দূর্গা আশ্রমে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব হাসাডাঙা দূর্গা আশ্রমের ঘুরতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত। আসলে প্রথম থেকে ওটা আমরা পার্ক বলে জানতাম। পার্কের মতো করেই সুন্দর করে সাজানো। তবে ওই জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে হাসাডাঙা দূর্গা আশ্রম। বহু দিনের ইচ্ছে ছিল ওই পার্কে বেড়াতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোনদিন তেমন কোন সঙ্গী না পাওয়ার জন্য যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তবে সেদিন বর দুপুর বেলায় হঠাৎ করে বলে উঠলো চলো তোমাদের হাসাডাঙা পার্কে থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। পরপর দুদিন পার্ক বন্ধ থাকার কারণে নিজেদেরও ভীষণ মন খারাপ ছিল ।তাই মন ভালো করার জন্য বর সেদিন বলেছিল চলো হাসাডাঙা পার্কে যাব। বর বলা মাত্রই আমরা রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। কারন আমার ওখানে বেড়াতে যাওয়ার বহু দিনের ইচ্ছে পূরণ হবে বলে।
বাড়ি থেকেই একটা টোটো ঠিক করে নিয়েছিলাম। কারণ ঠান্ডার মধ্যে বারবার টোটো চেঞ্জ করে যাওয়া আসা অসম্ভব ব্যাপার। তাই সেদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আমি আমার বর, মামাশ্বশুরের মেয়ে আর পাশের বাড়ির কাকিমাকে নিয়েছিলাম ঘুরতে যাওয়ার জন্য। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় অনেকটা পথ অতিক্রম করে তবেই যেতে হয়। কৃষ্ণনগর থেকে মায়াপুর যাওয়ার পথে ওই আশ্রম টি পড়ে। এর আগে আমার বোনরা গিয়েছিল ওখানে বেড়াতে। বোনরা গল্প করেছিল ।এছাড়াও ছোট মামা প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহতেই ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আর ওই আশ্রমটি সম্পর্কে আমাকে বলে। সকলের মুখে মুখে শুনলে তো নিজেরও যেতে ভীষণ ইচ্ছে করবে। তাই সরাসরি সেদিন পৌঁছে গিয়েছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগর থেকে হাসাডাঙা দূর্গা আশ্রমে ।ওখানে নাকি খুব বড় করে দূর্গাপূজা হয়।
ওখানে যাওয়া মাত্রই দেখি তেমন কোন লোকজন নেই। আসলে ঠান্ডার মধ্যে বেশি লোকজন থাকে না। আগে জানতাম পার্ক টি আমাদের জলঙ্গি নদীর পাশে তৈরি করা হয়েছে ।কিন্তু গিয়ে দেখলাম একটা একটু বড় বিল মতো রয়েছে। সেই বিলের পাশেই পার্ক সহ মন্দির তৈরি করা হয়েছে।বিলের ওপরে জলের মধ্যে আমাদের স্বয়ং মহাদেবের মূর্তি তৈরি করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও আশেপাশে বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। আমরা পার্কের চারপাশে খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরি করছিলাম ।এরপর কিছু ছবিও তুলে নিয়েছিলাম। পার্কের ভিতরে একটা রয়েছে শিব মন্দির আর পাশে রয়েছে দূর্গা মন্দির।ওখানকার লোকজন আমাদের দেখে বলেছিল খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে যেতে কারণ তখন মন্দিরে সন্ধ্যা আরতি শুরু হবে।
আমরাও সন্ধ্যা আরতি পিছনে ফেলে রেখে আসতে পারলাম না ।কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম ।এদিকে দেখছিলাম বিলের উপর নৌকা করে বিলের চারিদিকে ঘোরানো হচ্ছিল সকলকে। আমি জলে ভীষণ ভয় পাই। তাই নৌকোতে উঠতে সাহস পায়নি। এদিকে আবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছিল। তাই জলের ওপর এদিক-ওদিক না করায় ভালো। এরপর বেশ খানিকক্ষণ পর মহাদেবের সন্ধ্যা আরতি শুরু হয়েছিল ।আমরা সকলেই মিলে বসে বসে মহাদেবের সন্ধ্যা আরতি দেখছিলাম। বেশ অনেকক্ষণ ধরে আরতি করা হলো। এছাড়াও সমস্ত বাদ্যযন্ত্রসহ কয়েক জনের হাতে দেখছিলাম হাতে করে একটা করে ডুগডুগি বাজাচ্ছিল। বেশ ভালো লাগছিল। ভেবেছিলাম হয়তো মহাদেবের মন্দির এ পুজো হওয়ার পরেই সকলকে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। কিন্তু এরপর আবারও শুরু হল মা দুর্গার সন্ধ্যা আরতি। যাইহোক এর পরের মুহূর্তটুকু নিয়ে অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
We support quality posts, good comments anywhere and any tags.
Thank you 🙏