তীর্থযাত্রার প্রথম দিন
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
জয় শিব শম্ভু । সুন্দর একটি তীর্থ যাত্রা ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে সত্যিই অনেকে ভালো লাগছে। কারন আমরা কর্মব্যস্ততার জন্য সময় করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না । আর্মি বাবু তেমন সময় সুযোগ পায়না । যখন তিনি সুযোগ পায় তখন আবার মেয়ের কলেজে পরীক্ষা থাকে।
রোজার ঈদের ছুটির জন্য মেয়ের কলেজ বন্ধ হয়েছে। এই ছুটিতে অনেকে গ্রামের বাড়িতে বা অন্য কোথাও ঘুরতে যাচ্ছে । মেয়েটার মন খারাপ, সে কোথাও যেতে পারছেনা ।এই নিয়ে ভীষণ চিন্তায় ছিলাম । ছুটি পেলে সবাই এখানে ঘুরতে যায়, সেখানে ঘুরতে যায় । ছুটি গুলো বাসায় বসে কাটালাম । স্কুল/ কলেজ এত বড় ছুটি অন্য কোন উৎসবে দেয় না। ছুটি শেষে আবার বাচ্চাদের পরীক্ষা শুরু হবে । এখন যদি আমরা কোথাও ঘুরতে না যাই তবে পরে আর এমন সুযোগ পাবো না ।
![]() | ![]() |
|---|
ঘুরতে যাওয়া নিয়ে আর্মি বাবুর সাথে আমার প্রায় ঝামেলা হয় । মেয়ের এবং আর্মি বাবুর ছুটির সময় মিল না থাকায় আমাদের দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না ।তিনি আবার মজার ছলে বলেন ,"সবাই তিন দিনের জন্য ঘুরতে যায় আর আমরা তিন বছরের জন্য ঘুরতে যাই "।তবে আমার কথা হলো ,আমরা তিন বছর থেকে যা দেখতে পাই, তার থেকে যদি ,কোন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয় তবে অনেক কিছু দেখা যায়।
তারা অনেক দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখতে পারেন । সেনানিবাস গুলোতে সব সময় কোয়ার্টারে থাকাকালীন সব জায়গায় যাওয়ার অনুমতি সব সময় পাওয়া যায় না ।
![]() | ![]() |
|---|
আর্মি বাবুর পোস্টিং ছিল চট্টগ্রাম সেনানিবাসে , তিনি ৩ বছর ছিল । তবে আমার ১ বছর ৪ মাস থাকার সুযোগ হয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আমাকে বাবার বাড়ি চলে আসতে হলো। তখনকার সময় সেনানিবাসের অনেক কঠিন নিয়ম ছিল । যদি কোন সেনা পরিবার কোথাও ঘুরতে যেতে হলে অফিস থেকে অনুমতি নিতে হতো । অফিস থেকে নিরাপত্তা দিয়ে আমাদেরকে কিছু পরিবার ঘুরিয়ে নিয়ে আসতেন ।
অনেক দিন থেকে আমি,তীর্থ ভ্রমণ এর সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এমন সুন্দর একটি সুযোগ পেয়ে আর হাতছাড়া করলাম না। এমন সুযোগ বারবার পাওয়া যায় না। হয়তোবা একটু কষ্ট হতে পারে কিন্তু পরিবারের সবার সাথে কোথাও ঘুরতে গেলে আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায় ।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার তিন দিন তিন রাত্রি। এই তীর্থ যাত্রায় বিভিন্ন মন্দির ঘুরিয়ে দেখানো হবে । আর্মি বাবু তিন দিনের ছুটি নিল । অবশেষে, আমরা যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি । আমরা সকাল ৪:২৫ মিনিটে ঘুম থেকে উঠেছি । যখন আমাদের মুসলিম প্রতিবেশীরা সেহেরি খেতে ভোর রাত্রে উঠলেন তখন আমাদের উঠতে হলো।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
ফ্রেশ হয়ে দ্রুত তৈরি হলাম। গোপাল ঠাকুরকে তৈরি করে দিলাম। আমাদের এই তীর্থ যাত্রায় গোপাল ঠাকুরকে আমার সঙ্গে নিব। কারণ গোপাল সোনা বাসায় একা থাকলে তার খারাপ লাগতে পারে । আমি যখন কোথাও দূরে ঘুরতে যাই তখন গোপাল সোনাকে আমার সঙ্গে নিয়ে যাই।
আমরা বাসা থেকে সকাল ছয়টা বিশ মিনিটে বেরিয়ে পড়ি। কিছু তীর্থযাত্রী আসতে দেরি হওয়ায় গাড়ি নির্দিষ্ট সময় যাত্রা শুরু করতে পারিনি । সকাল আটটা রং সময় আমাদের বহনকারী গাড়ি ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে । আমাদের সঙ্গে একজন মন্দিরের ঠাকুর দাদা ছিলেন । ধ্বনি ও উলু ধ্বনি দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি ।
কিছুক্ষণ যাবার পরে দেশবন্ধু রেস্টুরেন্টে থেকে সবার জন্য সকালের খাবার নিয়েছিলেন ।এই রেস্টুরেন্টে অনেক পুরানো এবং একটি স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টে। শুনেছি এখানে বঙ্গবন্ধু ও বড় বড় নেতারা সকালবেলা নাস্তা করতেন। এখানে প্রতিটা খাবার অনেক সুস্বাদু । সকালের খাবার শেষে আবার আমাদের যাত্রা শুরু হয় এবং কুমিল্লা থেকে নুরজাহান রেস্টুরেন্টে চা পানের বিরতি দেওয়া হয়েছিল । কুমিল্লা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পড়ে গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে যায়। গাড়ির চাকা পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় ।
আমাদের আবার যাত্রা শুরু হল , কুমিল্লা, ফেনী শহর পেরিয়ে সীতাকুণ্ড আসতে আমাদের অনেক সময় লেগেছে। ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে তাই রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিল ।
![]() | ![]() | ![]() |
|---|---|---|
![]() | ![]() | ![]() |
বাচ্চার ব্লুটুথ দিয়ে দিয়ে গান শুনছেন এবং আমরা সকলে অনেক আনন্দ করছিলাম। এই ভ্রমণে অনেকেই আছেন, যাদের সাথে আমার আগে পরিচয় ছিল না ।এই প্রথম পরিচয় হয়েছে। তারপরও মনে হচ্ছে যেন কতটা আমরা আপন হয়ে গেছি ।
আমাদের ব্যস্ততম জীবনের মাঝেও এমন একটি ভ্রমণ আমাদের সংসারে ব্যস্ততা থেকে দূরে রাখতে পারে এবং একঘেয়ামি জীবন থেকে মনটা অনেক ফ্রেশ করে । এই যাত্রায় হয়তোবা একটু কষ্ট হতে পারে কিন্তু অনেক আনন্দ আছে ।একা একা ভ্রমণ করা সব সময় সম্ভব হয়না ।নতুন শহরে সবকিছু জানাশোনা থাকে না তাই সঙ্গে একজন গাইড নিতে হয়, যিনি দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখাতে পারেন ।
সীতাকুণ্ড শহরের শংকর মঠ আশ্রমে বিকেল চারটার সময় আমরা এসে পৌঁছেছি। সকলে ফ্রেশ হয়ে এখান থেকে মহা প্রসাদ গ্রহণ করি এবং মন্দিরে কিছু সময় বিশ্রাম নেই । মন্দিরের মহারাজ আমাদের সকলের সাথে পরিচিত হলেন । মন্দির কর্তৃপক্ষের একদাদা আমাদেরকে সকল মন্দির ঘুরে ঘুরে দেখালেন । এত সুন্দর সুন্দর মন্দির দর্শন করতে পেরে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। শিব ঠাকুরের কৃপা পেয়েছি বলে আজ আমরা এখানে আসতে পেরেছি।
![]() |
|---|
শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির, শ্রী শ্রী ভবানী মন্দির, শ্রীশ্রী সীতার কুন্ড ,শ্রী শ্রী রাম ও লক্ষণ কুণ্ড, শ্রী শ্রী মহাশ্বশান কালী মন্দির ,শ্রী শ্রী কৃষ্ণ মন্দির, ছি ছি ব্যাস মনি কুন্ড আর অনেক মন্দির দর্শন করার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের তীর্থযাত্রার প্রথম দিনের কিছু কথা তোমাদের সাথে শেয়ার করলাম।
পোস্টটি আমি সকাল বেলা লিখে ছিলাম কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াইফাই ছিল না তাই তোমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেনি । এখন তোমাদের সাথে শেয়ার করছি ।আশা করি তোমাদের অনেক ভালো লেগেছে। আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
|
|---|
















