বৃষ্টির সন্ধ্যায় কাটানো মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকে আপনাদের মাঝে বৃষ্টির কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। সেদিন ছিল মঙ্গলবার। সারাদিন মুষলধারে কমবেশী বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকেল বেলাতেও আকাশে ঘন কালো মেঘ ছিল ।হালকা বৃষ্টিও হচ্ছিল। তারই মধ্যে ঈশার বায়না চলো নদীর ধার থেকে ঘুরে আসি। তখন অবশ্য বৃষ্টি পড়ছিল না। তবে আমার কাজ ছিল বলে আমি বললাম এখন আর যাব না। খানিকক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। তখন নাকি উনার বাইরে বের হতে ভীষণ ইচ্ছে করছিল ।তাই তখন তার জেদ আরও বেড়ে গিয়েছিল ।ওনার জেদের কাছে আমিও হার মানতে বাধ্য হয়ে বলেছিলাম ঠিক আছে চলো কাছে থেকে কোথাও থেকে বেরিয়ে আসবো। আসলে জীবনে কিছু মানুষ আছে যাদের সাথে মন খুলে মেশা যায়। সে আমার মনের দুঃখ কষ্ট অভিমান সমস্ত কিছুই বোঝে। তাই হাজার ব্যস্ততা থাকার সত্ত্বেও আমি সময় বের করে সবসময় ওর জেদ টাকে বজায় রাখার চেষ্টা করি।
আমার মনে হয় প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এইরকম একটা করে যদি সঙ্গী থাকে তাহলে সকলের জীবন বদলে দিতে পারে ।আমি একজন খুব সাধারণ মানুষ ছিলাম। কিন্তু সত্যি কথা বলতে যেদিন থেকে ঈশার সাথে মিশতে শুরু করেছি ঠিক সেই দিন থেকে জীবনে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। জীবনে চলার পথে এইরকম একজন মানুষ সত্যিই ভীষণ প্রয়োজন ।যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়। সেদিন বের হতে প্রায় সন্ধ্যা ছটা বেজে গিয়েছিল। বেরোনো মাত্রই শুরু হয়েছিল ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। দুজনে ছাতা মাথায় দিয়ে বাড়ির কাছে থেকে একটা টোটো ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির এত জোর যে টোটো থেকেও গায়ে জলের ছাঁট চলে আসছিল। যাই হোক বৃষ্টির মধ্যেই একটা ক্যাফে তে গিয়ে বসেছিলাম।
আসলে কিছু কেনাকাটা করবারও ছিল। কিন্তু বৃষ্টি না থামলে আর দোকানে ঘোরা সম্ভব নয়। তাই একটা ছোট্ট ক্যাফেতে বসেছিলাম। সকলেই দেখি কেনাকাটা করতে এসে সব দোকানের নিচে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আবার ক্যাফে গুলোতে বৃষ্টির কারণে কেউ আর বেরোতে পারছে না। আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম আমরাই পাগলের মত রাস্তায় বের হয়েছি। কিন্তু সমস্ত লোক জন দেখে আমরা তো অবাক। ক্যাফেতে বসে খাবার অর্ডার করেছিলাম মোমো আর কোল্ড কফি। দুজনে মিলে সেগুলো খেয়ে নিয়েছিলাম ।রাস্তায় বেরিয়ে দেখি ড্রেনের জল আর রাস্তার জল এক হয়ে প্রায় এক হাঁটু পরে জল জমে গেছে। সেই জল পেরিয়ে কেনাকাটা করা অসম্ভব ব্যাপার। তাই ওখান থেকে আবার টোটো করে চলে গিয়েছিলাম আরেকটি জায়গায় ।সেখানে কিছু ফল কেনাকাটা করবো বলে। সেখানে একটা দোকান থেকে গোপালের কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রিক কিনে নিয়েছিল ।কিন্তু ওখানেই পাশেই ছিল একটা গোপাল মন্দির।
আমরা রাস্তা থেকেই আওয়াজ পাচ্ছিলাম সন্ধ্যা আরতি চলছিল। আমরাও আরতির শব্দ শুনে ভিতরে না গিয়ে থাকতে পারিনি। মন্দিরে গিয়ে আমরাও বসে প্রায় এক ঘন্টা ধরে সন্ধ্যা আরতি দেখেছিলাম ।এছাড়াও ঈশা ওখানে প্রায় তিন থেকে চারটি গান গেয়েছিলো। মন্দিরের লোকজন তো ভীষণ খুশি । আসলে মানুষের ভাগ্যে কখন কি থাকে আমরা কেউ জানি না। গিয়েছিলাম অন্য কাজে আর সেখানে গিয়ে ভগবানের দর্শন। বৃষ্টির সন্ধ্যায় মন্দিরে গিয়ে সুন্দর সময় কাটিয়ে মনটা ভীষন ভালো হয়ে গিয়েছিল। এরপর নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে রওনা দিয়ে ছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। বৃষ্টির মধ্যে এইরকম ভাবে সময় কাটাতে ভীষণ ভালো লাগে।
আজ এইখানে শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



Thank you