ঐতিহ্যবাহী বাঙালির উৎসব ন্যাড়া পোড়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি, সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকের পোস্টে আপনাদের মাঝে রং দোলের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। তবে আমাদের এখানে আজকে পর্যন্ত প্রচুর রং খেলা হয়েছে। তবে রং খেলার আগের দিন আমাদের এখানে ন্যাড়া পোড়ার আয়োজন করা হয়। এটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি ।তাই আজকে ন্যাড়া পোড়ার কিছু বিষয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। গত সোমবার দিন ছিল ন্যাড়াপোড়া। ছোটবেলা থেকেই ন্যাড়া পোড়া নিয়ে খুব আনন্দ মজা হতো। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার মামা,আর পাড়াতে কিছু ছেলেরা সকলে মিলে বিচালি, শুকনো কলার পাতা, নারকেলের পাতা,খড়,কাঠ সমস্ত কিছু দিয়ে খুব বড় করে ন্যাড়া পোড়া তৈরি করত। এছাড়া বসন্ত কালে পাতা ঝরার সময়। সমস্ত শুকনো পাতা জোগাড় করা হয়।এরপরে ন্যাড়া টাকে টলি করে সারা পাড়া বাজনা সহকারে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াতো। সাথে বাজি ফাটানো হত।
তখন ছোট ছিলাম তাই এই বিষয়টা ভীষণ মজা হতো। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে সমস্ত কিছুই আমাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। মামারা, এমনকি পাড়ার সকলে বড়ো হয়েছে এখন নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা তারা আবার এইসব বিষয় কে গুরুত্ব দেয় না। কারণ তারাও এখন ফোন নিয়ে ব্যস্ত। এইসব ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আমাদের কতটা আনন্দ দেয় সেটা বলে বোঝানো যায় না। অনেকে হয়তো নাম ও শোনেনি। আবার দেখার আগ্ৰহ দেখায় না।যাই হোক ন্যাড়া পোড়া সম্পর্কে একটু আপনাদের মাঝে আলোচনা করি। আমি যতটুকু জানি সেই টুকু আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।প্রত্যেক বছর দোলযাত্রার আগের দিন রাতের বেলায় ন্যাড়া পোড়ার আয়োজন করা হয়। এটি হলো আমাদের মত প্রত্যেক বাঙালিদেরই ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব বলে মনে করা হয়। আসলে এটি হল অশুভ শক্তিকে পরাজয় করে শুভ শক্তির সূচনা করা হয়। বসন্ত কালে অনেক রোগ দেখা যায়। সমস্ত কিছু পরাজয় করার জন্য এই সমস্ত নিয়ম কানুন।
ফাল্গুন মাসের শুক্লা পক্ষের চতুর্থী তিথিতে এই প্রথার আয়োজন করা হয় ।এ প্রথাকে অনেকে আবার হোলিকা দহন বলে মনে করেন। হিরণ্যকশিপুরের বোন ছিলেন রাক্ষসী হোলিকা তিনি বর পেয়েছিলেন যে তাকে কেউ কোনদিন আগুনে পোড়াতে পারবে না। রং দোলের আগের দিন হোলিকা বিষ্ণুদেবের ভক্ত প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনের কাছে বসে ছিলেন। কিন্তু কোন ক্রমে সেই আগুন থেকে প্রহ্লাদ বেঁচে গিয়েছিল। কিন্তু হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। এই থেকেই নাকি সমগ্র দেশে ন্যাড়া পোড়ার প্রথা প্রচলন হয়েছিল। অশুভ শক্তির বিনাস করে করে শুভ শক্তি সূচনা করা হয় রং দল উৎসব পালন করে।
ন্যাড়া পোড়া করার সময় ন্যাড়ার গলায় আলু, বেগুন এর মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। যখন ন্যাড়া টাকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ওগুলো খুব ভালোভাবে পুড়ে যায় ।সে গুলোই পরে সকলে আনন্দ সহকারে খাওয়া হয়। তবে এ বছরে আমাদের পাড়াতে ন্যাড়া পোড়ার আয়োজন করা হয়নি। আমি যখন মামার বাড়ি থেকে বাড়ি ফিরছিলাম তখন দেখি আমাদের পাড়ার ছেলেরা ন্যাড়া তৈরি করে বাজনা বাজিয়ে তাকে পোড়ানোর জন্য ছুটছে। আমিও আগ্রহ সহকারে তাদের পিছনে পিছনে গিয়েছিলাম গিয়ে দেখি সকলে মিলে ন্যাড়াটাকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। আমি খানিকক্ষণ দেখে চলে এসেছিলাম। কারণ আমরা বাড়ি থেকে আলু কিংবা কোন সবজি দেওয়া হয়নি। তাই আর অপেক্ষা করিনি। ওই পোড়া আলু খেতে ভীষণ সুন্দর লাগে।
যতদিন যাবে এইসব রীতিগুলো সবই হারিয়ে যাবে। কারণ আমরা ছোটবেলায় এই জিনিসগুলো নিয়ে কতই না মজা পেতাম। কিন্তু এখনকার বাচ্চারা এইসব নিয়ে অতটা আনন্দ উৎসাহ করতে দেখা যায় না। আজকে ন্যাড়া পোড়া সম্পর্কে আপনাদের মাঝে কিছুটা সুন্দর মুহূর্ত তুলে ধরার চেষ্টা করলাম । ন্যাড়া পোড়ার একটি প্রবাদ রয়েছে -
"আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া
কাল আমাদের দোল,
পূনিমাতে চাঁদ উঠেছে
বলো হরিবোল"
এই প্রবাদটি সকলে উচ্চারণ করে আর ন্যাড়া পোড়ার আনন্দ উপভোগ করে।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Que tradición tan interesante, en mi país hacemos algo similar durante la noche de San Juan, aunque hoy día es más lúdico, tal vez tuvo su origen en algún tipo de conjuro contra el mal.
Saludos desde Paraguay!
🌍 Inglés
What an interesting tradition! In my country we do something similar during the night of Saint John, although nowadays it is more playful. Perhaps it originated as some kind of spell against evil.
Greetings from Paraguay!
🌸 Bengalí
কি চমৎকার ঐতিহ্য! আমার দেশে আমরা সান জুয়ানের রাতে এরকম কিছু করি, যদিও আজকাল এটি আরও খেলাধুলাপূর্ণ। হয়তো এর উৎপত্তি কোনো ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মন্ত্র থেকে হয়েছে।
প্যারাগুয়ে থেকে শুভেচ্ছা!
Thank you 😊
You're welcome 🤗
Thank you 🙏
@mou.sumi আপনার পোস্টটি খুব ভালো লাগলো। ন্যাড়া পোড়া উৎসব সম্পর্কে এত সুন্দরভাবে জানার সুযোগ পেলাম। এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আপনার এই শেয়ার করা মুহূর্তগুলো সত্যিই দারুণ। ধন্যবাদ আমাদের সাথে এই সুন্দর বিষয়টি শেয়ার করার জন্য। 😊
আমার পোস্ট পড়ে সুন্দর কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।