ঘুরে এলাম পানাম নগর
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আশা করি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। কিছুদিন আগে তোমাদের সাথে আমি একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলাম ।আমরা নারায়ণগঞ্জ বারদী ”বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী” এর মন্দিরে গিয়েছিলাম ।
তখন ফেরার পথে বাংলার প্রাচীনতম ইতিহাসের একটি অন্যতম শহর ”পানাম নগর”।এখানে দর্শনীয় অনেক কিছুই রয়েছে কিন্তু সময় স্বল্পতার জন্য সবকিছু দেখা সম্ভব হয়নি। পানাম নগর দেখার সুযোগ হয়েছিল ।
![]() | ![]() |
|---|
সত্যি বলছি, এখানে আসলে মন ছুয়ে যায় । মনে হচ্ছে , সেই পুরনো দিনে চলে গেছি , যেগুলো আমরা শুধু ইতিহাস বইতেই পেয়েছি ,কখনো চোখে দেখার সুযোগ হয়নি । নিজের চোখে আজ দেখতে পাচ্ছি আর অনুভব করছি তখনকার সময়ে কেমন ছিল ।
তখন উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া ছিল না তারপরও তারা আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে ছিল ।এখানকার ভবন গুলো দেখলে বোঝা যায় যে তারা কত সৌখিন ছিল। তাদের চিন্তাধারা কত উন্নত ছিল । রাস্তার দুই ধারে সারি সারি একতলা ও দ্বিতল ভবন, যা প্রাচীন বাংলার স্থাপত্য শৈলীর উদাহরণ বহন করে ।
![]() | ![]() |
|---|
যা দেখে সকলের চোখ জুড়িয়ে যায় ।তখন থেকেই আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছিল বাংলার ইতিহাসে, আজও ধরে রয়েছে । বারো ভূঁইয়াদের ভেতর শ্রেষ্ট ভূঁইয়া ও বাংলার স্বাধীন রাজা ঈসা খাঁ এর পদচারণা ছিলো এই নগরীতে। সুলতানী আমল থেকে এখানে বিকশিত ছিলো।
![]() | ![]() |
|---|
ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি বারো ভূঁইয়াদের ভিতরে সবথেকে সাহসী ভূঁইয়া এবং যিনি জনসাধারণের কথা চিন্তা করতেন,বাংলার কথা চিন্তা করে সর্বদা কাজ করে গেছেন । তখন সোনারগাঁ এর রাজধানী নাম করন করা হল "পানাম নগর"। অনলাইন কিংবা ইতিহাস বই পড়ে এর বিস্তারিত জানতে পারবেন তাই আমি আর এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বলছি না ।
![]() | ![]() |
|---|
এত কাছে যখন এসেছি তাই এত সুন্দর দর্শনীয় স্থানগুলো দেখব না তা কি হয়! আমরা সপরিবারে দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য গিয়েছিলাম ।শত বছর পুরানো সেই ভবন গুলো দেখলে সত্যিই আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে ।এখানে একটি মন্দির আছে ।
রাস্তার দুই ধারে ভবনগুলো খুব সুন্দর দাঁড়িয়ে আছে। ভবনগুলো পুরনো হয়ে গেলেও তাতে বাংলার ইতিহাস লেগে আছে। এই নগরীতে প্রবেশ করতে হলে টিকিট কাটতে হয় তাই আমরা টিকিট কেটে নিলাম। এত সুন্দর পরিবেশে যা দেখে সায়ন বাবা অনেক খুশি।
আমার তো ইচ্ছে করছিল সমস্ত ভবন ঘুরে দেখি , দোতলা ভবন গুলো এত সুন্দর লাগছিল ইচ্ছে করছে আমি দোতলায় উঠি ,যেহেতু ভবন গুলো অনেক বছরের পুরনো, এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় দোতলায় ওঠা নিষেধ ছিল।
তখনকার দিনে শিল্পকর্ম দিক দিয়ে মানুষ অনেক এগিয়ে ছিল ।শুনেছি যারা ধনী ব্যক্তিত্ব ছিলেন তারাই এভাবে দোতলা ভবন তৈরি করেছিলেন। আমরা অনেক ছবি তুলে নিলাম ।যেহেতু আমাকে ষ্টিমিট প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করতে হবে তাই ছবিগুলো তুললাম ।
![]() | ![]() |
|---|
কিছু কিছু ছবি আমার মোবাইলে ধারণকৃত আর কিছু কিছু ছবি আর্মি বাবুর মোবাইল থেকে ধারণকৃত ছিল। সেই ছবিগুলো WhatsApp এর মাধ্যমে নিয়েছিলাম যা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি ।এখানে এসে মনে হচ্ছে ,আমি সেই জমিদার আমলে চলে গেছি । সত্যি কারের জমিদার তো কখনো চোখে দেখিনি, তাদের তৈরি করা ভবন গুলো দেখে যাওয়ার সুযোগ পেলাম।
ভবনগুলো প্রায়ই ভেঙে গেছে, এখন অবস্থা অনেকটাই খারাপ ।সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এগুলো সংস্কার করার জন্য ,যেহেতু প্রতিনিয়ত এখানে দূর দেশান্তর থেকে অনেক পর্যটক আসে ।শুধু বাংলাদেশেরই নয় বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে , বারো ভূঁইয়ার ইতিহাস জানার জন্য আসে ।
কোন বিদেশি দেখলে অনেকে ছবি তোলার জন্য এগিয়ে যায় কিন্তু আমাদের সাথে ছবি তোলার জন্য একজন এগিয়ে আসলো । একটা জাপানি লোক এতটা বন্ধুত্বপূর্ণ সে আমাদের সাথে নিজে এসে ছবি তুলল এবং আমাদের সবাইকে একটি একটি করে চকলেট দিল ।তারা আমাদের দেশের অতিথি তাই আমাদের উচিত তাদেরকে আমাদের এই ঐতিহ্য দেখতে সাহায্য করা ।
![]() | ![]() |
|---|
আমাদের দেশে এমন কিছু কিছু মানুষ আছে যারা এই বিদেশী অতিথিদের নানারকম হয়রানি করে থাকেন। আমরা যেমন আমাদের দেশকে ভালোবাসি তেমনি দেশের সম্মানের কথা চিন্তা করব । জমিদার বাড়িতে বসে ছবি তুলে আজকে নিজেকে রাণী মনে হচ্ছে , আর্মি বাবু হলেন রাজা ভাবতে ভালো লাগে।
এক এক করে অনেক ছবি তুললাম । যাদের ঈশা খাঁর আমলের সে পানাম নগর দেখার খুব ইচ্ছে অবশ্যই একবার ঘুরে আসবেন। সোনারগাঁও ছিল অনেক সুন্দর ।সময় স্বল্পতার জন্য আমরা এবার দেখতে পাইনি। আশা করি আর একবার যাবার সুযোগ পাবো
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি।













