেছিলাম তখন কলেজের সামনে বিরাট গেট দেখে ভেবেছিলাম কাছেই শান্তিনিকেতন হবে। ভিতরে গিয়ে দেখলাম অনেক বড়ো মেডিক্যাল কলেজ। কলেজের ভিতরে অনেক ডাক্তার বসেছে। ওখানে প্রচুর রোগীরা এসেছে ডাক্তার দেখাবার জন্য। বহুদূর থেকে সকলে গিয়েছে। আমাদের সকলেও নিজেদের নাম এন্ট্রি করে নিয়েছিল। যেহেতু কলেজ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাই সকলের ফ্রিতে চেকআপ করা হয়েছিল। এরপরে যে যার মত ডাক্তার দেখানোর জন্য এক একটা রুমে চলে যাওয়া হয়েছিল। মানে এক একটা ঘরে এক একটা ডাক্তার বসেছিল।আমাদের যেতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল তাই ডাক্তারের কাছে খুব একটা ভিড় ছিল না।

IMG-20251230-WA0022.jpg

ডাক্তার দেখানোর পর খানিকক্ষণ বসে ছিলাম। সকলের যখন ডাক্তার দেখানো হয়ে গেল সবাই এক জায়গায় হয়েছিলাম। তখন আমি নিজে থেকেই স্যারদের জিজ্ঞেস করলাম আমাদের কি আর কোথাও নিয়ে যাওয়া হবে না। স্যার বলল অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হলে আর বাড়ি ফেরা যাবে না। বাড়ি ফিরতে অনেকটাই রাত হয়ে যাবে। আমি যেহেতু কলেজের স্টুডেন্ট নই। তাই আর কলেজের স্যারদের জোর করতে পারিনি। তবে কলেজের ছেলেরা ভীষণ রেগে গিয়েছিল। ওরা তো ঘোরার জন্য গিয়েছিলাম। এরপর দুপুরের খাবারের জন্য দেখি পাশেই ফাঁকা মাঠ রয়েছে। ওখানে ফ্রিতে সকলকেই খাওয়ানো হচ্ছে। মানে কলেজের ডাক্তারা হয়তো ওখানে যারা ডাক্তার দেখাতে যায়, এছাড়া সমস্ত কর্মচারী, আশেপাশে দুঃস্থ অসহায় মানুষ জনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকে।

আমরাও সেখানে গিয়ে বসে পড়লাম দেখলাম খিচুড়ি, মুরগির মাংস, চাটনি আর সাথে মিষ্টি দেওয়া হচ্ছে। ওখান থেকে আমরা সকলেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম । দুপুরে প্রচন্ড খিদে পেয়ে গিয়েছিল। সেই ভোর পাঁচটার সময় বেরিয়ে আর কিছু খাওয়া হয়নি।এরপর আবারো সকলে মিলে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যেই রওনা দিয়েছিলাম। তবে ফেরার সময় আমাদের সাথে কলেজের স্যার আসেনি। আমি আর কলেজের স্টুডেন্ট দের একা ছেড়ে দিয়ে ছিল। কারণ তখন ও স্যার দের কাজ শেষ হয়নি।তবে আমি ছেলেগুলোকে বলছিলাম চলো আমরা সকলে মিলে শান্তিনিকেতনে ঘুরে আসি। তখন ওরা বলল দিদি ওখান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার আমাদের এখনো যেতে হবে। তোমার মত আমরাও যদি জানতাম তাহলে আসতাম না। আসলে ঠাণ্ডার মধ্যে অতটা পথ জার্নি করে গিয়ে যদি কিছুই না দেখতে পাই তাহলে যাবার কোন মানেই হয় না। ডাক্তাররা যখন জিজ্ঞেস করছিল আমরা কোথা থেকে এসেছি তখন ওরা শুনে অবাক।

কলেজের স্টুডেন্টদের সাথে আমিও আমার স্কিন দেখিয়ে নিয়েছিলাম। তবে সেদিন আমার অকারণে সময়টা নষ্ট হয়েছিল। নিজের টাকা খরচ করে অতদূর ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার আমার কোনো ইচ্ছেই ছিল না। যাই হোক এর পরে মুহূর্তটা অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।


আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...