Better Life with Steem|| The Diary Game||16- 12-2025||
![]() |
|---|
| Made by Canva |
Hello,
Everyone,
দিনটি ছিল ১৬ই ডিসেম্বর ,আমাদের বিজয় দিবস ।১৯৭১ সালে এই দিনে (১৬ই ডিসেম্বর) স্বাধীনতা "বাংলাদেশ" নামে ছোট্ট একটি দেশ স্বীকৃতি লাভ করে। সেই থেকে প্রতি বছরই ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিন সরকারি ছুটি থাকলেও স্কুল ,কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকে এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার সাথে এই দিনটি উদযাপন করা হয় ।
আজ মামনির কলেজে বিজয় দিবস উদযাপন , আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছিল। আমি সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে পরি। ঘুম থেকে উঠে ঝটপট স্নান করে ঠাকুর পুজো দিয়ে সকালের নাস্তা তৈরি করি।
![]() | ![]() |
|---|
মেয়েকে নিয়ে সকাল ৮টায় বেরিয়ে পড়ি ।লাল সবুজ শাড়ি পড়ে আমরা কলেজে চলে এসেছি। মেয়ের সাথে আমিও সবুজ শাড়ি পড়েছিলাম । আজ ,ছোটবেলার কথা গুলো মনে পড়ে যায়।১৬ই ডিসেম্বর নিয়ে অনেক কিছু আয়োজন করা হতো।
আমি শিল্পকলা একাডেমীর সাথে যুক্ত ছিলাম , সকাল বেলা জাতীয় সংগীত থেকে শুরু করে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে বিজয় দিবস পালিত হতো ।আজ সেই ছোট্টবেলার কথা গুলো খুব মনে পড়ে যায় ।সকাল বেলা খাবার সময় পেতামনা। যত দ্রুত বিদ্যালয় পৌঁছানো যায় সেই চেষ্টা করা হতো ।তখন আমাদের সাথে মাকে যেতে হতোনা।
বান্ধবীদের সাথে আমরা যেতাম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। খেলাধুলা , আবৃতি, কোরআন তেলাওয়াত , গীতা পাঠ , দেশাত্মবোধক গান বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। সেখানে অংশগ্রহণ করে প্রতিবছরই কিছু না কিছু পুরস্কার নিয়ে বাসায় আসতাম।
![]() | ![]() |
|---|
মামনীদের বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল।তার ভিতরে বিভিন্ন খেলাধুলা ছিল, উল্টো দৌড় ,অংক কষা, সুই গ্যাথা ,২০০ মিটার দৌড় ,বিস্কুট দৌড় , যেমন খুশি তেমন সাজো এরকম বিভিন্ন ধরনের আয়োজন ছিল ।শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে শিক্ষক-শিক্ষীকাদেরও জন্য খেলা ছিল।
বাচ্চাদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা দেখে আমার সে ছোটবেলার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে । আমি সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে ভয় পেতাম কারন একবার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে হাত ভেঙ্গে ছিল।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় আমরা তিন বান্ধবী শহীদ মিনার সেজেছিলাম। আমরা তিনজন সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে শহীদ মিনারের মত দাঁড়িয়ে ছিলাম, ছোট একটা বাচ্চা এসে একটা ফুলের তোড়া আমাদের সামনে রেখে দেয়। এখনো মেয়েরা যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। কেউ মুক্তিযোদ্ধা , মুক্তিযুদ্ধে ছেলে হারানো মা সেজেছিল, কেউ ডাক্তার সেজেছিল।
মজার বিষয় হল , এখনকার বাচ্চারা বর্তমান সময় ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে " যেমন খুশি তেমন সাজো " বিষয়ে পরিবর্তন হয়েছে। এখনকার মেয়েরা সাজেছে পাশের বাসায় কুটনামী আন্টি , ডিজিটাল ভিক্ষুক। কিছু ভলেনটিয়ার মেয়ে সেজেছিল ডিজিটাল ভিক্ষুক। এই ভিক্ষুদের বিকাশ একাউন্ট রয়েছে, নগদ একাউন্ট রয়েছে, যদি কার কাছে খুচরা টাকা না থাকে তখন তারা বিকাশের মাধ্যমে দিতে পারবেন। ডিজিটাল ভিক্ষুকদের দেখে খুবই ভালো লেগেছে ওরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি টিচার এবং অভিভাবকের কাছ থেকে টাকা তুলেছিল ।
পাঁচ হাজার সাতশত বিশ টাকা উঠেছিল। এই টাকা দিয়ে স্কাউটের সকল সদস্যদের উপহার দেওয়া হলো। কারণ তারাই কঠিন পরিশ্রম করে এই আয়োজনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলে । খেলাধুলার শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল ।কবিতা আবৃত্তি, গান- নাচ ছিল ।
মামনি দেশাত্মবোধক গান এবং নজরুল সংগীত এই দুই বিষয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। সকলের দোয়া ও আর্শিবাদ নিয়ে মামনি পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। যখন শিক্ষকদের মুখে ওর প্রশংসা শুনি তখন মা হিসেবে আমার খুবই ভালো লাগে ।সকলে ওর জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন ।পুরস্কার বিতরণ পর্ব শেষ করতে বিকেল তিনটা বেজে গেল। আমাদের বাসায় আসতে বিকেল ৪:৩০ বেজে গেল ।
আমরা বিজয় দিবস উদযাপন করছি কিন্তু তারপরও একটি প্রশ্ন থেকে যায় ,আমরা আসলে কতটা স্বাধীনতা পেয়েছি? আপনারা সকলে জানেন, অনেক সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে এই ছোট্ট স্বাধীন ”বাংলাদেশ” এর জন্ম হয়েছিল।
দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে কিন্তু দেশের মানুষ কতটা স্বাধীনতা পেয়েছে তা আমি আজও বুঝতে পারি না ।যেখানে জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই, যেখানে নারীর ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই, যেখানে নিজের ঘরে থেকেও কোন নিরাপত্তা নেই, চলাচলের নিরাপত্তা নেই।
![]() | ![]() |
|---|
আমি রাজনীতি বুঝিনা, দল বুঝিনা, আমি একজন সাধারণ জনগণ হয়ে এটাই কামনা করি, আমরা যেন নিরাপদে চলতে পারি। আমাদের এই স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারি। এখানে যেন ধর্ম -বর্ণ কোন বৈষম্য না থাকে।
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি । সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন। শুভরাত্রি ।












Thank you, Sir.