বছরের শেষ দিনে বাচ্চাদের সাথে পিকনিক
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বছরের শেষ দিনে অর্থাৎ ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পিকনিক করার কিছু সুন্দর মুহূর্ত। আমরা বড়রা মিলে সকলেই প্রায় পিকনিক করেই থাকি ।আমাদের বড়দের নিয়ে নানান সুন্দর মুহূর্ত তৈরি হয়। তবে এবছরের শেষের দিন পিকনিক হয়েছিল একটু অন্যরকম। আমার বর ছোট ছোট বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসে। তাই সে নাকি পাড়ার যত ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে তাদের সকলকে পিকনিক করার জন্য আগে থেকেই বলে রেখেছিল। কিন্তু একথা আমি একেবারেই জানতাম না। আমি মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে ফিরেছিলাম ডিসেম্বরের 30 তারিখ রাত্রিবেলায়। পরদিন সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠতেই দেখি পাড়ার সমস্ত বাচ্চারা এসে বাড়ির কলিং বেল বাজাচ্ছিল।
কিছুটা বিরক্তি হয়ে গেট খুলে ওদের জিজ্ঞেস করতে ওরা বলল শ্রীমন্ত দা বলেছে আজকে পিকনিক করবে বলে ছিল। তখন আমি ওদের একটু বকাবকি করলাম। যে শ্রীমন্ত দা পিকনিক করতে বলেছে তো ও কি করবে। কারণ উনি তখনও ঘুম থেকে ওঠেনি। যাই হোক বাচ্চাগুলো আমার বকা শুনে চলে গিয়েছিল। আবার ওখানেই ঘোরাঘুরি করে ছিল। খানিকক্ষণ পর আবারো ডাকতে এসেছিল আমার বরকে ।তখন বাজে প্রায় বেলা বারোটার কাছাকাছি বেজে গিয়েছিল। আমি তখন ওদের বলেছিলাম পরের দিন পিকনিক করতে। কারণ সেদিন অনেক বেলা হয়ে গিয়েছিল।আমার শ্বশুরমশাই ভীষণ রেগে গিয়েছিল। কারণ যদি বাচ্চাদের কথা দিয়ে থাকে তাহলে ওর সকাল সকাল ঘুম উঠে বাচ্চাদের সহযোগিতা করার দরকার ছিল। তখন আমি গিয়ে বকাবকি করে ঘুম থেকে তুলেছিলাম। তখন আমার বর বলল ও নাকি সকলকে বলেছিল সকলের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে তোলার জন্য ।আর বাদবাকি যা লাগবে ও দিয়ে দেবে।
কিন্তু অতটা বেলা হয়েছে, তবু ওদের কোন প্রস্তুতি ছিল না। তখন আমি সকলকে একজোট করে বলেছিলাম জিনিসপত্র কিছু কিছু কিনতে আর যা বাদবাকি লাগবে তা আমরা বাড়ি থেকে দিয়ে দিচ্ছি। এদিকে শ্বশুর মশাই তো ভীষণ রাগ ।উনি নাকি সমস্ত খরচ খরচা দিয়ে দেবে। পাড়ার বাচ্চাগুলো সকলে মিলে পিকনিক করবে কিন্তু রান্না করে দেওয়ার কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। যাই হোক সকলকে বলার পর সকলে সমস্ত কিছু রেডি করেছিল। এদিকে আমার বর মাংস এনে দিয়েছিল। কিন্তু সেদিন ছিল ৩১ শে ডিসেম্বর সকলেই পিকনিক করতে ব্যস্ত। তাই সেদিন আর মাংস পাওয়া যাচ্ছিল না। কোনমতে চেনা একজনের কাছ থেকে বেশি টাকা দিয়ে মাংস পাওয়া গিয়েছিল।
এদিকে সমস্ত জোগাড় করে রান্না করতে করতে প্রায়ই বিকেল চারটে বেজে গিয়েছিল। ছোট ছোট বাচ্চারা পিকনিক করতে পেরে তারা তো ভীষণ খুশি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে সকলে নাচানাচি শুরু করছিল। ওরা নিজেদের মতো করে সমস্ত কিছু অ্যারেঞ্জ করেছিল। সেদিন হয়েছিল মাংস, ভাত, দই, মিষ্টি। ছোট ছোট বাচ্চা গুলো আবারো বলছিল আরো কিছু রান্না করার নাকি কথা হয়েছিল ওদের মধ্যে ।তখন আমি ওদের বলেছিলাম আরো কিছু রান্না করতে করতে তো তোদের রাত লেগে যাবে খাওয়া-দাওয়া কখন করবি। যাইহোক আমি বাড়ি সমস্ত কাজকর্ম সেরে যখন ওদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও মাংস রান্না চলছিল ।ওদের কাছে খানিকটা সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লাগছিল।
এরপর সকলকে বসিয়ে সকল কে খেতে দেওয়া হচ্ছিল ।আমিও হাতে হাতে কিছু হেল্প করে দিচ্ছিলাম। ছোট ছোট বাচ্চাদের আনন্দ দেখে ভীষণ ভালো লাগছিল ।ওদের ওইটুকু আনন্দ দিতে পেরে বেশ ভালো লাগছিল ।এমনিতেই আমার শ্বশুরমশাই আমার বর দুজনে বাচ্চাদের ভীষণ ভালো লাগে। ওদের সাথে সারাক্ষণ আমার বর সহযোগিতা করেছিল। এছাড়া পাশের বাড়ির এক বোন ওদের সমস্ত রান্নাবান্না করে দিয়েছিল। আমরা সকলে মিলে খুব আনন্দ করে খেয়ে নিয়েছিলাম। পাশেই একটু ফাঁকা জমি রয়েছে সেখানেই সমস্ত কিছু অ্যারেঞ্জ করা হয়েছিল।বাচ্চা গুলোর আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখে ভীষণ ভালো লেগেছিল। বছরের শেষ দিনে ভীষণ মজা করে কাটিয়েছিলাম।
আজ এই পর্যন্তই ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।





This post is very heartwarming and full of real life emotions. I truly enjoyed reading how a simple plan turned into such a joyful picnic for children. Your storytelling feels natural and honest. Especially mix of surprise, small challenges and final happiness. The way your family and neighbors came together for kids is beautiful. Seeing the children’s joy on last day of the year made this post very special and memorable.