মন্ডপ থেকে সরস্বতী প্রতিমা বিসর্জনের জন্য প্রস্তুত করার দৃশ্য দেখতে যাওয়া

in Incredible India21 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছে আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG_20260128_173717.jpg

গত দুদিন ধরে আপনাদের মাঝে সরস্বতী পুজোতে ঘোরাঘুরি কিছু সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। প্রত্যেকবারই বিসর্জনের মুহূর্তগুলো আপনাদের মাঝে তুলে ধরি ।আজকেও বিসর্জনের জন্য মন্ডপ থেকে প্রতিমা নামানোর সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। তবে এ বছরে আর সরস্বতী ঠাকুর বিসর্জন দেখতে যাওয়া হয়নি। আমাদের কৃষ্ণনগরে দুদিন ধরে বিসর্জনের পর্ব চলতে থাকে। প্রথম দিন বাড়ির ঠাকুর এছাড়া স্কুলের ছোটখাটো ঠাকুর গুলো বিসর্জন হয়। আর দ্বিতীয় দিন ক্লাব ,বারোয়ারির সমস্ত বড় বড় ঠাকুর গুলো বিসর্জন হয়। প্রত্যেক প্রতিমাই প্রত্যেক বছরই একই পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু প্রতিমা সাঙে করে আবার কিছু প্রতিমা গাড়িতে কিংবা রাসের চাকায় করে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের যেমন সামর্থ্য সেই অনুযায়ী ঠাকুর বিসর্জন দিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

IMG_20260128_173732.jpg

এ বছরে প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল বরের সাথে ঠাকুর বিসর্জন দিতে যাব না। কারণ ঠাকুর বিসর্জন দিতে গিয়ে প্রচন্ড বিরক্ত বোধ হয়। কারণ পুরো রাস্তা আমাকে নিজের মতো একা একা ঠাকুরের পিছনে পিছনে যেতে হয়। তাই প্রথম থেকে প্ল্যান ছিল আমি আর আমার বোন দুজন মিলেই ঠাকুর দেখতে যাব। কিন্তু আমাদের কৃষ্ণনগরে প্রত্যেক পুজোতে মারামারি অশান্তি লেগেই থাকে। এখনকার দিনে এই মারামারি অশান্তি কে ঘিরে তুমুল ঝামেলা হয় প্রত্যেক বারোয়ারির মধ্যেই। তাই প্রথম থেকেই বড় মামা বারণ করেছিল ঠাকুর দেখতে না যাওয়ার জন্য। ঘড়ির কাটাই তখন বাজে রাত আটটা ।তখন সবেমাত্র আমাদের বারোয়ারি ঠাকুর বারোয়ারি থেকে নিচে নামানো হচ্ছিল। সন্ধ্যাবেলাতেই ঠাকুর নিয়ে যাবার জন্য বেয়ারা রা এসে হাজির ।এছাড়াও দুপুর বেলাতেই সমস্ত ঢাকি চলে এসেছিল।

ঢাকের শব্দ পেয়ে ছুটে গিয়েছিলাম দেখতে। সেখানে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিমা নামানোর দৃশ্য দেখছিলাম। ঢাকের শব্দে মনে হচ্ছিল ছুটে চলে যাই প্রতিমা বিসর্জনের দেখতে। তারপর খানিকক্ষণ বাড়ি চলে এসেছিলাম ।কারণ তখনও ঠাকুর বাধা হচ্ছিল। কারণ ওখান থেকে আরো খানিকটা দূরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে গিয়ে ঠাকুর ভালো করে সাজানো হবে। এ বছরে বারোয়ারির প্রতিমা টি অনেক বড় করেছিল। এরপর বাঁশ দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রতিমা টি আস্তে আস্তে বারোয়ারি থেকে একেবারে অনেকটা দূরে নিয়ে চলে গিয়েছিল। মন চাইছিল বিসর্জন দেখতে যাবার জন্য ।কিন্তু সেদিন বাইরে ভালই ঠান্ডা ছিল। আমি আর বোন দুজন মিলে হয়তো ঠাকুরের সাথে যেতাম। কিন্তু একা একা ফিরতে হতো তাই আর ইচ্ছে থাকলেও যাওয়ার সাহস দেখায়নি।

আমাদের বাড়ির কাছ দিয়েও প্রচুর ঠাকুর বিসর্জন যায় ।কিন্তু ঠাকুর বিসর্জন দেখতে যেতে পারিনি বলে, প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে দুই বোন তাড়াতাড়ি খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়েছিলাম। এদিকে বর বারবার ফোন করছিল ঠাকুর বিসর্জন দেখতে যাবার জন্য। কিন্তু আমি আগে থেকেই বারণ করেছিলাম ওর সাথে ঠাকুর দেখতে যাব না। তাই বরের সাথে ও ঠাকুর দেখতে যাওয়া হয়নি। এবছরের সরস্বতী পূজার বিসর্জন দেখতে যেতে না পারায় ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল সেই মুহূর্ত টাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম ।আজ এইখানেই শেষ করলাম।


সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল।