Better Life with Steem|| The Diary Game||20- 06-2026||
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন।জামাই গন যতই পুরানো হোক না কেন তারা শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে সব সময় নতুন থাকেন ,সেই প্রথম বছরের মতো ।সনাতন ধর্মে জামাইষষ্ঠী একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিক লৌকিক আচার।
এই দিনে মেয়ের বাবা-মা মেয়ে ও জামাইকে তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায় । জামাইয়ের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না করা হয় । মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে উপহার দিয়ে থাকেন। মেয়ে জামাই এই দিনে মিষ্টি এবং বড় মাছ নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং শশুর শাশুড়িকে তার সাধ্যমত উপহার দিয়ে থাকেন ।
![]() | ![]() |
|---|
তবে, এই আচর সবার বাড়িতে থাকে না। জামাইষষ্ঠী এই আচর আমার শ্বশুরবাড়িতে পালন করা হয় কিন্তু আমার বাবার বাড়িতে তা পালন করা হয় না ।আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে ,আজ ভালো মন্দ রান্না করে সবার সামনে পরিবেশন করবো।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিজের জন্য ডিডক্স ওয়াটার তৈরি করে নিলাম । মেয়ের পছন্দ অনুযায়ী নুডুলস রান্না করে দিলাম এবং আর্মি বাবু সকালবেলা ভাত খেতে পছন্দ করে তাই তার জন্য ভাত রান্না করলাম ।মা-বাপির জন্য রুটি ভাজি ,ডিম সিদ্ধ করে দিলাম ।
সকালের খাবার খেয়ে দ্রুত দুপুরের রান্নার আয়োজন শুরু করেছি। কারন আজকের সবার পছন্দ অনুযায়ী খাবার রান্না করা হবে ।বাপির জন্য শিং মাছ এবং সবজি ।এটা প্রতিদিনই থাকে এবং সাথে কাঁচা পেঁপে সিদ্ধ থাকে ।আর্মি বাবুর জন্য মাটন কষা করেছিলাম।
মেয়ের জন্য চিলি চিকেন করেছিলাম এবং পোলাও রান্না করেছি। আর্মি বাবু মিষ্টি দই এবং টক মিষ্টি দুই ধরনের দই নিয়ে এসেছে। বাঙালি ভরপুর খাবার শেষ একটু দই ,মিষ্টি খেয়ে থাকেন।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
আজকে জামাইষষ্ঠীতে আমি ওকে সবকিছু সাজিয়ে পরিবেশন করতে পারিনি , কারণ আমার প্রতিবেশী দাদা ভাইয়ের চোখ অপারেশন হবে তাই দুপুরে রান্না শেষ করে , দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ছুটির দিনে পরিবারের পুরুষরা দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় পায় তবে গৃহিণীদের বিশ্রাম নেয়ার সময় পায় না । সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে আমার ফ্রেশ হতে বিকেল পাঁচটা বেজে গেল ।
দ্রুত তৈরি হয়ে গেলাম ।দাদা ভাইয়ের অপারেশনের সময় ছিল সন্ধ্যা সাতটা তাই আমরা দ্রুত বিকেল ৫:৩০ মিনিটে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম ।কারণ ,ঢাকার রাস্তার যে অবস্থা তা আমাদের সকলের জানা ।
যদি যানজট পরে যাই তখন দেখা যাবে ২০ মিনিট সময় এর পর দুই ঘন্টা লেগে গেল ।আমি আর বিশ্রাম না নিয়ে দ্রুত তৈরি হয়ে গেলাম। আর্মি বাবু এবং আমি তাকে দেখতে গেলাম। আমরা এই সময় যদি কাছে থাকি সে অনেকটা সাহস পাবে ।
![]() | ![]() |
|---|
আমার বাবা মাকে কিছু দিন পূর্বে চোখ অপারেশন করিয়েছিলাম তাই আমার কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে। আমি তাকে অনেক কিছু বুঝিয়েছিলাম এবং সাহসও দিয়েছিলাম ।তিনি দুইবার স্টক করেছিলেন তাই তার খুব ভয় লাগছিল ।
চোখের অপারেশন ততটা কঠিন না ।যেহেতু এখন চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেকে এগিয়ে গেছে তাই এখন আর অনেক কাটা ছেড়া কিংবা ব্যান্ডেজ করে বেঁধে রাখতে হয় না ।এখন চোখে ছানি অপারেশন (ফ্যাকোইমালসিফিকেশন সার্জারি )খুব সহজে একটি অপারেশন ।ছোট্ট একটি ছিদ্র করে ছানিটি গলিয়ে বের করে কৃত্রিম সেই লেন্সটি বসিয়ে দেয়।
![]() | ![]() |
|---|
মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের ভিতরে অপারেশন সম্পন্ন হয় ।রোগীকে অজ্ঞান করার কোন প্রয়োজন হয় না ।আমরা নির্দিষ্ট সময় হাসপাতলে চলে এসেছি। ডাক্তার সাহেব অনেক দেরি করে এসেছে কারণ তিনি যানযটে পড়েছিলেন । সন্ধ্যা সাতটায় অপারেশন সময় থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্দিষ্ট সময় আসতে পারেনি ।তিনি রাত ৮ঃ৪০ মিনিটে হাসপাতালে এসেছেন ।
আমাদের কিছুই করার ছিল না ,অপেক্ষা করতে হলো। খুব সাধারন একটি অপারেশন। তার যে দিকের চোখে অপারেশন করা হবে , সেই চোখের উপরে ষ্টিকার লাগিয়ে দিল।
তিনি ইন্ডিয়ান কৃত্রিম লেন্স দিবেন। ইন্ডিয়ান লেন্স যার খরচ পড়েছিল বাংলাদেশি টাকার ২৪ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত খরচ নিয়ে তার মোট ৩৬,০০০ টাকা লেগেছে।
অপারেশন শেষে আমরা দাদা ভাইয়ের ফাইল বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম। কর্তব্যরত চিকিৎসক আসলেন এবং সমস্ত কিছু বুঝিয়ে দিলেন।রাত ১১টায় আমরা বাসায় চলে আসি। এভাবেই জামাই ষষ্ঠী শুভ দিনটি কেটে গেল।
|











