টাইগার হিল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় এভারেস্টের চূড়া দর্শন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে টাইগার হিল দর্শনের পরের অভিজ্ঞতা টুকুনি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। যাই হোক যে যার মত সেদিন আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম ।কারণ কেউ উঠতে পারছিল কেউ আবার অর্ধেক রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ছিল ।এই করে করে আমি খানিকটা উঠে পড়েছিলাম। এদিকে যে কাকু কাকিমা গিয়েছিল তাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তাই তারা অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত উঠে আবারো নেমে পড়েছিল। এদিকে আমিও যে উঠতে পারছিলাম এমনটা নয় ।আমাকে ভাই টানতে টানতে ওপরে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। নিয়ে যাবার পর সে তো ওপরে প্রচন্ড ভিড় মানুষ দেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এদিকে উপরে আমারও নিশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল। ওখানে ওঠার পর আরো কিছুটা উঠতে হবে তবেই সেখান থেকে নাকি কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় এছাড়াও এভারেস্টের চূড়া দেখা যাবে।
যাইহোক অনেক কষ্ট করে উপরে উঠেছিলাম এরপর চারিদিকে কি অপূর্ব দৃশ্য যেন স্বপ্নের মত লাগছিল। এ দৃশ্য শুধুমাত্র টিভিতে মোবাইল ফোন ছাড়া সামনাসামনি দেখতে পারব তা কল্পনায় ছিল না। এদিকে তো দেখছি সকলেই ছবি তুলতে ব্যস্ত। আমিও কয়েকটা ছবি তুলে নিয়েছিলাম । এরপর কুয়াশা সরতে থাকে। কুয়াশা সরে যাওয়ার পর দূর থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় এছাড়া টাইগার হিলের পাহাড়গুলোর সমস্ত দেখতে পাচ্ছিলাম। সেদিনও ছিল প্রচন্ড ঠান্ডা। কারণ তখনও রোদ ওঠেনি। যখন ভোরের অন্ধকার সরে হালকা আলো দেখা যাচ্ছিল। এরপরে প্রথমে ভাবছিলাম কাঞ্চনজঙ্ঘার পিছন দিয়ে হয়তো সূর্য উঠবে। কারণ কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের চূড়াগুলো আগুনের মতো লাল হয়ে গিয়েছিল।মানুষের কত আনন্দ উত্তেজনা ।এরপরে দেখি টাইগার হিল পাহাড়ের পিছন দিয়ে সূর্য হালকা আলো দেখা যাচ্ছিল ।এদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের চূড়াগুলো আগুনের মতো লাল লাল হয়ে গিয়েছিল আমি তখনো অবাক দৃষ্টিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম ।ভাবছিলাম সূর্যটা হয়তো ওখান দিয়েই উঠবে। অনেকে তো দেখছি ক্যামেরা ধরে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের দিকে।
এরপরে হঠাৎ করেই টাইগার হিল পিছন দিক দিয়ে সূর্য আস্তে আস্তে উঠতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল কেউ যেন সূর্যটাকে হাত দিয়ে ঠেলে দিল উপরে ওঠার জন্য। এ দৃশ্য সত্যিই ভুলবার নয়। সূর্য ওঠার সাথে সাথে মানুষের কত উত্তেজনা। মানুষ আনন্দে চিৎকার করে উঠছে। কারোর হাতে ফোন ছবি তোলার জন্য, কেউবা ভিডিও করার জন্য আবার কেউ বা বাড়ির লোকদের ভিডিও কলে এই দৃশ্য দেখাচ্ছে। যখন সূর্য উঠল তখন চারিদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একেবারে এক মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল।তবে অনেকেই দার্জিলিঙে বেড়াতে যায়। কিন্তু সবাই যে টাইগার হিলের এই সূর্য ওঠা দৃশ্যটা দেখতে পায় এমনটা নয়। সেদিন হয়তো আমাদের ভাগ্য খুব ভালো ছিল ।তাই আমরা এই দৃশ্য সামনে থেকেই অনুভব করতে পেরেছিলাম। যাওয়ার সময় যে গাড়িওয়ালা আমাদের নিয়ে গিয়েছিল সেও বলছে, আগের দিন যারা গিয়েছিল তারাও নাকি দেখতে পাইনি।
সেদিন টাইগার হিলের সূর্য ওঠা এছাড়াও কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় ,এভারেস্টের চূড়া সমস্ত কিছু দর্শন করে সেখানে বেশ খানিক কোন সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল। তবে তবে এভারেস্টে চূড়া অনেকটা দূর থেকে দেখেছিলাম তাই ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ওখানে ঘোরার পর আবারো চলে গিয়েছিলাম অন্য আরেক জায়গায় ঘোরার জন্য। সেই মূহূর্ত অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানে শেষ করছি ।আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



