মামা শ্বশুরের বাড়ি থেকে ফেরার পথে পাগলামির কিছু মূহুর্ত

in Incredible India4 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG-20251230-WA0006.jpg

দেখতে দেখতে ২০২৫ সাল শেষ হয়ে গেল। সকলকে জানাই নতুন বছরের অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। নতুন বছর সকলেরই ভীষণ ভালো কাটুক।আজকে বছরের প্রথম দিন। ২০২৫ সালের জীবনে অনেক সুখ, দুঃখ, আনন্দের স্মৃতি ছিল ।তবে ২০২৬ সাল কেমন কাটবে আমরা কেউই জানি না। আরো কত কিছুর সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। আসলে জীবনে সুখ, দুঃখ, আনন্দ সবকিছু মিলিয়ে আমাদের জীবনের দিনগুলো কেটে যাবে। যাই হোক আগের পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম মামাশ্বশুরের বাড়ি থেকে আসার পথে কিছু পাগলামির মূহুর্ত ।আজকে শেষ মুহূর্তটা আপনাদের মাঝখানে শেয়ার করে নেব। সেদিন আমাদের ইচ্ছে ছিল শুধুমাত্র দাদার মেয়েকে দেখতে যাব । এই প্ল্যান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। মামার বাড়ি থেকে দাদার শ্বশুর বাড়ি প্রায় ৩০ মিনিটের পথ। সেদিন ভয়ে অতটা রাস্তা অতিক্রম করেই প্রথমেই আমাদের প্ল্যান সাকসেস ফুল হয়েছিল।

IMG-20251230-WA0008.jpg

দাদার মেয়েকে যখন দেখতে গিয়ে শাশুড়ি মাকে ভিডিও কলে দেখিয়ে ছিলাম তখন ওরা অবাক হয়ে গিয়েছিল। এরপর শাশুড়ি মা বলল কাছেই মাসির বাড়ি মাসির সাথে দেখা করে আসবার জন্য। আমি কোনমতেই মাসির বাড়ি যেতে রাজি হচ্ছিলাম না। কারণ বাড়ি ফিরতে অনেক টা দেরি হয়ে যেত।কিন্তু ভাবলাম আবার কবে আসব ঠিক নেই ।তাই প্রায় আধা ঘন্টা মত দাদা শশুর বাড়ি কাটিয়ে ওখান থেকে টোটো ধরে আবার বেরিয়ে পড়েছিলাম মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে। দাদার শশুর বাড়ি থেকে মাসির বাড়ি মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ। এরপর চলে গিয়েছিলাম মাসির বাড়িতে, মাসি তো ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছিল। কারণ আমরা ছাড়া আর কেউ জানত না আমরা কোথায় যাচ্ছি।মাসি কোন মতে সেদিন আসতে দেবে না । আমরা আগে থেকেই প্ল্যান করেছিলাম যে আমাদের থাকতে বলবে আমরা তাদের কাছে কাকুতি মিনতি করে বাড়ি ফেরার জন্য বেড়িয়ে পড়বো।আমাদের দেখে মাসি সাথে সাথে কফি বানাতে শুরু করে দিয়েছিল। মাসির বাড়িতে দুজনে দুই কাপ কফি খেয়ে নিয়েছিলাম ।

IMG-20251230-WA0024.jpg

এরপর মাসির সাথে আর মেসোর সাথে খানিকক্ষণ গল্প করে আবারো আর এক ননদের বাড়িতে যাব বলে হুটো পাটা শুরু করে ছিলাম। একই জায়গাতে তিনজনের বাড়ি হলে যার বাড়িতে না যাওয়া হবে তারই রাগ হবে। তাই মাসি একটা টোটো ঠিক করে দিয়েছিল ।সেই টোটো করে আমি আর মামার মেয়ে দুজনই চলে গিয়েছিলাম মাসির মেয়ের বাড়িতে। মানে সম্পর্কে আমার ননদ হয়। মাসির বাড়ি থেকে আবার ননদের বাড়ি প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিটের পথ। দিদির বাড়িতে যাওয়ার পর খানিকক্ষণ ডাকাডাকি করার পর ওরা আমাকে দেখে ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছিল ।কারণ এর আগে আমি মাসির বাড়িতে বেশ কয়েকবার বেড়াতে গিয়েছিলাম ।কিন্তু দিদির বাড়িতে কোনদিনই যাওয়া হয়নি।

দিদি ,দাদা আর দিদির ছেলে দেখে ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছিল। তারা তো আমাকে কিছুতেই ছাড়বে না। তাই কোনমতে দিদিকে বুঝিয়ে মিনিট দশেক দিদির বাড়িতে কাটিয়ে আবারো বেরিয়ে পড়েছিলাম বাস ধরব বলে। বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে পাঁচটা পর্যন্ত তিনজনের বাড়িতে সেদিন ঘোরাঘুরি করেছিলাম ।এরপর টোটো ওয়ালা আমাদের বিকেল পাঁচটার বাস ধরিয়ে দিয়েছিল। টোটোওয়ালা আমাদের চেনাজানা ছিল ।তাই কোন অসুবিধা হয়নি। এরপর বাসে উঠে যখন মামিকে ফোন করলাম মামি জিজ্ঞেস করছিল আমরা কোথায় ।তখন আমরা আমাদের সমস্ত কান্ড কারখানা মামীকে বলেছিলাম ।মামী তো শুনে বাড়িতে হেসেই গড়িয়ে পড়ছিল। এরপর বাসে উঠে যখন খানিকটা পথ গিয়েছিলাম বাস এক জায়গায় খানিকক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। ওখান থেকে আর পাঁচ থেকে সাত মিনিটের পথ গেলেই আমার বাপের বাড়ি।

এদিকে মা শোনা মাত্রই বারবার ফোন করে বলছিল মায়ের কাছ থেকে ঘুরে আসবার জন্য ।কিন্তু মায়ের কাছে আর যাওয়া হয়নি। সোজা বাড়ির উদ্দেশ্যেই রওনা দিয়েছিলাম। ঠান্ডার মধ্যে এত জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছিলাম । প্রচন্ড পরিমাণে শরীর খারাপ শুরু হয়ে ছিল। তাই আর অন্য জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। এইরকম মনের মত সঙ্গী পেলে জীবনে সবকিছু পূরণ করা যায়। মামার মেয়ে আমার সাথে সহযোগিতা করেছিল তাই সেদিন বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। আমি সবসময় আনন্দ, মজা করতে ভীষণ ভালোবাসি।আমার সাথে সাথে সকলেই ভীষণ খুশি হয়েছিল ।এরপর খুব ভালোভাবে বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম ।সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। এই ছিল আমাদের সেই দিনকার পাগলামি ।আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম। পোস্টের ছবি গুলো মামা শ্বশুরের মেয়ের ফোনে তোলা।


আজ এখানেই শেষ করছি। আবার অন্য কোন পোস্ট নেই হাজির হবো আগামীকাল। সকালে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।