ননদের শ্বশুরমশাই এর বাৎসরিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন।আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আমাদের বাঙ্গালীদের মধ্যে যেমন বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। ঠিক তেমনি সকলের মধ্যে যেন বারো মাসে যে কোন নেমন্তন্ন চলতেই থাকে। তবে এবছরের শীতকালে যেন বেশি নিমন্ত্রণ খেয়েছি। অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছরে অনেকটাই বেশি নিমন্ত্রণ ছিল।গত 28 শে ডিসেম্বর রবিবার ছিল আমার এক ননদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ। আমাদের পরিবারের তরফ থেকে কারোর বাড়িতে নিমন্ত্রণ হলে আমরা সেটা রক্ষা করার চেষ্টা করি। আসলে আমাদের পরিবারের সকলের মধ্যে একটা খুব ভালো ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আজকালকার দিনে এইরকম বন্ডিং দেখা যায় না বললেই চলে। সকলের সাথে সকলের ভালো ব্যবহার সুন্দরভাবে জীবন বেঁচে থাকার থেকে আর বেশি কিছু হতেই পারে না। এখনকার মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই হিংসা, ঝগড়া এইসব শুরু হয়ে গেছে। পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা ঐক্যতা দেখা যায় না বললেই চলে।
তবে আমি এই পরিবার এসে বুঝতে পেরেছি মানুষের মধ্যে বন্ডিং থাকা কতটা জরুরী। দিদি(ননদ) যখন নিমন্তন্ন করতে এসেছিল তখনই বাড়িতে বলে গিয়েছিল আমরা এই অনুষ্ঠানটা করছি আমাদের গ্রামের বাড়ির সমস্ত লোকজন একত্রিত হয়ে একটু মজা আনন্দ করবো। এ ছাড়া গল্প গুজব করব। দিদির বাড়ি কৃষ্ণনগর থেকে প্রায় অনেক কিলোমিটার যেতে হয় বগুলা নামে এক জায়গায়। সেখান থেকে কৃষ্ণনগরে বাড়ি কিনেছে। দিদির শাশুড়ির ভীষণ ইচ্ছা কৃষ্ণনগরের বাড়িতে দিদি শ্বশুর বাড়ির সমস্ত লোকজনকে নেমন্তন্ন করা হোক। আমাদের এই পরিবারের মেলবন্ধন আমার ভীষণ ভালো লাগে ।তাই আমি সর্বদাই চেষ্টা করি সমস্ত অনুষ্ঠানে নিজেকে অ্যাটেন্ড রাখতে।
আসলে অনুষ্ঠানটা ছিল দিদির শ্বশুরমশাই এর বাৎসরিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটা দুঃখের হলেও পরিবারে সকলে একত্রিত হওয়ার মজাই আলাদা।এই সুযোগে দিদির বাড়ি সকলে আসতে পারবে। এছাড়া চাকরি সূত্রে পরিবারের সকলে সারা বছর ব্যস্ত থাকে।সেদিন দুপুরবেলায় শশুর শাশুড়ি আগেই চলে গিয়েছিল। কারণ তরণি পুর থেকে অনেক লোকজন এসেছিল ।তাদের সাথে গল্প গুজব করবে বলে। এছাড়াও দিদির বাড়ির পাশেই জেঠু থাকেন। ওই জেঠুর সাথে অনেকেরই অনেকদিন দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। তাই শ্বশুর-শাশুড়ি সকাল সকাল চলে গিয়েছিল। আমি আর আমার বর একটু দেরি করে গিয়েছিলাম। আসলে আমাদের সব জায়গাতেই যেতে দেরি হয়ে যায়। তাই শ্বশুর-শাশুড়ি আমাদের সঙ্গ একদমই নিতে চান না। সেদিন প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছিল ।আমি আর আমার বর দুপুর আড়াইটা নাগাদ টোটো করে বেরিয়ে পড়েছিলাম দিদির বাড়ি যাবার জন্য।
আমাদের বাড়ি থেকে দিদির বাড়ি প্রায়ই অনেকটাই। এর আগে কখনো আমি দিদির বাড়ি বা জেঠুর বাড়ি যায়নি। এই প্রথমবার আমাকে দেখে সকলেই ভীষণ খুশি ।কারণ আমি এখনো বাড়ির নতুন বউ ।আমার পরে এখনো কেউ নতুন বউ হয়ে আসেনি। জেঠু ভীষণ অসুস্থ বিছানায় শুয়ে থাকেন। উনি আমাকে সেই বিয়ের সময় দেখেছেন ।এক ঝলক দেখাতেই আমাকে চিনে ফেলেছিলেন। আমাকে দেখতেই উনি নিজে থেকে বলল তুমি শ্রীমন্তর বউ।আমার বরের নাম শ্রীমন্ত।শশুর বাড়ির লোকজন আমাকে ভীষণ ভালোবাসে ।দেখামাত্র আমাকে বলল আমাদের লক্ষী বউ। যাই হোক এই কথাটা শুনে খুশি না হয়ে থাকা যায় না। প্রত্যেক মেয়ে চাই শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে থেকে এই কথাটা শোনার জন্য।জেঠু বড় মার সাথে খানিকটা সময় কাটানোর পর চলে এসেছিলাম আবার দিদির বাড়িতে সেখানে দুপুরে খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এদিকে আমাদের গ্রামের বাড়ির সমস্ত লোকজন একজোট হয়ে তাদের নিজেদের গল্প শুরু করে দিয়েছিল। আমরা সকলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম। গ্রামের বাড়ি থেকে মোটামুটি সকলেই এসেছিল। সকলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল। এরপর খাওয়া দাওয়া সেরে আবারো সকলের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম ।মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়ির সকলের সাথে এইরকম সময় কাটাতে ভীষণই ভালো লাগে।
আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏