কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আমাদের তীর্থযাত্রার তৃতীয় দিন ছিল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এবং মহেশখালী আদিনাথ মন্দির ভ্রমণ । ” তীর্থ যাত্রা” যাওয়া মানে আত্মার শান্তি , মনের পবিত্রতা । এর সাথে বাড়তি পাওয়া ছিল আমাদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমন করা ।
বাংলাদেশ অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল ”কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত”, যার সৌন্দর্য বলে শুধু প্রকাশ করা যায় না ।সেখানে গিয়ে নিজের চোখে দেখে উপভোগ করলে বোঝা যায়, সমুদ্র সৈকত সত্যি কত সুন্দর ।সমুদ্রের প্রতিটি ঢেউ যেন নারীর মনের কথা বলে । আমরা সকলে যানি, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় এই সমুদ্র সৈকত , যার দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার ।
![]() | ![]() |
|---|
এই সমুদ্রের কোন কুল-কিনারা দেখা যাচ্ছে না, সমুদ্রে সেই বিশাল ঢেউ। কখনো কখনো সে একটু শান্ত থাকে কিন্তু যখনই জোয়ার আসে তখন তার উত্তাল ঢেউয়ের গর্জনে সমুদ্রের তীর আলোকিত করে ।অনেক দিনের স্বপ্নপূর্ণ হলো । আমি সাঁতার জানিনা তারপরও একটু সমুদ্রে পা ভেজাতে ইচ্ছা করছে। ভয় পাচ্ছি, উত্তাল ঢেউ যদি আমাকে নিয়ে যায়।
আমরা মার্চ মাসে গিয়েছিলামি এই সময় সমুদ্র শান্তই থাকে। এই দিন ছিল আমাদের তীর্থ যাত্রার শেষ দিন ।খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে “লাবণী বিচে” সকলে চলে গেলাম । আমাদের পরিকল্পনা ছিল, নীল সাদা রংয়ের পোশাক পরিধান করা ।যেহেতু সমুদ্রের জল নীল তাই তার সাথে মিল রেখে নীল শাড়ি পরেছিলাম । সব থেকে ভালো লাগার বিষয় হল, আমার শাড়িটি আমি তৈরি করেছিলাম এবং মাথার গোলাপ ফুলটি উল সুতা দিয়ে তৈরি করেছিলাম ।
নিজের হাতের তৈরি করা জিনিসগুলো ব্যবহার করতে অনেক ভালো লাগে। যখন সেই কাজের যদি প্রশংসা পাওয়া যায় তখন তো আরো বেশি ভালো লাগে ।যেহেতু রোজার ছুটি ছিল তাই সমুদ্র সৈকতে পর্যটক এর সংখ্যা খুবই কম ছিল । পর্যটককম থাকায় আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সময়টুকু উপভোগ করেছিলাম । দিদিভাইয়ের জ্বর ছিল তারপরও তিনি সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি , স্নান করার জন্য নেমে পড়ে।
বাচ্চারা বালু দিয়ে ঘর তৈরি করছে, আবার সমুদ্রের ঢেউ এসে সেই ঘর ভেঙে দিচ্ছে। আর্মি বাবু তো মহা খুশি। তার মাঝে শিশু সুলভ একটা মন আছে আমি বুঝতেই পারিনি ।সমুদ্র এসে তাকে অন্যরকম দেখে সত্যি আমার খুব ভালো লাগলো। সেই রাগী রাগী ভাবটা কোথায় যে হারিয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না ।
![]() | ![]() |
|---|
এই সুন্দর মুহূর্ত গুলো ধরে রাখার জন্য ক্যামেরাবন্দি করে রাখলাম ,যা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি ।তবে এখানে ছবি তুলে দেওয়ান জন্য অনেকেই DSLR ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়
এবং খুব স্বল্প মূল্যে আপনাদের ছবি তুলে দিবে । কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় দুটো ছবি তোলার কথা বলে অনেকগুলো ছবি তুলে ফেলে এবং আপনার থেকে অনেক টাকা বিল করে। আবার শুনেছি , ক্যামেরাম্যান এই ছবি দিয়ে নানা রকম হয়রানি করে থাকে ।যেহেতু আমরা অনেকেই একত্রে ঘুরতে যাচ্ছি, নিজেদের ছবি নিজেরাই তোলা ভালো।
সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য দেখে সত্যি আমি ধন্য। সৃষ্টিকর্তা কত সুন্দর ভাবে যত্ন করে এই প্রকৃতিকে সাজিয়েছেন । এখানে না আসলে বোঝা যায় না পাহাড়,সমুদ্র কত সুন্দর ভাবে সাজিয়েছে ।আমাদের এই দেশটি অনেক ছোট , তবে তার সৌন্দর্যের তুলনা হয় না।যেমন গ্রাম বাংলার সুন্দর তেমনি তার পাহাড় সমুদ্র অনেক সুন্দর।
![]() | ![]() |
|---|
অনেক অনেক টাকা খরচ করে আমরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বিদেশে ঘুরে বেড়াই। তার শুরুতে আমরা যদি আমাদের এই ছোট্ট দেশটির সৌন্দর্য একবার ভালো করে ঘুরে দেথি। সমুদ্রের জল লবণাক্ত। খুব ইচ্ছে ছিল সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরে দেখার কিন্তু বর্তমান সময়ে দেশের অবস্থার জন্য সেখানে সবসময় যাওয়ার অনুমতি থাকে না তাই আর এই সুযোগটি এবার পেলাম না। আবার যদি কখনো সুযোগ পাই আমি এখানে আসার চেষ্টা করব ।
![]() | ![]() |
|---|
সমুদ্র সৈকত ভ্রমনের সময় বাচ্চাদেরকে খুবই সতর্কতার সাথে রাখতে হবে । যারা সাঁতার না জানেন তারা সমুদ্রের বেশি গভীরে যাবেন না কারণ সমুদ্রের স্রোতের সাথে নিজেকে সামলানো অনেক কঠিন তাই সুন্দর্য উপভোগ করার সাথে সাথে সতর্কতা অবলম্বন করবেন ।
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবার জন্য রইল শুভকামনা । যদি কখনো সময় বা সুযোগ হয় অবশ্যই আমাদের এই ছোট্ট দেশটি ঘুরে দেখার জন্য আমন্ত্রণ রইল ।










