বোনের জন্য পাত্র দেখতে যাওয়া (প্রথম পর্ব)
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
গত রবিবার দিন গিয়েছিলাম এক বিশেষ কাজে। আমি বয়সে ছোট হলেও আমার দায়িত্ব অনেক। হয়তো অনেকে আছে আমার থেকে ছোট বয়সে অনেক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।কারণ আমি আমাদের বাড়ি বড় মেয়ে। তাই সমস্ত দায়িত্ব থেকে এড়িয়ে চলতে একদমই পারি না। সমস্ত কিছু দায়িত্ব আমাকে নিতে হয়।আমি দায়িত্ব দেখে পিছিয়ে যেতে পারিনা। আমাদের যেহেতু কোন ভাই বা দাদা কেউ নেই। তাই আমাদের সমস্ত সমস্যা আমরা বোনেরা মিলে কিংবা মামার বাড়ির সকলে মিলে সমস্ত কাজ করা হয়। আপনাদের মাঝে আমার সেজো বোনের কথা অনেক পোস্টে শেয়ার করি। তার এখনো বিয়ে হয়নি। তাকেও একটা বন্ধনে আবদ্ধ করতে হবে তারই চেষ্টা চলছে সকলে মিলে। গত রবিবার দিন বেশ কিছু জন গিয়েছিলাম তার জন্য পাত্র দেখতে। এর আগে অনেক জায়গা থেকেই দেখা হয়েছে ।কিন্তু ওনার কথা ওনার যেখানে পছন্দ হবে সেখানেই সকলে দেখতে যাবে।
এখন জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া একেবারে উপায় নেই ।যে যার সিদ্ধান্ত সে নেওয়ায় ভালো। যেহেতু বোন মত দিয়েছে তাই গত রবিবার দিন আমি আমার বর ,মেজ মামা ,বড় মামা, মা আর দুই বোনের বর মিলে গিয়েছিলাম পাত্রের বাড়ি। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এই গরমে এতটা পথ অতিক্রম করে যাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। আমার মা গিয়েছিল বাপের বাড়ির কাছ থেকে একটা গাড়ি করে নিয়েছিল। আর আমরা কৃষ্ণনগর থেকে চারজন মিলে বাসে করে রওনা দিয়েছিলাম। আমাদের সাথে মায়ের আগে থেকেই কথা ছিল আমরা দেবগ্রাম নামে একটা জায়গায় ওদের জন্য অপেক্ষা করবো। আর আমার মা অন্য রাস্তা দিয়ে এসে আমাদের ওখান থেকে গাড়িতে তুলে তারপরে একসাথে রওনা দেব।
সেইমতো আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলাম। প্রায় এগারোটার সময় আমাদের কৃষ্ণনগর থেকে বাস ধরেছিলাম ।ভাবছিলাম হয়তো দেরি হয়ে যাবে। শেষে গিয়ে রাস্তায় আধাঘন্টা জ্যামে আটকে গিয়েছিলাম। এরপর জ্যাম কাটিয়ে বাস বাসের মতো চলছিল। আমরা দেবগ্রামে গিয়ে পৌঁছেছিলাম প্রায় বারোটা নাগাদ। কিন্তু তখনও আমার মা গাড়ি নিয়ে এসে পৌঁছায়নি। গাড়ি যে সময়ে আসার কথা ছিল উনি দেরি করেছিল ।তাই আমরা যখন আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছিলাম তখন আমার মা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ।এদিকে রোদের মধ্যে আমরা চারজন বসে রয়েছি। চারিদিকে প্রচন্ড ধুলোবালি উড়ছে। গরমের মধ্যে আমাদের সকলেরই মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক ঘন্টা পর মা যখন গাড়ি নিয়ে আমাদের সামনে এসে পৌঁছেছিল।
তখন আর মাথা ঠিক ছিল না। হয়তো মাকে উল্টোপাল্টা বলে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছিলাম। আসলে এত রোদের মধ্যে রাস্তার ধারে এক ঘন্টা অপেক্ষা করা আমাদের কাছে খুবই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যাইহোক কথা কাটাকাটির মধ্যেই আমরা সকলে মিলে গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। এরপরে রওনা দিয়েছিলাম পাত্রের বাড়ির উদ্দেশ্যে। ওখান থেকে আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার যেতে হবে। গাড়িতে উঠে সকলে মিলে গল্প করতে করতে পৌঁছেছিলাম।যাইহোক আজ এই পর্যন্তই থাক। আমি পরের মুহূর্তটা পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

