কৃষ্ণনগর থেকে ভোট দিতে গ্ৰামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত ২৯ এ এপ্রিল ছিল বিধানসভা ভোট ।আমরা কৃষ্ণনগর শহরে থাকি। এটা মোটামুটি আপনারা সকলেই জেনে থাকবেন। ভোটের সময় আমরা কৃষ্ণনগর থেকেই ভোট দিতে যাই। আমাদের ভোটার কার্ড কোন ডকুমেন্টস ট্রান্সফার করা হয়নি। আসলে গ্রামের বাড়ির মায়া কেউ ছাড়তে পারে না। তাই যে কোন অকেশন ,পুজো কিংবা ভোটের সময় সময়গুলোতে আমরা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কাটাতে ভীষণ পছন্দ করি। আর যেহেতু ঠাকুমা রয়েছেন ।তাই আমার শ্বশুর-শাশুড়ি কেউ চান না এখনই উনাদের কাগজপত্র কৃষ্ণনগরে নিয়ে আসতে। তাই প্রত্যেকবার ভোটের সময়তেই আমাদের চলে যেতে হয় গ্রামের বাড়িতে। তবে অন্যান্য বার আমরা ভোটের কয়েকদিন আগেই চলে যেতাম গ্ৰামের বাড়িতে।
কিন্তু এ বছরের ঠিক করা হয়েছিল একেবারে দিনের দিন যাবো গিয়ে ভোট দিয়ে আবারো সেদিনকে বাড়ি ফিরব। কারণ বাড়ি ফেলে রেখে যাওয়া এখন খুবই রিস্কের ব্যাপার ।কারণ কৃষ্ণনগরের প্রায়ই ঘরে ঘরে প্রায় চুরি করা শুরু হয়ে গেছে। আমি নিজেই গাড়ি ঠিক করেছিলাম। আর ভোটের দিন খাওয়া দাওয়া করে বেলা বারোটা নাগাদ বেরোনোর কথা ছিল। বেরোতে একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল। কারণ খাওয়া-দাওয়া সেরে সমস্ত কিছু গুছিয়ে তবে বেরোতে হয়েছিল ।এদিকে আমার বর আবার ভোটার কার্ড খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ওর জন্য আবার খানিকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। এ বছরে প্রচুর পুলিশ প্রশাসন দিয়েছিল রাস্তায় রাস্তায় তাই গাড়ি আবার বাড়ি পর্যন্ত আসতে দেয়নি। অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল ।আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূর হেঁটে যেতে হয়েছিল।
যাইহোক ১২ঃ৩০ টা থেকে একটার মধ্যে আমরা চারজন সাথে ছিল আমার বোন বেরিয়ে পড়েছিলাম ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে। আমার বোন বেশ কয়েকদিন আমার বাড়িতেই ছিল। ভোটের দিন একসাথে যাব বলেই ওকে আটকে রেখে দিয়েছিলাম। আমরা তো খুব ভালোভাবেই গাড়ি করে যাচ্ছিলাম ।এক জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে আমাদের সকলকে চেক করা হয়েছিল ।কারণ এ বছরে প্রশাসন ব্যবস্থা খুব কড়াকড়ি ছিল। তাতে আবার ভোটের দিন যাওয়া। যাইহোক আমার শ্বশুর-শাশুড়ি বর তিনজনেই গ্রামের বাড়িতে অর্থাৎ তরণীপুরে ভোট দেবার ছিল। আমিও তরণী পুরে নেমে ঠাকুরমা শাশুড়ির সাথে অনেকদিন দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। তার সাথে একটু দেখা করলাম। আমার বোন ও অনেকদিন ঠাকুর মাকে দেখেনি বোন একটু ঠাকুমাকে দেখল।
ঠাকুরমা তো আমাদের পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিল। কিন্তু ওখানে থাকলে তো আর হবে না ।আমাকে আবার ভোট দিতে হয়ে যেতে হবে আমার বাপের বাড়িতে। ওখান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটারের মতো রাস্তা।তাই ওখান থেকে আমি আবার রওনা দিয়েছিলাম বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে। শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি যেতে প্রায় ১৫ থেকে কুড়ি মিনিট সময় লাগে। সাথে বোন ছিল ।তাই গল্পে গল্পে সময়টা কেটে গিয়েছিল। এদিকে আবার বোনের বিয়ের সময় এগিয়ে আসছিল। তাই যেতে যেতেই মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কারণ বেশ কিছুদিন আমার বাড়িতে ছিল ।আবার সেদিন চলে গেল। কিন্তু আমার তো কিছুই করবার নেই ।তাই আমি আর বোন চলে গিয়েছিলাম বাড়িতে, মা অবশ্য আমাদের জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করছিল।
আজ এইখানেই শেষ করছি ।এর পরের মুহূর্ত অন্য কোন পোস্টে শেয়ার করে নেব। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


গ্রামের বাড়ির প্রতি মায়া বা টান,কমবেশি সবার থাকে তা কখনো কমেনা।আপনার লেখা পড়ে সেই বিষয় জানতে পেলাম।ভোট দিতে যাওয়ার সময় কিভাবে গিয়েছেন ও পরিবারের সাথে কাটানো মুহূর্ত বিশেষভাবে বর্ণনা করেছেন তা পড়ে ভালো লাগল। বিশেষ করে আপনার বোনকে নিয়ে আপনার আবেগটা ছিল হ্নদয়ছোয়া।পোস্টটা পড়ে ভালো লাগল এমন পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।ভালো থাকবেন।
Curated by : @lirvic
Thank you 🙏