Better Life with Steem|| The Diary Game||11- 12-2025||
![]() |
|---|
Hello.
Everyone,
রাতের গভীর অন্ধকারের পরে নতুন সোনালী সূর্য ওঠে, তার মধ্য দিয়ে একটি দিনের শুরু হয় ।আবার সেই সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে রাতের আঁধার শুরু হয়, এভাবে দিনের পরে রাত আসে এবং রাতের পরের দিন আসে।
একটি দিন, একটি মাস, একটি বছর, বছর পর বছর পেরিয়ে ২৫ বছর পূর্ণ হল আমাদের পথ চলার। এই জার্নিটা কিন্তু খুব সহজ ছিল না। এই পথ পারি দিতে আমাকে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে , পড়া শোনা ও সংসার দুটো সামলাতে হয়েছে । আর্মি বাবু আমার অভিভাবকের মত ছিল এবং আমাকে সব বিষয় সমর্থন দিয়েছেন বিধায় আজ আমি তার মনের মত হতে পেরেছি ।
২৫ বছর মানে ৯,১২৫ দিন তার সাথে যুক্ত হবে ছয়টি লিপ ইয়ার (Leap Year) বা অধিবর্ষ। তবে মোট ৯,১৩১ দিন ২,১৯,১৪৪ ঘন্টা ১,৩১,৪৮,৬৪০ সেকেন্ড । এই সময় গুলো যখন গণনা করছি তখন প্রথম দিনের সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে । সে প্রথম যেদিন আমায় দেখে ছিল ,তার নিরব ভালোবাসা আমি তখন বুঝতে পারিনি।যে মানুষটাকে দেখে রাগ হতো, এড়িয়ে যেতাম ,তাকেই ভালোবেসে তার সংসার সামলাঝি।
![]() | ![]() |
|---|
মফস্বল শহরের ছোট্ট একটি মেয়েকে তার মনের মতো তৈরি করা ,সমস্ত কিছু শেখানো কঠিন ছিল।যে মেয়েটা সংসারে ‘স’ বুঝতো না সে মেয়েটাকে সম্পূর্ণরূপে সংসারী করে তোলা । তোতা পাখিকে যেমন কথা বলা শিখাতে হয় তেমনি আমাকে সে সংসারের সমস্ত কিছু শিখিয়েছে। ঘরের কাজ বলুন কিংবা বাহিরের কাজ , সমস্ত কিছুই সে নিজের হাতে ধরে শিখিয়েছে। তার প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।
তিনি কঠিন ছিল বিধায় আমি সবকিছু শিখতে পেরেছি। মাঝে মাঝে তার উপর রাগ হয় তবে আবার ভাবি, না হলে আমি এতকিছু শিখতে পারতাম না । আমার রাগের কারণ সে, আমার সুখের কারণ সে, আমার দুঃখের কারণ সে, আমার অভিযোগের কারণ সে, আমার সমস্ত পাগলামির কারণ সে ।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
তেমনি আমিও তার সমস্ত কিছু। তিনি কর্মস্থলে যেমন দায়িত্ব পালন করেন তেমনি আমাকে সংসারের কাজে সাহায্য করেছেন । আমি নতুন একটি পরিবার পেয়েছিলাম, আমার শাশুড়ি মা অনেক ভালো মনের একজন মানুষ ছিল। মায়ের কাছে শুনেছিলাম ,ভালো শাশুড়ি পাওয়া ভাগ্যের বিষয়।
সময় এবং পরিস্থিতি মেয়েদের সবকিছু শিখতে হয়। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা এবং সকলের ভালোবাসা নিয়ে এভাবে কেটে যাচ্ছে আমাদের সংসার ।তবে এখন সংসারে ভালোবাসা থেকে দায়িত্বটা বেশি ।এখন আর তেমন করে এই বিশেষ দিনগুলো পালন করা হয় না ।আজ ছিল আমাদের বিবাহ বার্ষিকী।প্রতিদিনের ন্যায় তিনি অফিসে ব্যস্ত, আমি সংসার ও মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত।
আর্মি বাবু সকালের নাস্তা খেয়ে অফিসে চলে গেলেন ।সকাল আটটার ভিতরে আমি পোলাও, মাটন কষা ও চাটনি রান্না করেছি এবং পূজো দিয়ে মেয়েকে নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরি। কলেজ থেকে বাসায় ফিরতে আমাদের দুপুর ২ টা বেজে গেল।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
মা-মেয়ে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিলাম। আজও আর্মি বাবু দুপুরে বাসায় আসতে পারেনি ।আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল এই ভেবে যে, এই বিশেষ দিনটি তিনি ভুলে গেলেন ।বিকেল চারটার সময় ফোন দিয়ে আমাদের তৈরি হয়ে থাকতে বললেন ।আমরা বিকেল ৫টায় ঘুরতে যাব ।আমি বললাম, আজ বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়তে হবে তাই যেতে পারবো না ।
আর্মি বাবু বলেন, আচ্ছা সন্ধ্যার পরে বের হব। আর্মি বাবু ”নবরুপা” এর একটি শপিং ব্যাগ আমার হাতে দিয়ে বলল, তৈরি হও ।আমি অবাক হলাম এই ভেবে, তিনি ভুলে যায়নি ।সন্ধ্যা পূজা করে আমি তার দেয়া উপহারটি পরে তৈরি হলাম ।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
ভালোবাসা প্রকাশ করার ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে । তেমন কোন আয়োজন ছিল না, কাউকে বলা হয়নি ।শুধু মাত্র আমরা তিনজন একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গিয়ে ছোট্ট পরিসরে এই দিনটি উদযাপন করলাম ।
মেয়ে অনেক খুশি, সে তার বাবা মায়ের বিবাহ বার্ষিকী পালন করছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা ও সকলের ভালোবাসা নিয়ে হাসি-আনন্দ ,সুখ-দুঃখ সব মিলিয়ে চলে যাচ্ছে আমাদের দিনগুলো। সকলে আমাদের জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন, সামনের দিনগুলো যেন এভাবেই কেটে যেতে পারি ।আজ এখানে বিদায় নিচ্ছি । শুভ রাত্রি।
















Thank you, Sir.