বাবা বুড়োরাজের মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া(পর্ব -১)
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে বাবা বুড়োরাজের পৌরাণিক কিছু কাহিনী শেয়ার করবো। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু পৌরাণিক কিছু দেবদেবীর মন্দির রয়েছে। আমরা সেই পৌরাণিক মন্দিরে কিছু কিছু কাহিনী জানি। আবার কিছু কিছু কাহিনী অজানা রয়েছে। এই রকমই একটি মন্দির হল বাবা, বুড়ো রাজের মন্দির। এখানে মহাদেবের লিঙ্গ রয়েছে। ছোটবেলা থেকে অনেক শুনেছি এই বুড়ো রাজের মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা। বহু দূর দূর থেকে অনেক ভক্তরা আসে পুজো দেওয়ার জন্য। আমাদের বাড়ি থেকে দিদা, মামা আরো আশেপাশে অনেকেই যাই এখানে পুজো দিতে। তবে আমার কখনো যাওয়া হয়নি। দিদার মুখেই ওখানকার অনেক পৌরাণিক গল্প শুনেছিলাম।
আমরা বাঙালিরা সময়ে অসময়ে সব সময় ঠাকুর দেবতার মন্দিরে যেতে পছন্দ করি। শুধু যে বিপদের সময়ই ভগবানের দ্বারে গিয়ে পৌঁছায় এমনটা নয়। অনেক সময় শখ করেও যাওয়া হয়। গত দুবছর আগে হঠাৎ করেই পাশের বাড়ির কাকু বলেছিল চল বাবা বুড়োরাজের মন্দিরে পুজো দিয়ে আসি। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় অনেক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্দিরটি। একটা গাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল যাওয়ার জন্য।সেই গাড়িতে বেশ কয়েকজন গিয়েছিল। কিন্তু আমি গিয়েছিলাম কাকুর মোটর সাইকেলে করে। বাড়ির সামনে মহাদেবের মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম আরেক মহাদেবের কাছে যাবার জন্য। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল মহাদেবের দর্শন নেওয়ার।
ছোটবেলায় দিদার মুখে শুনতাম ওখানকার ঠাকুরের নাকি চারিদিকে ঘেরা থাকলেও মাথার উপর ফাঁকা রয়েছে। মানে কোন ছাদ নেই। বৃষ্টি ,ঝড় যায় আসুক না কেন মন্দিরের ভিতরে নাকি জল পড়ে না। আগেকার দিনে ব্রাহ্মণদের কথা মতোই সবকিছু হত। সেই রকমই ব্রাহ্মণরা কোন কারণে ওইখানকার মাটি খোঁড়ার কাজ চলছিল। হয়তো কোন কাজকর্ম করবার জন্য। হঠাৎ মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে মাটির ভিতরে থেকে মহাদেবের অর্ধেক লিঙ্গ দেখতে পাই। সেই থেকেই ওখানে মহাদেবের পূজা শুরু হয়। তবে ওখানকার মহাদেবের লিঙ্গ টা সত্যিই একেবারে মাটির ভিতরে। যদি দেখতে হয় তাহলে একদম কাছে থেকে ভিতরে ঢুকে তবে দেখতে পাওয়া যায়। না হলে বাইরে থেকে একেবারেই দেখার উপায় নেই।
যাইহোক সেদিনকে কড়া রোদ উপেক্ষা করে পৌঁছে গিয়েছিলাম বুড়োরাজ তলায় মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য। আমরা যেহেতু সিজনে গিয়েছিলাম। তাই প্রচন্ড ভিড় ছিল। সেই ভিড় উপেক্ষা করে আমরা চলে গিয়েছিলাম পুজো দেওয়ার জন্য। এখনো ওখানে পশু বলি প্রথা চালু রয়েছে ।যে যার মানসিক অনুযায়ী সেখানে হাজির। বৈশাখ মাস কিংবা শ্রাবণ মাস এই দুই মাসই মহাদেবের ভক্তরা প্রত্যেক মন্দিরে মন্দিরে পূজো দেওয়ার জন্য ভিড় করে। এছাড়া অন্যান্য দিন গেলে তেমন ভিড় থাকে না ।একটু ফাঁকা ফাঁকাই থাকে। পুজো দিতে গিয়ে তো সে তো চুলো চুলি করবার মত বিষয় হয়ে গিয়েছিল। তবুও এতদূর থেকে গিয়েছিলাম পুজো তো দিতেই হবে। পুজো দিতে গিয়ে কার দুধ, গঙ্গাজল কার মাথায় পড়ছে বোঝার উপায় ছিল না ।মহাদেবের মূর্তি সম্পূর্ণ ফুলে ঢাকা ছিল। তবুও ভিড় ঠেলে ঢুকতেই হবে। এরপর কোনরকমে ভিড় ঠেলে একটু ভিতরে ঢোকার সুযোগ পেয়েছিলাম। যাইহোক আজ এই পর্যন্তই থাক। পরের মুহূর্তটুকু পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

