Better Life with Steem|| The Diary Game||15- 02-2026|| শিব চতুর্দশী ব্রত পালন ||

in Incredible India2 days ago (edited)
1000030506.jpg

Hello,

Everyone,

কাল ছিল, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথি । এই দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মহাশিবরাত্রি বা শিবরাত্রি পালন করে থাকে। আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব শিব হলেন সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের দেবতা । শিব চতুর্দশী এই রাতে শিব ও মাতা পার্বতীর শুভ বিবাহ হয়েছিল বলে মনে করা হয় তাই হিন্দু ধর্ম রীতিতে বাবা ভোলানাথ ও মাতা পার্বতীর উদ্দেশ্যে প্রতি বৎসর এই উৎসবটি পালন করা হয়। শিব পুরাণে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।

এবছর শিবরাত্রি পড়েছে দুইদিন, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫:৩২ মিনিট থেকে ১৬ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা৮ মিনিট পর্যন্ত ।চতুর্দশী যুক্ত অমাবস্যার রাত্রিতেই শিব রাত্রি ব্রত পালনে শিব ঠাকুরের অত্যন্ত প্রিয় তাই আমিও চেষ্টা করি প্রথম দিনে ব্রত পালন করার ।

1000029758.jpg1000029783.jpg

১৪ তারিখ নিরামিষ খাবার খেয়েছি ,১৫ তারিখ নির্জলা উপবাস থাকতে হয় । আমি অসুস্থ থাকার কারনে একদম নির্জলা উপবাস থাকতে পারিনি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ঠাকুরকে জাগিয়ে নিলাম ।

আজ বাসায় কোন রান্নাবান্না নেই ।আমি এবং মামনি দুজনে উপবাস ছিলাম। এখানে মন্দির কাছে না থাকায় আকন্দ ফুল, বেলপাতা, ধুতুরা ফুল ও ফল এগুলো সংগ্রহ করা অনেক কঠিন ব্যাপার। গতকাল মন্দিরে গিয়ে এগুলো সব নিয়ে আসলাম । গতবারের তুলনায় এবার মন্দিরে খুব কম এগুলো নিয়ে এসেছিল।যেটুকু পাওয়া গেছে, তবে এর মূল্য ছিল অনেক।

1000030495.jpg1000030501.jpg

১০ টাকা করে একটি গাঁদা ফুল,৫০টাকা ছিল একটি ধুতুরা ফুল,একটি বেল নিলো ১৫০ টাকা। প্রতিটি পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য ছিল অনেক বেশি। ফল এর মূল্য আকাশ ছোয়া ।যেহেতু এগুলো প্রয়োজন হবে, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না তাই এগুলোর মূল্য রেখেছে অনেক বেশি।

কোন কিছু রান্নার আয়োজন না দেখে মাসী বললেন আজ রান্না হবে না বাসায়? আমি বললাম মা ও মেয়ে দুজনই শিবরাত্রি ব্রত পালন করব তাই আজ রান্না করব না। তিনি বললেন, শিবরাত্রি ব্রত পালন করলে শিবের মতো স্বামী পাওয়া যায় । তুমি তাই তো শিবের মত স্বামী পেয়েছ । আর্মি শিব ঠাকুরের মত হঠাৎ রেগে যায় তা সত্য কিন্তু তার মনটা অনেক নরম ,সে কখনো কারো কষ্ট দেখতে পারে না। মানুষকে খুব সময়ে বিশ্বাস করে ফেলে ।

1000030221.jpg1000030089.jpg

যাই হোক ,জীবনসঙ্গী কেমন হবে ? তা সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভর করে । আমার বাসায় শিবলিঙ্গ আছে ,প্রথমে বাসায় পূজা দিয়ে তারপরে আমরা সন্ধ্যার সময় মন্দিরে যাব। বিকেল বেলা মামনি পুজোর সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিয়েছে এবং মন্দিরে কোনগুলো নিয়ে যাব তা ব্যাগে রেখে দেয় । আমি চার প্রহর জল দিতে পারবো না তাই প্রথম প্রহরে দুধ ,দই, ঘি, মধু এবং গঙ্গাজল দিয়ে শিব ঠাকুরের অভিষেক করিয়ে নিলাম ।আকন্দ ফুল কম থাকায় এবার মালা গাথা হলো না।

বাসায় পুজা দিয়ে আমরা তৈরি হয়ে নিলাম , সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ মিনিটে মন্দিরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরি । মন্দিরে আসলে মনটা পবিত্র হয়ে যায় ।এখানে এত ভক্তবৃন্দ দেখে খুবই ভালো লাগলো । মন্দির কর্তৃপক্ষ খুব সুন্দর আয়োজনে করেছিল ।

1000030382.jpg1000030377.jpg

আতপ চাল, কালোজিরা,দুধ, দই ,গঙ্গার জল সমস্ত কিছুই প্যাকেজ হিসেবে সাজিয়ে রেখেছে। যে যার সাধ্যমতো সেই ডালা কিনে পুজো দিতে পারে। সব থেকে একটি ভালো বিষয় ছিল, এখানে সবাই সিরিয়াল দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এবং সিরিয়াল অনুযায়ী সবাই বাবার মাথায় জল দিয়েছিল। সবাই শৃঙ্খলভাবে দেবাদিদেব মহাদেবের মাথায় জল দিয়েছিল এবং মনে সবকিছু ভোলানাথ বাবার কাছে বলার সুযোগ পেয়েছিলাম।

পরিবারের সকলকে নিয়ে মন্দিরে আসলে অনেক ভালো লাগে।ছোট বোনকে মন্দিরে দেখে অনেক খুশি হলাম । ছোট্ট বাবা ( সায়ন ) এর মুখে আধো আধো কণ্ঠে হর হর মহাদেব ধ্বনি শুনতে অনেক ভালো লাগে। মন্দিরে প্রসাদের ব্যবস্থা ছিল। আমরা প্রসাদ পেলাম ।

1000030360.jpg1000030258.jpg
1000030165.jpg1000030245.jpg

পুজো দিয়ে আমরা পাশের একটি কফি শপে গেলাম, সেখানে বাচ্চাদের খেলার অনেকগুলো রাইট ছিল ।সায়ন বাবা দেখে তো অনেক খুশি ।আমরা বসে গরম গরম কফি খেলাম ।বাসায় আসতে আসতে রাত দশটা বেজে গেল ।অবশ্য ওরা আমাদের বাসায় এগিয়ে দিয়ে ওদের বাসায় চলে গেল।

এভাবে কেটে গেল আমার শিবরাত্রি এই দিনটি ।অবশ্য আজও অনেকে পালন করেছিল । পোস্ট অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে, আজ আর পোস্টটি দীর্ঘ কেরছি না। এখানেই বিদায় নিচ্ছি ,সবাই ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন ।|

কিছু ছবি WhatsApp থেকে নেয়া হয়েছে।

Thank You So Much For Reading My Blog📖

3YjRMKgsieLsXiWgm2BURfogkWe5CerTXVyUc6H4gicdRPmPayXPfM22kXaj3xKw37oQ9tua3JfrnuMRWWqGHfhuyA1UYheY5qjiFbP3BW...JWNUaLb1UAxtVkvpEzFvrbCpiTVHr2qys8cnVHpyrfv38wVPMc1Luya71X8AzcNNuKjF1rHwqMTUWN8r39rGXHzGTLWtLUbqpNh6DHaWG6eK2zUkgnx8ShFKdg.png

Sort:  
Loading...