Better Life with Steem|| The Diary Game||17- 12-2025||
Hello,
Everyone,
Justify :
আজকের পোষ্ট লেখার শুরুতে সবাইকে জানাচ্ছি কনকনে শীতের উষ্ণ ভালোবাসা। আশা করি সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন ।কিছুদিন থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রচন্ড শীত পরছে।সূর্য মামার দেখা নেই বললেই চলে ।
এ বছরের শীত বিগত বছর গুলোকে হার মানিয়ে দিয়েছে ।আমার এই ছোট্ট জীবনে এত ঠান্ডা কখনো দেখিনি । জলবায়ুর পরিবর্তনে গরমের সময় যেমন গরম পড়েছে বেশি তেমনি এবছর শীত পড়ছে বেশি ।
।আজকে আমি আপনাদের সাথে ১৭ ই ডিসেম্বর এর দিনলিপি নিয়ে হাজির হলাম । আপনারা সকলেই জানেন ,রাজধানী ঢাকার শহরে বসবাসরত লোকজন তেমন শীত অনুভব করে না কিন্তু এই বছর হাড় কাঁপানো শীত রাজধানী ঢাকা শহরে বসবাসরত মানুষকে স্পর্শ করে গেছে ।
![]() | ![]() |
|---|
ঠান্ডা -সর্দি লেগেই আছে । আমি একটু সুস্থ হলাম কিন্তু আর্মি বাবুর ঠান্ডা এখনো কমছেনা । খুব সকালে অফিসে যেতে হয় ,পিটিতে অংশ গ্রহণ করতে হয় ।এই প্রচন্ড শীতে বাসার ছোট বাচ্চাদের এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি বাড়তি লক্ষ্য রাখতে হবে।
আজকে বাসায় তেমন রান্নাবান্না চাচ্ছিল না ,রাতের বেলা আমাদের একটি রিসিপশন পার্টির নিমন্ত্রণ ছিল। বিয়েতে নিমন্ত্রণ ছিল কিন্তু মেয়ের বাড়ি একদম গ্রামে হওয়াতে আর সাহস করে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয়নি। কারণ এখন গ্রামের বাড়িতে প্রচন্ড শীত পড়ে । এই শীতে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শীতে কষ্ট পাওয়ার থেকে বাসায় থাকাই ভালো।
এই ঠান্ডায় প্রয়োজন না হলে ঘরের বাহিরে বের হচ্ছি না । ইদানিং গ্রামের বাড়িতে চুরি ডাকাতি অনেক বেড়ে গিয়েছে । সাহস করে গ্রামের বাড়িতে যেতে ইচ্ছা করছে না ।
গ্রাম ও শহরে যে পরিমানে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে, জানিনা আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা আবার কবে স্বাভাবিক হবে ? সাধারণ জনগণ আবার কবে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে ? সাধারণত বৌভাত এর অনুষ্ঠান দিনের বেলায় করা হয় কিন্তু সবার অফিস থাকার কারণে রাতে অনুষ্ঠান করা হলো।
"ভাতকাপড়ের"রীতিনীতি গুলো দুপুরবেলায় পালন করা হলো আর রাতের বেলা অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হলো । বরের বাসা আমাদের বাসা থেকে অনেকটা দূরে তাই আমরা দিনের বেলা তাদের বাসায় যেতে পারেনি। রাতে কমিউনিটি সেন্টারে যাবো।
![]() | ![]() |
|---|
![]() |
|---|
কথায় আছে ,গ্রামের বাড়িতে কার ঘরে কি রান্না হয় তা এলাকাবাসী সবাই জানে কিন্তু শহর অঞ্চলে এক ফ্ল্যাটের লোক অন্য ফ্ল্যাটের কোন খোঁজ খবরই জানেনা । অনেক আত্মীয় স্বজন একই শহরে থাকা সত্ত্বেও আসা-যাওয়ার হয় না বিধায় তাদের সাথে তেমন জানাশোনা থাকে না ।
অনলাইন মাধ্যমে আমরা একে অন্যকে চিনি ।সরাসরি তাদের সাথে দেখা হয়নি । পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে সে সকল আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা হয়ে যায়। তেমনি আজও অনেকের সাথে দেখা হবে। মা-মেয়ের খাবার একটা হলেই হল ।সাধারণত পুরুষেরা বাসায় থাকলে অনেক কিছু রান্না করতে হয় । ইদানিং রান্নাবান্না করতে খুবই অলসতা লাগে ।
মেয়ের বিকেলবেলা কোচিং ছিল , কোচিং থেকে এসে মা - মেয়ে তৈরি হয়ে নিলাম এবং আমি সন্ধ্যা বেলা প্রার্থনা করে নিলাম । আর্মি বাবু বাসায় চলে আসলেন। আমাদের বাসা থেকে বের হতে হতে সন্ধ্যা আটটা বেজে গেল।
![]() | ![]() |
|---|
আজ কাল রাতের কোন প্রোগ্রামে বাইরে যেতে সাহস হচ্ছে না । রাতের বেলা রাস্তাঘাট নিরাপদ নয়, অফিসের গাড়িতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ।অনেক বছর পর আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা হল। দেখা না হলে আপন মানুষ অচেনা হয়ে যায়।
কথায় আছে ,দেখলে মায়া না দেখলে ছায়া। আমি প্রথমে চিনতে পারিনি কিন্তু তারা আমাকে দেখে চিনতে পেরেছে এবং তারা আমার বিয়েতে এসেছিল।এত বছর তাদের সাথে দেখা হয়নি । এই বিয়েতে তাদের সাথে দেখা আবার হলো । ২৫ বছর পরে তাদের সাথে আবার দেখা হলো ।
সবাইকে এতটা ব্যস্ত থাকে যে কারো সাথে কারো তেমন দেখা করবার সময় পাচ্ছে না। কোন প্রোগ্রাম হলে হয়তো তাদের সাথে দেখা হয়ে যায় ।ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি এবং বিশ্বাস করি ,বিয়ে হল পবিত্র একটি বন্ধন । কিন্তু বর্তমান জেনারেশন এই বন্ধন নড়বড়ে করে দিয়েছে । এখন তারা মনে করছে ,বিয়ে একটা সাধারণ পুতুল খেলার মতই, মন চাইলে বিয়ে করা যায় আবার মন চাইলে ভাঙা যায় ।
আমার মনে হয় আগের দিনে মেয়েরা কম শিক্ষিত ছিলে বিদায় সংসার কম ভেঙেছে। এখন ছেলে-মেয়ে উভয় সমান শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় বিয়ে ভাঙ্গা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার মনে হয়, বিধাতা হয়তো তাদের জুটি ভুল করে দিয়েছে,তাইতো মাঝ পথে সংসার ভেঙে যায় । তবে এই সংসার ভাঙ্গার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।
সব থেকে ভালো লাগলো , এখানে প্রবেশ করার পর পরে ফুচকা খাওয়ার ব্যবস্থা রেখেছিল। সাধারণত এইসব গুলো ভারতে বিয়ে বাড়িতে আমি দেখেছিলাম। কফি, আইসক্রিম বিভিন্ন রকম খাবার ছিল।
যখন ভারতে মাসির বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন একটি বিয়ের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম । সেখানে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার রাখা হয় ।আমাদের দেশে এই গুলো এখনো ততটা প্রচলন শুরু হয়নি ।
আমরা ফুচকা খেয়ে নিলাম , কিছু ছবি তুলে নিলাম। সবার সাথে কথাবার্তা হল ,অনেক গল্প হল, তারপরে রাতের খাবার খাওয়া হলো । খাবারের তালিকায় কিছু চাইনিজ খাবার ছিল তার সাথে বাঙালি কিছু খাবার ছিল । চাইনিজ খাবার গুলো আমার ও মেয়ের খুবই ভালো লেগেছিল কিন্তু আর্মি বাবু বাংলা খাবার গুলো বেশি পছন্দ করে ।
খাবার গুলো অনেক সুস্বাদু ছিল। আর্মি বাবু চাইনিজ ততটা পছন্দ করে না। যাই হোক ,বিয়ে বাড়ির খাবার নিয়ে কখনো বাজে মন্তব্য করতে হয় না কারণ তারা বহু কষ্ট করে এত কিছু আয়োজন করে ।আমাদের উচিত তাদের প্রশংসা করার।
বর -কনের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের এক ফ্রেমে বন্দী হওয়া ।এই গুলো আমার খুবই ভালো লাগে কারণ এই স্মৃতি সারা জীবন থেকে যাবে । পরবর্তীতে চাইলেও এই স্মৃতি আর ফিরে পাওয়া যাবে না ।
আমি মনে করি বিয়ের সময় এই সুন্দর মুহূর্ত গুলো ধরে রাখার জন্য সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে রাখা দরকার ।আমার খুব আফসোস হয় , অনেক ছোট বয়সে বিয়ে হয়েছিল তাই তখন ততটা বুঝিনি , তাই আমার বিয়ের সময় তেমন ভালো কোন ছবি তোলা নেই । ভিডিও করা হয়েছিল সে ডিস্ক গুলো আজ হারিয়ে ফেলেছি এটা ভেবে খুবই খারাপ লাগে। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত দশটা ত্রিশ মিনিটে বাসায় চলে এসেছি।
![]() | ![]() |
|---|
কিছুদিন আগে বিয়ে নিয়ে ফেইসবুকে একটি ঘটনা পড়লাম , বাবা-মার খুব ধুমধাম করে মেয়েটির বিয়ে দিয়েছিল, মেয়ের বয়স ১৮ বছর এবং বরের বয়স ততটা বেশি না ২৭ বছর ।দুই পরিবার অনেক ধুমধাম করে বিবাহ অনুষ্ঠান উদযাপন করে , কিন্তু দুর্ঘটনা হল বৌভাত অনুষ্ঠান এর পরে বর-কনে মেয়ে বাবার বাড়িতে আসে । বরের ছুটি শেষ হয়ে যায় তাই বরং কর্মস্থলে যোগদান করে ।
মেয়ে বাবার বাড়ি থেকে যার ।২দিন পরে , মেয়ে দুই পক্ষের থেকে দেয়া স্বর্ণ অলংকার এবং নগদ টাকা নিয়ে তার পুরনো প্রেমিকের সাথে চলে যায় ।মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, এখানে তাহলে ভুল কার? প্রতিটা বাবা-মা চায় তার ছেলে মেয়ে ভালো থাকুক ,সুন্দর একটা পরিবেশ পাক ।
মেয়েটা যদি প্রেমিকের সাথে চলে যাবে তবে কেন বিয়ের আগে চলে গেলে না ,কেন আর একটি পরিবারকে সম্মান নষ্ট করলো। যে ছেলেটার সাথে মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল সে তো কোন অন্যায় করেনি তবে সে মেয়েটি কেন তাকে বিয়ের আগে বললোনা , যে তাকে বিয়ে করতে সে রাজি না ।
কেন বিয়ে নামের এই মিথ্যে নাটক খেলা এবং দুটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া। সেই মেয়েটি যে ছেলেটির সাথে পালিয়েছে তার পারিবারিক অবস্থা ততটা ভালো না এবং ছেলেটা কোন কাজ করে না।এইসব মেয়েদের জন্য অন্য সকল মেয়েদেরকে কথা শুনতে হয়।
![]() | ![]() |
|---|
বিয়ে নামের পবিত্র বন্ধন অনেকেই সঠিক মূল্য দিচ্ছেনা ।যাই হোক , দুই পরিবারের নতুন সম্পর্ক অনেক মজবুত হোক এবং তাদের মিষ্টি একটি সম্পর্ক হোক। সকলেই এই নব দম্পতির জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন । তাদের সংসার সুখের সংসার হোক। আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি, সকলে ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।
|













We support quality posts, good comments anywhere and any tags.
আমাকে সমর্থন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, ম্যাম।@jimiaera02