বাড়িতে পৌঁছে ভোট দিতে যাওয়ার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আগের পোস্টে আপনাদের মাঝে ভোট দিতে যাওয়ার খানিকটা পর্ব শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে তারপরের খানিকটা পর্ব শুরু করব। সেদিন বাড়িতে গিয়ে পৌঁছেছিলাম প্রায় দুপুর দুটো নাগাদ। অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে গিয়ে দেখি মা তো রেডি ভোট দিতে যাওয়ার জন্য। কারণ পাড়ার সকলেরই মোটামুটি ভোট দেওয়া কমপ্লিট হয়ে গিয়েছিল। আর যাদের দেওয়া হয়নি তারা চলে গিয়েছিল। পাড়াতে আমরাই চারজন বাকি ছিলাম ভোট দেওয়ার জন্য। আমি যাওয়া মাত্রই মা ঘরে তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল ভোট দিতে যাওয়ার জন্য। আমিও রাস্তার মোড়ে গাড়ি দাড় করিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম মায়ের সাথে কারণ ওখান থেকে অনেকটাই রাস্তায় যেতে হয়। অন্যান্য বার ভোটের সময় টোটো দেয় সেই টোটো ধরেই যাওয়া হয়। কিন্তু সেদিন দুপুরবেলায় টোটো পাওয়া যায়নি। তাই তিন বোন আর মা মিলে হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম।
ওখানে গিয়ে দেখি ভোটের লম্বা লাইন। অনেক ভিড় জমে রয়েছে। গিয়ে শুনি ওখানে নাকি ভোট দেবার মেশিন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই লাইন জমে গিয়েছিল। এদিকে আবার ফোন নিয়ে ঢুকতে দিচ্ছিল না। তাই ফোন এক জায়গায় রেখে তবে ঢুকতে হচ্ছিল ।লাইনে প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্য। সত্যিই একটা ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ কোথা থেকে চলে আসে শুধুমাত্র একটা ভোটের জন্য। যাইহোক বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ঢুকে পড়েছিলাম ভোট দেওয়ার জন্য। আমি মা আর সেজ বোন প্রথমে ঢুকেছিলাম ।তারপরে ছোট বোন একাই ঢুকেছিল। ভোট দেওয়াটা নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপার। যে যে দলকে পছন্দ করে সে সেই দলকেই ভোট দেয়। আমিও প্রথম থেকেই একটা নির্দিষ্ট দলকে পছন্দ করতাম। আমিও সেই দলকেই ভোট দিয়েছিলাম।
যাইহোক ভোট দেওয়া হয়ে গিয়েছিল ।এরপর আবারো চারজন মিলে মজা হাসি ঠাট্টা করতে করতে বাড়ি ফিরছিলাম। আমি তো যেখানেই যাই সেখানেই সকলকে নিয়ে মজা করতে ভীষণ পছন্দ করি। মাঝে মাঝে এতটাই মজা করি যে আমার প্রতি সকলে বিরক্ত হয়ে যায়। এই করতে করতে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎই রাস্তা তে একটা দাদুর সাথে দেখা হয়। মা দাদুকে বলে আমার বড় মেয়ে কোথা থেকে ভোট দিতে এসেছে। মজা করেই বলতে থাকে। গাড়ি ভাড়া টা দিয়ে দেবেন। দাদু আবার আমাদের রাস্তার মোড়ে দাঁড় করিয়ে রেখে একটা দু লিটারের ঠান্ডার বোতল কিনে দিয়েছিল। হবে ভোটের দিন ওয়েদারটা ভালো হলেও আমরা যখন ভোট দিতে পৌঁছেছিলাম তখন হালকা রোদ উঠেছিল। হালকা ঝড় উঠেছিল।
আমার ভীষণ জল পিপাসাও পেয়ে গিয়েছিল। দাদু যেহেতু ঠান্ডার বোতলটা কিনে দিয়েছিল ।তাই আমরা একটু করে হলেও গলা ভেজাতে পেরেছিলাম। গরমের মধ্যে একটু ঠান্ডা খেয়ে আরাম লেগেছিল।একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম।আমাদের বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ১৫ মিনিটের রাস্তা ছিল। গ্রামের রাস্তা সরু গলি দিয়ে পৌঁছাতে হয়। তাই আমি আর সেদিন গাড়িটা সাথে করে নিয়ে যায়নি, কোথায় গাড়ি নিয়ে গিয়ে রাখবো আবার পুলিশে কি বলবে না বলবে সেই ভেবেই হাঁটতে হাঁটতে যেতে হয়েছিল। ভোট দিয়ে তো আমরা ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। এরপর বাড়িতে এসে শুরু হয়েছিল মায়ের আদর। এর পরের মুহূর্তটা অন্য পোস্টে শেয়ার করে নিচ্ছি।
আজ এইখানেই শেষ করছি ।আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Curated by: @ahsansharif
Thank you 🙏