বোনের বিয়ের দিন মন্দিরে কাটানো কিছু সময়
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বেশ কয়েকদিন হল আপনাদের মধ্যে কোন পোস্ট সে ভাবে শেয়ার করা হয়নি। আসলে নিজেরই এক হাস্যকর সমস্যার জন্য আপনাদের মধ্যে পোস্ট শেয়ার করতে পারছি না ।ঘটনাটি জানলে আপনারাও হয়তো হাসবেন। তাই আর শেয়ার করলাম না। আপনাদের মাঝে পোস্ট শেয়ার করতে না পারলে ভালো লাগে না।যাইহোক আজকে বোনের বিয়ের কিছুটা পর্ব আগের পোস্টে শেয়ার করেছিলাম ।তারপর থেকেই আজকে শেয়ার করব। সেদিন সকলে মিলে পৌঁছে গিয়েছিলাম দেবগ্রাম এর কাছে কৃষ্ণগঞ্জ হরিতলার একটি মন্দিরে। আমরা খানিকক্ষণ রাস্তায় অপেক্ষা করছিলাম। তারপর মা-বোন সকলেই আসলো। বোন লাল টুকটুকে বেনারসি পড়ে গাড়ি থেকে নামলো। সত্যি দেখতে অপূর্ব লাগছিল। কিন্তু এই জিনিসটাই যদি বাড়িতে অনুষ্ঠান করে দেওয়া হতো তাহলে সকলেই আনন্দ করতে পারতাম। রাস্তা থেকে মন্দির অনেকটাই। তাই আমি বলেছিলাম রাস্তা দিয়ে কনের সাজে হেঁটে গেলে সকলে তাকিয়ে থাকবে। তাই গাড়ি মন্দির পর্যন্ত নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।সকলে মিলে যখন মন্দিরে পৌঁছেছিলাম দেখলাম মন্দিরটা একটা বাজারের মধ্যে অবস্থিত।
তখন ছিল দুপুরের মাঝামাঝি সময়।মানে দুপুর তিনটে বাজে ।তাই বাজারের বেশিরভাগ লোকজন বাজার গুটিয়ে দিয়েছিল ।বাজারটা ফাঁকা ফাঁকা হয়েছিল। তখন অবশ্য খুব একটা ভিড় জমেনি।এদিকে ছেলের বাড়ির তরফ থেকে ঠাকুর মশাই উকিল রেডি করে রেখেছিল ।আমাদের দেরি হওয়ার কারণে তারা অলরেডি চলে গিয়েছিল। এদিকে সকলের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে গেছে, কেউ চাইছে বিয়েটা আগে হয়ে যাক রেজিস্ট্রি পরে হবে। কিন্তু আমাদের বাড়ি তরফ থেকে সকলে চায়ছিল যেন আগে রেজিস্ট্রি হোক। তারপরে বিয়ে হবে। এই করতে করতে খানিকক্ষণ কেটে গিয়েছিল। মন্দিরে যেহেতু বিয়ে হবে, বাজারের সকলেই একটু আশ্চর্য হয়েছিল। সকলেই ভাবছিল ছেলে মেয়ে পালিয়ে এসে হয়তো বিয়ে করছে। তাই সকলেরই কৌতুহল জাগছিল। আর বারবার জিজ্ঞেস করছিল। ছেলে কোথাকার মেয়ে কোথাকার। আমরাও সকলে বিভিন্ন জায়গায় থেকে গিয়েছিলাম।আর ওই লোকেদের মনে আরো কৌতূহল জাগছিল। শেষে সব কিছু বুঝিয়ে বলার পর বুঝতে পেরেছিল।
বাজারের মতো জায়গায় মন্দির স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের হলেও হয়তো আমাদেরও কৌতুহল জাগত। এই করে করে প্রায় বিকেল চারটে নাগাদ ঠিক হলো আগে রেজিস্ট্রি হবে। আমার মেজ বোনের বরের ঐদিকে সবকিছুই চেনা জানা ছিল।তাই সে গাড়ি করে কয়েক জন কে নিয়ে চলে গিয়েছিল রেজিস্ট্রি করতে। রেজিস্ট্রারের লোক আবার পাঁচটার পরে আসবে বলেছিল। অতক্ষণ অপেক্ষা করা যাবে না বলে সকলকে গাড়িতে তুলে নিয়ে ওনার অফিসে চলে গিয়েছিল। আসলে এইরকম অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি ।তাই এরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে নিজের একটু ও ভালো লাগছিল না। এদিকে মন্দিরে ঠাকুরমশাইও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খানিকক্ষণ পর একটা ঠাকুর মশাই পাওয়া গেল ঠাকুর মশাই বিয়েতে যা যা লাগে যাবতীয় জিনিসপত্র কিনে আনতে বলেছিল।
যেহেতু বাজারের মধ্যে মন্দিরটা অবস্থিত। তাই হাতের কাছেই সমস্ত জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে আবার রেজিস্ট্রি হতে প্রচুর সময় লাগছিল। তাই ঠাকুর মশাই আবারো চলে গিয়েছিল ।এই করতে করতে সেদিন বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটা বেজে গিয়েছিল ।এরপরে আরো অভিঞ্জতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏