হঠাৎ করেই ঘুরতে বেড়িয়ে

in Incredible Indiayesterday

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG-20260821-WA0000.jpg

আজ রবিবার। রবিবার ছুটির দিনে সকলেই এদিক-ওদিক সুযোগ পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে। তবে আমি যে শুধু ছুটির দিন পেলেই বেরিয়ে পড়ি এমনটা নয়। যখন তখন সঙ্গী পেলেই হঠাৎ প্ল্যান করেই বেরিয়ে পড়তে হয়। সেদিন ছিল শুক্রবার। বিকেলে সমস্ত কাজকর্ম সেরে দিদার বাড়িতে যাব বলে রেডি হচ্ছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঈশা ফোন করে বলল বৌদি তুমি কোথায় আছো? আমি তো বললাম আমি এখনো বাড়িতেই রয়েছি। ও তখনই আমাকে বলল চলো কাছে পিঠে কোথাও থেকে ঘুরে আসি। সত্যি কথা বলতে সারাদিন সংসারের কাজ করতে করতে যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। প্রত্যেকটা দিনই চার দেয়ালের মধ্যেই কেটে যায়। তাই মাঝে মধ্যে বেরোতে পারলে ভালোই লাগে।আমার একমাত্র সঙ্গী বলতে ঈশার সাথে মাঝেমধ্যে টুকটাক বেরোনো হয়। তাই সময় সুযোগ পেলেই ও যখন বায়না ধরে আমিও বেরিয়ে পড়ি।

IMG-20260821-WA0003.jpg

সেদিন ঘড়িতে তখন বাজে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা। সন্ধ্যা সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তাই ওর বাবা মা ওকে একা ছাড়ছে না। আমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে ।তাই আবারও খুব তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিয়েছিলাম। আমাদের বাড়ির কাছে কারবালা মাঠ বলে একটা জায়গা রয়েছে। বাড়ি থেকে তিন চার মিনিটের হাঁটা পথ ।সেখানে বিশাল বড় একটা মাঠ রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন রকমের খাবারের দোকান বসে। বিকেলে ওখানে অনেকেই সময় কাটায় আবার হাঁটাহাঁটি করে।প্রথমে ওখানেই যাবে বলেছিল। যাই হোক আমি ঈশা ঈশান তিনজনে বেরিয়ে পড়েছিলাম। কোথায় যাব তখনও ঠিক ছিল না। তিন জনেই হাঁটতে শুরু করেছিলাম।এদিকে পুতুল পুট্টির মোড় থেকে টোটো তে উঠে পড়েছিলাম। কিন্তু কোথায় যাব তখনও টোটোয়ালাকে বলা হয়নি। খানিকটা এগিয়ে বলেছিলাম জোনাকি রেস্টুরেন্টে যাব। এর আগে আপনাদের মাঝে জোনাকি রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে অনেক কিছু শেয়ার করে ছিলাম। মাঝে মধ্যেই ওখানে যাওয়া হয়।

IMG_20260823_175015.jpg

আসলে ওই রেস্টুরেন্টটা অনেকটাই কাছে । তাই বেশিরভাগ সময়তে ওখানেই যাওয়া হয়। রেস্টুরেন্টটা খুব নিরিবিলি জায়গাতে ।অনেক দিনের পুরাতন বাড়ি সেটাকে মেরামত করে ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্ট তৈরি করেছে। ওখানে খুব ভিড় হয়।ওখানকার খাবার গুলো খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। টোটোওয়ালা আমাদের কথামতো ওখানে নামিয়ে দিল। এরপর আমরা ভিতরে ঢুকে পছন্দ মতো কিছু খাবার অর্ডার করে দিয়েছিলাম। আমার তো আবার বাইরের খাবার খাওয়া অভ্যস্ত নয়। তাই ঈশাকেই বলেছিলাম ওর পছন্দ মতো কিছু অর্ডার করার জন্য। সেদিন সমস্ত কিছু ওই খায় য়ে ছিল। কোন আনন্দে খাওয়া নো হয়েছে তা আমার জানা নেই।প্রথমে অর্ডার করেছিল বার্গার আর নুডুলস। আমার আবার ওখানকার নুডুলস টা খেতে ভীষণ ভালো লাগে। যাইহোক চারজন মিলে সমস্ত কিছু ভাগ করে খেয়ে নিয়েছিলাম।

প্রথমেই সকলের খানিকক্ষণ সময় গল্প করে অনেকটা মজা করেই কাটিয়েছিলাম। কিছু ছবি তুলে নিয়েছিলাম।এরপর খাবার দেওয়া শুরু করলে সমস্ত কিছু খেয়ে নিয়েছিলাম ।এরপর ঈশার বন্ধু বায়না করলো মোমো খাবে। তাই তার জন্য আবার চিকেন ফ্রাই মোমো অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। তবে মোমো খেতে খুব একটা ভালো লাগেনি। যাই হোক ওখানকার সমস্ত খাবার খেয়ে আবারো চারজন মিলে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম। তবে ফেরার পথে অনেকটা পথ হাঁটতে হাঁটতে রওনা দিয়েছিলাম। সেদিন সুন্দর একটা সন্ধ্যা কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল।বাড়ি ফিরতে রাত আটটা বেজে গিয়েছিল।জীবনের প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটা মুহূর্ত যদি এইরকম আনন্দ করে কেটে যেত তাহলে হয়তো জীবনটা আরো সুন্দর হতো।


আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
 yesterday 

Thank you 🙏

Loading...