দার্জিলিংয়ের ধৌলী শান্তি স্তূপে কাটানো মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব দার্জিলিং এ ঘুরতে গিয়ে আরেকটি সুন্দর জায়গা কাটানো সুন্দর মুহূর্ত। তৃতীয় দিনে আমরা শেষ ঘুরতে গিয়েছিলাম দার্জিলিংয়ে ধৌলী শান্তি স্তূপ দেখতে। কারণ এর পরে আর কোথাও সেদিন ঘুরতে যাওয়া হয়নি। সেদিন সকাল থেকে প্রচুর জায়গায় ঘুরে সকলেরই ভীষণ খিদে পেয়ে গিয়েছিল। তাই সকলে ওখান থেকে হোটেলে আসতে বাধ্য হয়েছিল ।এদিকে তৃতীয় দিন এক বেলায় ছিল ওদের ঘোরানোর শেষ চুক্তি। আর বিকেল বেলায় ছিল আমাদের মলে ঘোরাঘুরি করার জন্য প্রচুর সময়। যাইহোক আমরা যখন ধৌলি শান্তি স্তূপে এর কাছে পৌঁছেছিলাম তখন চারিদিকটা নিস্তব্ধ একেবারে নির্জন জায়গা। পাহাড়ি এলাকায় সব জায়গায় একেবারে নির্জন জায়গা।
তবে সেদিন তখনো ধৌলি শান্তি স্তূপে খুব একটা ভিড় ছিল না। আমরা হয়তো খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম । পৌঁছানো মাত্রই এত শান্ত মনোরম পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। শান্ত মনোরম পরিবেশে কোথাও থেকে ভেসে আসছিল মহালয়ার সুর। মনটা এক মুহূর্তের মধ্যে শান্ত হয়ে গিয়েছিল।সেদিন যে মহালয়া সেটা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। শুধু আমি বললেই ভুল হবে আমার সাথে যারা ছিল তারা হয়তো ঘোরার তাগিদে মহালয়ার দিনটা একেবারে মাথা থেকে উড়ে গেছে। অনেকেরই মহালয়ার দিন অনেক রকম প্ল্যান থাকে। আমার বিগত কয়েক বছর ধরে মহালয়া শোনা হয় না। কিন্তু এত স্নিগ্ধ পরিবেশে মহালয়া শুনতে একেবারেই অন্যরকম লাগছিল। এত বছর পরে এই বছরেই মহালয়া শুনে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহালয়া সুর যেন অন্যরকম লাগে, দূর থেকে ভেসে আসছিল মহালয়ার সুর। তবে পাহাড়ি এলাকায় যে কোন জিনিসের আওয়াজ দূর থেকে হলেও কানে ভেসে আসে। তবে এত জায়গায় ঘুরেছিলাম কিন্তু ওই জায়গাতে গিয়ে যেন মনটা আটকে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল ওখানেই দাঁড়িয়ে মহালয়া পুরো শুনি।
যাইহোক এরপরে আমরা সকলে মিলেই ঢুকে পড়েছিলাম ভেতরটা ঘোরাঘুরি করব বলে ।ওখানে অনেক রকমের ফুল গাছ ছিল। দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছিল ।এর পরে আস্তে আস্তে ভিতরে ঢুকে পড়েছিলাম ।ধৌলি শান্তির স্তূপটা পুরো সাদা রঙের তৈরি ।ওখানে রয়েছে বুদ্ধদেবের মূর্তি। অনেক গুলো সিঁড়ি তবে উপরে উঠতে হয়। অনেকে তো আবার সিঁড়ি বেয়ে উঠবে বলে নীচে দাঁড়িয়ে রইল ।কারণ ওখানে তাদের নাকি ভালো লাগেনি। অনেক জায়গায় ঘোরে সকলেই ক্লান্ত ছিল। কিন্তু যতই উপরে উঠি না কেন উপর থেকে পাহাড় দেখতে এছাড়াও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে আমার তো ভীষণ ভালো লেগেছিল। আমি তো যাবার সাথে সাথে জুতো খুলে উপরে উঠে পড়েছিলাম ।এদিকে ওখানে তখন কিছু মেরামতের কাজ চলছিল।
মানে ধৌলি স্তূপে কিছু মেরামতের কাজ চলছিল। চারিদিকে অনেকজন মিলেই রং করছিল। আমি তো পুরো রাউন্ড একবার ঘুরে নিয়েছিলাম। চারিদিকেই বুদ্ধদেবের বিভিন্ন রকমের মূর্তি ছিল। ছোটবেলায় ইতিহাস বইতে বুদ্ধদেব সম্পর্কে অনেক কিছুই পড়ে ছিলাম ।তবে দার্জিলিং এ বেশিরভাগ জায়গাতেই দেখেছিলাম বুদ্ধদেবের মূর্তি রয়েছে। ওখানে সকলেই বুদ্ধদেবকে ভগবান রুপে পূজা করেন। বুদ্ধদেবের মূর্তিগুলো সোনালী রং করা। চারিদিকটা ঘুরে ভীষণ ভালো লেগেছিল। উঁচু জায়গা থেকে পাহাড় দেখতে ভীষণ ভালো লেগেছিল ।এ ছাড়া পাহাড়ের গায়ে গায়ে অনেক ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য অপূর্ব ছিল। তবে আমরা যে সময় গিয়েছিলাম সেই সময় বেশিরভাগ বিদেশি লোকজন ওখানে ঘুরতে গিয়েছিল। আমরাই শুধুমাত্র বাঙালি ছিলাম। চারিদিকে ঘোরাঘুরি করে যে যার মত কিছু ছবি তুলে নিয়েছিলাম ।বেশিক্ষণ সময় কাটানো হয়নি ।কারণ সকলেই হোটেলে ফিরতে তাড়াহুড়ো লাগিয়ে দিয়েছিল। সেই দিনকার সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল ।সুন্দর মুহূর্ত কিছুটা অংশ আপনাদের মাঝে ভাগ করে নিলাম।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏