কিছু সম্পর্ক আছে যা রক্তের সম্পর্ক থেকেও বেশি আপন

in Incredible India3 months ago
1000022403.jpg

Hello,

Everyone,

মাঝে মাঝে ভাবি , মানব জীবন আজব জীবন। রক্তের সম্পর্ক বলতে বুঝি ,বাবা-মা ,ভাই-বোন, কাকা -পিসি মাসি ইত্যাদি । এই সম্পর্ক গুলো অনেক কাছের থাকে কিন্তু আস্তে আস্তে সম্পর্ক গুলো হালকা হয়ে যাচ্ছে ।এখন তো যৌথ পরিবার দেখা যায় না বললেই চলে। ছোট পরিবার গুলো আছে, সেই সকল পরিবারে ততোটা সুখ নেই ।

গুরুজনেরা যা বলেছেন তাই সঠিক "যে দিন চলে যায় সে দিন ভালো যায়" ।আমাদের সামনে যে দিনগুলো আসবে তা অনেক কঠিন এবং মায়া হীন,ভালোবাসা হীন হবে। আমাদের ছোটবেলা স্কুল ছুটি পেলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য খুব অস্থির হয়ে উঠতাম। কিন্তু এখন আর সেই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য মনটা টানে না ।

1000022383.jpg1000022385.jpg

চেনা মানুষ গুলো কেমন যেন দিন দিন অচেনা হয়েছে। রক্তের সম্পর্কে গুলো যেন হালকা হয়ে যাচ্ছে। যারা আমার নিয়মিত পোস্ট পড়ে থাকেন তারা অবশ্যই জানেন ,আমার বাবা একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন ।তিনি এখন অবসরে এসেছেন । বাবার সরকারি চাকরি সুবাদে আমরাও বিভিন্ন জেলায় বাবার সাথে ঘুরেছি ।তিন বছর পর পর বিভিন্ন জেলায় আমরা যাওয়ার সুযোগ হয়েছে ।

আমরা যতগুলো জেলা ,উপজেলায় ঘুরে ছিলাম তার ভিতরে বরিশাল জেলার বেতাগী উপজেলা আমাদের কাছে বেশি ভালো লেগেছিল ,যার জন্য সেই উপজেলায় আমরা ২০ বছর থেকে ছিলাম

1000022399.jpg

আমার ছোট বোনের জন্ম ,আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এই উপজেলা থেকে সম্পূর্ণ করেছি । ছোটবেলার স্মৃতিগুলো আজও মনে পড়ে । বাবার অন্য জেলায় পোস্টিং হলেও মা আমাদের নিয়ে বেতাগী উপজেলায় থেকেছেন ।বাবা প্রতি সপ্তায় ছুটির দিনে আসতেন।

কিছু কিছু পরিবারের সাথে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় ,একদম আপন পরিবারের মতো। অনেকে দেখে বুঝতেই পারত না যে, আমরা অন্য পরিবারের।

আমরা যেমন সহপাঠীদের সাথে বন্ধুত্ব করে নিয়েছিলাম তেমনি আমাদের মাও আমাদের বান্ধবীদের মায়েদের সাথে বন্ধুত্ব করে নিয়েছে । আমাদের একত্রে কোচিং করা, একত্রে স্কুলে যাওয়া, বিকেলবেলা একত্রে খেলাধুলা করা এক পরিবারের মত হয়ে গিয়েছিলাম ।

1000023219.jpg1000023220.jpg

বিপদে-আপদে এগিয়ে আসতেন। আমার মা প্রায় অসুস্থ থাকতেন। তখন এই আন্টিরা আমাদেরকে অনেক সাহায্য করত ।আমরা ছোট ছোট দুই ভাই বোন ছিলাম, অনেক কিছু জানতাম না বুঝতাম না ।আমাদের কোন প্রোগ্রামে ওদের পরিবারের সকলে আসতো আবার ওদের কোন প্রোগ্রামে আমরা সবাই যেতাম ,এ যেন একটি পরিবার ।

মজার বিষয় হল , আন্টি সুজির নাড়ু বানাতে পারতেন না, মোয়া বানাতে পারতো না ।তিনি প্রতিবার পূজার সময় আমাদের বাসায় আসতো, মা তাকে নাড়ু বানিয়ে দিতেন এবং আমার মায়ের হাতের রান্না তারা খুবই পছন্দ করতেন।

আমার মা খুবই সহজ সরল মানুষ ,তিনি সব সময় সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করতেন ,কোন কিছু ভালো রান্না করলে মা আন্টির বাসায় দিয়ে আসতেন এবং আঙ্কেল তা খুব মজা করে খেতেন ।মায়ের হাতের রান্না সত্যি অনেক সুস্বাদু ছিল। আমার মা এখনো অনেক ভালো রান্না করতে পারে।

বাবা অবসর নেয়ার পরে দেশের বাড়ি চলে যায়। আমি আর্মি বাবুর সাথে চলে আসছি । অনেক দিন পরে অনলাইন মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ হয় । আন্টি মেয়ের বাসায় ঢাকা এসেছেন । মা ফোনে আন্টির সাথে কথা বলে অনেক খুশি হয়েছে । প্রায় দশ বছর ওদের সাথে আমাদের দেখা হয়নি ।

1000022401.jpg1000022397.jpg
1000022395.jpg1000022396.jpg

আন্টি আমাদেরকে তাদের বাসায় যেতে বলেছিল কিন্তু বাপি অসুস্থ বিধায় আমরা যেতে পারিনি তাই ওদেরকে আমার বাসায় আসতে বললাম । শুক্রবার ছুটির দিন ছিল বিধায় সবাই বাসায় থাকবে তাই ঐদিন ওদেরকে বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানাই ।

মা অনেক খুশি, এত বছর পর তার বান্ধবীর সাথে দেখা হবে । আন্টি কি কি খেতে পছন্দ করে সে অনুযায়ী আমি রান্না করেছিলাম ।অবশ্য মা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে ।এ সম্পর্ক গুলো সত্যি কখনো ভোলার নয় ।

তাদের সাথে আমাদের কোন অর্থ সম্পদ নিয়ে ঝামেলা ছিলো না।তারা আমাদেরটা নেবে না আমরাও তাদেরটা নেব না । যে সম্পর্কের ভিতরে অর্থ সম্পদ চলে আসে সে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় ।এতদিন পরে মা তার বান্ধবীকে পেয়ে অনেক খুশি ।তাদের গল্প যেন শেষে হচ্ছে না। বাপি দেখছি অনেক হাসিখুশি আজ ।

পুরনো দিনের মানুষকে কাছে পেয়ে সবাই খুশি। বাপি- মায়ের এই মুখের হাসি টুকু আমার কাছে অনেক কিছু। তারা ভালো থাকুক ,সুস্থ থাকুক সেটাই সবসময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি। আমি আমার সাধ্যমত আয়োজন করেছি।

1000023255.jpg

আন্টি অনেক স্বাস্থ্য সচেতন , তার তেমন কোন অসুখ নেই ।দুই বান্ধবী মিলে পান সাজিয়ে দিচ্ছে, একজন অন্যজনকে পান খাইয়ে দিচ্ছে। তাদের গল্প যেন শেষই হচ্ছে না ,সকাল দশটার সময় বাসায় এসেছে সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেল তারপরেও তাদের গল্প শেষ হচ্ছে না। বলেছিলাম ,আন্টি তুমি থেকে যাও । আন্টি আজকে থাকলো না কারণ তার মেয়ে বাসায় অসুস্থ। সবার তার মেয়ের জন্য আশীর্বাদ করবেন মা ও শিশুর ভালো থাকে এবং সুস্থ সন্তান যেন পৃথিবীর আলোর মুখ দেখতে পারে।

এই সম্পর্কগুলো যেন চিরদিন থেকে যায়। আমরা সকলে জানি পৃথিবীটা গোল ,যদি মনের মিল থাকে তবে একদিন না একদিন দেখা হবে। সত্যি প্রতি বেশি যদি ভালো হয় তাহলে জীবন ধারণ করা অনেক সহজ হয়ে যায় । আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি ,সবাই ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন এবং পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখুন।

Thank You So Much For Reading My Blog📖

3YjRMKgsieLsXiWgm2BURfogkWe5CerTXVyUc6H4gicdRPmPayXPfM22kXaj3xKw37oQ9tua3JfrnuMRWWqGHfhuyA1UYheY5qjiFbP3BW...JWNUaLb1UAxtVkvpEzFvrbCpiTVHr2qys8cnVHpyrfv38wVPMc1Luya71X8AzcNNuKjF1rHwqMTUWN8r39rGXHzGTLWtLUbqpNh6DHaWG6eK2zUkgnx8ShFKdg.png

|

Sort:  

1000068411.png

Curated by : @wirngo
 3 months ago 

আমার পোস্টটি সমর্থন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ম্যাম,@wirngo

Loading...
 3 months ago 

পোস্টটি প্রদর্শন করে সুন্দর একটি প্রতিক্রিয়া দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি। সত্যি আমাদের সম্পর্ক গুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে ।এখন আর সেই আগের মত কারো জন্য কোন চিন্তা থাকে না ।

শুধু সারাক্ষণ নিজে কি পেলাম ?কি পেলাম না ?কি দিল আমায়? কি দিল না ?সেই চিন্তা নেই আমরা ব্যস্ত থাকি । আমাদের জীবনটাই যেন কেমন হয়ে গেছে, সারাক্ষণ আমরা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বর্তমান পরিস্থিতি আমাদেরকে এত ব্যস্ত করে দিচ্ছে।

 3 months ago 

Thank you,Ma'am.

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.29
JST 0.043
BTC 68063.92
ETH 1975.57
USDT 1.00
SBD 0.39