Darjiling এর Lapcha jagat এ কাটানো কিছু সুন্দর সময়
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব দার্জিলিংয়ের আরেকটি সুন্দর জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত। পছন্দের যেকোনো জায়গাতে বেড়াতে গেলে সেটার মুহূর্ত অবশ্যই সুন্দর হবে। আর তাতে যদিও বা দার্জিলিং এর মত জায়গা হয়। এই প্রথমবার আমি গিয়েছিলাম আমার পছন্দের জায়গা দার্জিলিংয়ে। এতদিন ফোনে দেখেছিলাম বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে সমস্ত জায়গা চোখে পড়তো। কিন্তু সামনে থেকে দেখে সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই অপূর্ব। এরই মধ্যে একটি জায়গা হল দার্জিলিং এর Lepcha jagat। এই জায়গাটার ভিডিও আমি প্রায়ই দেখতাম। ওই পাইন গাছ গুলো অনেক জায়গাতেই ছিল। যেমন মহাকাল মন্দির দর্শন করতে গিয়ে সেখানেও চোখে পড়েছিল পাইন গাছের সারি বদ্ধ।এ ছাড়া ধৌলিস্তূপ দর্শন করতে গিয়ে সেখানেও চোখে পড়েছিল। কিন্তু ওই পাইন গাছের জায়গাটা একটু কুয়াশা থাকলে দেখতে আরো সুন্দর লাগে। অনেক সময় বৃষ্টি হয়। কিন্তু আমাদের কোনটাতেই পড়তে হয়নি।
আমরা যখন দার্জিলিঙে Lapcha jagat পৌঁছে ছিলাম তখন প্রায় দুপুরের কাছাকাছি। রোদ উঠে গিয়েছিল। তাই কুয়াশা ভাবটা একেবারেই ছিল না। আমরা যে কয়েকদিন ছিলাম একটা দিন ও বৃষ্টি হয়নি।একেবারেই চারিদিকটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল। তবে সেদিন মহাকাল মন্দির দর্শন করতে গিয়েছিলাম তখন পাশেই ওই পাইন বাগানের গাছগুলোর ভিতরে কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। তখন আরো ভালো লাগছিল। সেদিন অন্য জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার তাড়া ছিল। তাই আর ছবি তোলার সুযোগ পায়নি।আমরা যখন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতাম তখন রাস্তার পাশে পাইন গাছের বাগানে কুয়াশায় ঢাকা থাকতো।যাইহোক ওখানে গিয়ে প্রথমেই টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকে পড়েছিলাম। ঢুকে চারিদিকেই তো সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ লাগানো। ফুল দেখলে মনটা এমনি ভালো হয়ে যায়।আর প্রত্যেক টা গাছে রং বেরঙের ফুল ফুটে আলো হয়ে ছিল।এরপর সিঁড়ি বেয়ে চলে গিয়েছিলাম আরো উঁচুতে ।যেখানে পাইন গাছ গুলো সারিবদ্ধভাবে রয়েছে। সকলে যে যার মত ছবি তোলা শুরু করল। কারণ যখন স্বপ্ন সার্থক হয় তখন নিজেরই ভীষণ ভালো লাগে। ছবি তুলে শেষ করা যাবে না।
বেড়াতে যাবার আগে পর্যন্ত বুঝিনি যে আমি ওই জায়গাতে বেড়াতে যাব। এমনকি ছবি তুলব। ওখানে গিয়ে যতই উপরে উঠছিলাম ততই প্রাকৃতিক দৃশ্য গুলো দেখতে অপূর্ব লাগছিল। এছাড়া ওখানকার Tree house থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার দৃশ্যটা অপূর্ব লাগছিল। ক্ষনিকের জন্য হলে ও মনে হচ্ছিল স্বপ্নের জগতে রয়েছি।Tree house থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা কে দেখছিলাম আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম।Tree house থেকে নীচের সমস্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য অপূর্ব ছিল।মাঝেমধ্যে আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা মেঘে ঢেকে গিয়েছিল।এই অপূর্ব দৃশ্য কাউকে বলে বোঝানো যাবে না।কি সুন্দর পাইন বাগানের লম্বা লম্বা গাছগুলো সারিবদ্ধ ভাবে লাগানোর রয়েছে। এছাড়াও আমরা রাস্তার পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম তখনও রাস্তার ধারে ধারে সমস্ত পাইন গাছগুলো একইভাবে লাগানো রয়েছে। আমরা অনেক উঁচু রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেছিলাম। কিন্তু রাস্তার পাশ থেকেই পাইন গাছ গুলোকে আরো উঁচু দেখতে লাগছিল।
অনেকে পাইন বাগানের আরও উঁচুতে গিয়ে ছবি তুলছিল। আমি আর উঁচুতে উঠিনি। এক জায়গাতে বসে ছিলাম ।কারণ চারিদিকে অনেক ঘোরাঘুরি করে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এদিকে অচেনা কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে ঘুরতে গিয়ে ওই বাগানে একজন বন্ধুকে হারিয়ে ফেলেছিল। এমনকি ওই বাগানের মধ্যে কোনো লোকেশন ট্র্যাক করতে পারছিল না। অনেকেই অনেক খোঁজাখুঁজি করছিল। Lapcha jagat গিয়ে Tree house এ ওঠার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছিলাম। ওখানে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে ভীষণ আনন্দ পেয়েছিলাম। সকলে মিলে ভীষণ মজা করছিলাম। অনেক কিছুই উপভোগ করতে পেরেছিলাম।আনন্দের কিছুটা মূহুর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এখানেই শেষ করলাম। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏