হঠাৎ করেই বিয়ে বাড়িতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
দেখতে দেখতে অগ্রহায়ণ মাস শেষ হতে চলল। অগ্ৰহায়ণ মাস শুরু হলেই নিজের বিয়ের সময় টা মনে পড়ে যায়। গতকাল থেকে ভালোই ঠান্ডা পরা শুরু হয়ে গেছে। পুরো অগ্রহায়ণ মাস জুড়েই বিয়ের মরশুম চলে । শীতকালটা সবদিক থেকেই সুবিধে। তাই সকলেই এই মাসটা বিয়ের মাস হিসেবে বেছে নেয়। এই শীতের মৌসুমে হঠাৎ করেই প্রথম বিয়ে বাড়ি যাওয়া।আগের পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম বিয়ে বাড়ি কেনাকাটা করতে যাওয়ার মুহূর্ত। আপনাদের মাঝে এটাও শেয়ার করেছিলাম আমাদের বেশ কিছুদিন ধরে অশৌচ চলছে। সেই কারণে প্রথম থেকে ইচ্ছে ছিল বিয়ে বাড়িতে না যাবার। কিন্তু পরিবারের গুরুজনদের কথা মেনে চলতে হয় ।জেঠু বার বার নির্দেশ দিচ্ছিলেন সকলকে একত্রিত হয়ে বিয়ে বাড়ি উপস্থিত হবার জন্য। জেঠুর কথামতো আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে সকলেই আসার জন্য রাজি হয়েছিল। এছাড়া আমার ছোট কাকা শ্বশুর বার বার আমাকে যাওয়ার জন্যই তার ইচ্ছে প্রকাশ করছিল। এর সাথে শশুর শাশুড়ি তো রয়েছেই। শশুর বাড়ির পরিবারের প্রত্যেকেই আমাকে ভীষণ ভালোবাসে । এইরকম পরিবার পাওয়া হয়তো ভাগ্যের ব্যাপার।
সকল গুরুজনদের কথা একেবারেই আমি ফেলতে পারিনি। তাই রাত ন'টা নাগাদ রেডি হয়ে নিয়েছিলাম বিয়ে বাড়ি যাবো বলে। এদিকে সন্ধ্যাবেলা তে শ্বশুর-শাশুড়ি দুজনে চলে গিয়েছিল বিয়ে বাড়ি। বিয়ে বাড়ি গিয়ে কোনো খাবার খাব না। তাই বাড়ি থেকেই রাতে খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম। আমি আর আমার বর রাত দশটা নাগাদ দুজনে বেরিয়ে পড়েছিলাম বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় মিনিট দশেকের রাস্তা। তাতে আবার রাস্তায় জ্যাম ছিল। ওখানে বেশ খানিকক্ষণ আটকে পড়েছিলাম। এরপর চলে গিয়েছিলাম সরাসরি বিয়ে বাড়িতে। বিয়ে বাড়ি আমাদের খুবই চেনা ছিল।তাই চিনতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি।
বিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই ডেকোরেশন দেখে বারবার মনে হচ্ছিল এত সুন্দর সাজিয়ে তুলেছে আমি নিজেই সেজেগুজে বিয়ে বাড়িতে যায়নি। যখন বিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম তখন বিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যের লগ্নেই চলছিল বিয়ে। এদিকে আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে যারা এসেছে প্রত্যেকেই খুব সুন্দর করে সেজেগুজে বিয়ে বাড়িতে এসেছিল। তাদের দেখে আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম। শাশুড়ি মায়ের উপর ভীষণ রাগ দেখিয়ে ছিলাম ।কারণ আমরাই হয়তো খুব ভালোভাবে অশৌচ পালন করছি। সকলেই যে যার মত সুন্দর পোশাক পড়ে সেজেগুজে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিল। ওদের মধ্যে নিজেকে একদমই মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। তাই সকলের কাছ থেকে দূরেই ছিলাম।
তবে আমাকে দেখে জেঠু ,কাকু, ঠাকুমা ভীষণ খুশি হয়েছিল ।এ ছাড়া বিয়ে বাড়ি তে সকলেই আমাকে দেখে ভীষণ খুশি। খানিকক্ষণ যেখানে বিয়ে হচ্ছে সেখানে কাটানোর পর। আমাদের জন্য নিরামিষ খাবারের অ্যারেঞ্জ করেছিল। তাই এখানে সকলে মিলে খেতে চলে গিয়েছিলাম। তবে আমি যেহেতু বাড়ি থেকে খেয়ে গিয়েছিলাম তাই আর খাইনি। বাদবাকি সকলে মিলে নিরামিষ খাবার খেয়ে নিয়েছিল। এদিকে খোলা মাঠে বিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছিল তাই খুব ঠান্ডা পড়ছিল। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর আমরাও যে যার মত বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বিয়ের জায়গা পুরো ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। একধারে বিয়ের তথ্য গুলো পড়ে ছিল। সকলেই সেগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া বন্দোবস্ত করছিল। আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে মোট তিনটি গাড়ি এসেছিল।
সকলে যে যার মত বাড়িতে রওনা দিয়েছিল তখন বাজে ঘড়ির কাটায় ঠিক রাত বারোটা। আমি আর আমার বর দুজনে মিলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম ।আমাদের বাড়ি আসার আগেই আমার শশুর শাশুড়ি দুজনে বাড়ি চলে এসেছিল। নিজে সেজেগুজে যেতে না পারলেও বিয়েতে সকলকে আনন্দ করতে দেখে সুন্দর মুহূর্ত দেখে নিজের ভীষণ ভালো লেগেছিল। যাইহোক এখনো দুটো বিয়ে বাড়ি রয়েছে জানিনা যেতে পারব কিনা।
আজ এখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




