তীর্থ যাত্রার দ্বিতীয় দিন
![]() |
|---|
Hello ,
Everyone,
তীর্থযাত্রার প্রথম দিন আমরা খুব সুন্দর ভাবে উদযাপন করেছিলাম ।ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড যেতে অনেক সময় লেগেছিল। (সেগুলো প্রথম দিনের পোস্টটিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম)। সকল তীর্থ যাত্রী ক্লান্ত ছিলাম ।হোটেলে এসে যার যার কক্ষ বুঝে নিলাম এবং সবাই ফ্রেশ হলাম।
সকলে কিছুক্ষণ গল্প করলাম ,কোথা থেকে যে রাত একটা বেজে গেল তাই বুঝতে পারলাম না। সব থেকে ভালো লাগলো এই তীর্থ যাত্রায় আমার স্বামী-সন্তান, আমার ভাসুর ছেলে, বউ ,মেয়ে -মেয়ে জামাই, নাতি- নাতনি , জা সবাই আমরা একত্রে যেতে পেরেছিলাম। সাথে যারা অপরিচিত দিদিভাই ও দাদা ভাই ছিল তারা অনেক আন্তরিক ছিলেন।
![]() | ![]() |
|---|
৪৬ জনের তীর্থ যাত্রীদের মাঝে আমার পরিবারের ২১ জন অংশগ্রহণ করে। বিশেষ করে চন্দন দাদা কে ধন্যবাদ অবশ্যই দিতে হবে। তিনি না হলে আমরা এত অল্প সময় এতগুলো মন্দির দেখার সুযোগ পেতাম না। রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে আমাদের দুটো বেজে যায়।
সকাল ৪:৩০ মিনিটে ঘুম উঠতে হলো । আমাদের ভ্রমণ যাত্রা তালিকায় দ্বিতীয় দিন ছিল, সকাল ৫:৩০ মিনিটে ব্যাস কুণ্ড থেকে স্নান করে সেই চূড়ার উপরে চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরে ওঠা এবং সেখানে গিয়ে পূজা দেয়া। আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল সীতাকুণ্ড সেই চন্দ্রনাথ ধাম মন্দির দর্শন করা ।
ইতিপূর্বে দুই বার আসা হলেও কখনো এই চূড়ায় উঠতে পারেনি । প্রথমে কথা ছিল আমরা পায়ে হেঁটে মন্দিরের চূড়ায় পৌঁছাব। যেখানে উঠতে ১,২০০-এর বেশি সিঁড়ি উঠতে হবে। দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগতে পারে।
![]() | ![]() |
|---|
আমাদের সাথে ছোট এবং বয়স্ক তীর্থ যাত্রী ছিলেন তাই চন্দন দাদা সবার কথা বিবেচনা করে সিএনজি এর ব্যবস্থা করেছিল। এই মন্দিরের চূড়ায় দুটি পথে ওঠা যায় । ডান পাশে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হবে এবং বাম দিকে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে সিএনজি করে কিছুটা পথ যাওয়া যায়।
![]() | ![]() |
|---|
আমরা হোটেল থেকে ৭টায় বেরিয়ে পরি ।
যেহেতু রোজার দিন ছিল তাই সিএনজি চালক দেরি করে আসেন। আমরা বাসে করে প্রথমে ইকো পার্কে যাই ,সেখান থেকে সিএনজি করে পাহাড়ের দশ ভাগের সাত ভাগ আমরা পৌঁছে যাই। এখানে বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প রয়েছে ।
তীর্থ যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সর্বদা টুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এক দিকে বিশাল পাহাড় অপর দিকে গভীর খাদ,দেখে ভয় লাগছে। সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীটাকে কত যত্ন করে সাজিয়েছেন ।এক অপরূপ দৃশ্য। সিএনজি থেকে নেমে অনেকেই বাঁশের লাঠি নিলো ।এখনো আমাদের সেই পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হবে। যত উপরে উঠছি ততই অক্সিজেন কমে যাচ্ছে।
পাহাড়ি রাস্তা তাই বৃষ্টির সময় এখানে না আসাই ভাল। শুকনো মৌসুমে (অক্টোবর-এপ্রিল) মাসে ভ্রমণ করা সব থেকে নিরাপদ ।যত উপরে উঠছি তত যেন অক্সিজেন কমে যাচ্ছে। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার চলা শুরু করলাম ।চন্দন দাদা পূঁজার সমগ্র সামগ্রী সংগ্রহ করে রেখেছিলেন ।সকাল ৮:৩০ মিনিটে আমরা পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরে পৌঁছেছি। আমরা প্রথমে পূজা দিয়েছি। পাহাড়ের চূড়া থেকে সীতাকুণ্ড শহর দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে।
![]() | ![]() |
|---|
মন্দির কর্তৃপক্ষ সবার মোবাইল এবং ব্যাগ সাবধানে রাখার জন্য বলছিলেন ।এখানে বানর গুলো অনেক চালাক ।এক দিদির আইফোন নিয়ে গিয়েছিল, তারপর অনেক বলার পরে এবং তাকে কলা দেওয়ার পরে সে ফোন আবার ফিরিয়ে দিল।
পুজো করে সবাই আবার নিচে নেমে আসি ,সেখানে সকালের খাবার খাওয়া হলো এবং তার সাথে একটি করে আপেল দিল এবং গরম গরম চায়ের এর ব্যবস্থা ছিল। সিএনজি করে আমরা আবার ইকোপার্কে চলে আসি ।সেখান থেকে বাসে করে ইসকন মন্দিরে যাওয়া হল এবং ঠাকুর দর্শন করার পরে দুপুরের খাবার খাওয়া হলো। এত সুন্দর মন্দির দেখে তীর্থ
স্বার্থক হলো।
আমাদের গাড়ি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত ৯টা বেজে গেল কক্সবাজার পৌঁছাতে। আমরা হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে রাতের সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে গেলাম । সমুদ্রের শীতল বাতাস যেন ভালোবাসা বিলিয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউ গুলো মনে হচ্ছে প্রেমিকের বিরহের কান্না।
![]() |
|---|
আমরা কত টাকা ব্যায় করে বিদেশের সৌন্দর্য দেখতে চাই কিন্তু আমাদের দেশ যে এত সুন্দর তা কিন্তু আমরা ততটা গুরুত্ব দেই না । আমাদের সকলের উচিত আমাদের দেশকে ভালো করে জানা এবং দেখা। এভাবেই কেটে গেল আমাদের তীর্থযাত্রার দ্বিতীয় দিন।
![]() | ![]() |
|---|
তীর্থযাত্রার তৃতীয় দিন নিয়ে আবার দেখা হবে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি ।সবাই ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।













Thank you Sir.