ঈশার বন্ধুত্বের anniversary উপলক্ষে খাওয়া -দাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
দিনটা ছিল 4 th October। সেদিন ছিল ঈশার আর ওর বন্ধুত্বের Anniversary।প্রত্যেক বছর এই দিনটাতে আমাদের কোথাও ঘুরতে কিংবা বিভিন্ন খাবার খাওয়ানোর প্ল্যানিং থাকে। তবে প্রত্যেক বছরে আমি যেতে পারি না। এ বছরে ঈশা আর তার এক বন্ধুর বন্ধুত্বের চতুর্থ তম বছর পূর্ণ হল। বন্ধু বলতে কে সেটা হয়তো আপনারা বুঝেই ফেলেছেন। তাই নতুন করে কিছু বোঝাবার দরকার নেই। বেশ কিছুদিন কেটে গেছে আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়নি। তাই ভাবলাম আজকে আপনাদের মাঝে সেই সুন্দর দিনের মুহূর্তটি শেয়ার করি। তবে আমাদের সময় এত কিছু আমরা কখনোই সেলিব্রেশন করিনি ।এগুলো সকলেই ব্যক্তিগত ব্যাপার। যে যেভাবে নেয় সেভাবে সেলিব্রেশন করে। তখন হয়তো আমরা চাইনি তাই আমাদের সুন্দর দিনটি সেলিব্রেশন করা হয়নি। সময়ের সাথে সাথে সমস্ত কিছুই পরিবর্তন হয়। ঈশা প্রত্যেক বছরই আমার কাছে বায়না করে ওদের সাথে যাবার জন্য ।কিন্তু কোন বছরে আমি সময় করে উঠতে পারি না । নয়তো বাড়িতে থাকি না।তাই এ বছরে আগে থেকেই আমাকে বলে রেখেছিল তাদের সাথে যাবার জন্য। সেইমতো আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ সুন্দর সময়গুলি খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায় ।হয়তো হাজারো চাইলে আমরা সেই মুহূর্তগুলো আর ফিরে পাই না। ওর সমস্ত প্ল্যানিং সবকিছু আগে আমার সাথে শেয়ার করে। এইরকম বন্ধুত্ব পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সেদিন আরো এক সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী ছিলাম আমি।
সেদিন ছিল আমাদের কৃষ্ণনগরে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল ।তাই আমরা দুজনে বিকেল বেলাতে চলে গিয়েছিলাম আমাদের বাড়ির কাছাকাছি একটি রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টের নাম হল জোনাকি। প্রত্যেক বছর ওরা জোনাকিতে সেলিব্রেশন করে ।এখন যুগের সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হচ্ছে । এখনকার দিনে প্রত্যেক বছরই যে কোন কোন কিছু নিয়ে সেলিব্রেশন করা শুরু হয়ে গেছে। মানুষ এখন আনন্দ করতে আর খেতে ভীষণ ভালবাসে ।যাইহোক সেদিন আমি আর ঈশা দুজনে প্রথমে পৌঁছে গিয়েছিলাম রেস্টুরেন্টে। এরপর ওর বন্ধু বেশ খানিকক্ষণ পর চলে এসেছিল। কিন্তু ওই যে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় হাজার কৈফিয়ৎ দিতে হয়। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ওর বাবা দুজনকেই বকাবকি করেছিল ।মানে আমাকে আর ঈশাকে।
ওখানে যাওয়া মাত্রই প্রথমেই ওরা দুজনে কেক কেটে সেলিব্রেশন করল। আমি ওদের মাঝে শুধু ছবি তোলার জন্য বসে থাকি। ওদের দুষ্টু মিষ্টি সম্পর্ক আমার দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। কেক কেটে সেলিব্রেশন করা হয়ে গেলে এরপর সকলের পছন্দমত খাবার অর্ডার দিয়েছিল। বেশ খানিকক্ষণ পর খাবারগুলো আমাদের সার্ভ করে দিয়েছিল। আমরা তিনজনে মিলে খুব আনন্দ করে খাবার খেয়েছিলাম । অনেক রকমের খাবার অর্ডার করা হয়েছিল।শেষে এত পরিমানে খাওয়া হয়ে গিয়েছিল যে খাবারগুলো শেষ করতে না পেরে আবারও বাড়ির জন্য প্যাকিং করে নিয়েছিলাম। এদিকে ঈশার মা বাড়ি থেকে বারে বারে ফোন করছিল। কারণ কাউকে সেভাবে কিছু বলে যাওয়া হয়নি।।
এদিকে ওই ভাইটি বায়না করছিল আমার কাছে চলো দিদি আমরা গিয়ে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল দেখবো। কিন্তু বাড়িতে যেহেতু বলে যাওয়া হয়নি। তাই ওখানকার সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়ে আমাদের সোজা বাড়িতে চলে আসতে হয়েছিল। সেদিন সত্যিই খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম ।ওদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক যেন সারা জীবন এই রকম ভাবেই থাকে এই কামনায় করি ।আমাদের বাড়িতেও আমরা যে কোন কিছু হলেই কোন প্ল্যান ছাড়াই সেলিব্রেশন শুরু করে দিই। এইভাবে মজা আনন্দ করে কাটাতে দিনগুলো বেশ ভালো লাগে।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏