হঠাৎ যখন বাসায় কোন অতিথি আসে তখন আমরা কি করি?
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আশা করি সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ,বছরের শুরু ,এখন তেমন পড়াশোনার চাপ নেই। এই সময়ে অনেকে পরিবারসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান কিংবা আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছেন ।
ছোটবেলার এই দিনগুলো খুব মিস করি। আমরা ছোটবেলা মামাবাড়ি কিংবা বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যতটা সময় কাটাতে পেরেছি, আমাদের বাচ্চারা আত্মীয় স্বজনদের সাথে সময় কাটানোর মতো কোনো সময় পাচ্ছে না। তাদের বাৎসরিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় তাই তারা তেমন ছুটিও পাচ্ছে না। মামাবাড়ি কিংবা বাড়ি ,কোথাও ঘুরতে যেতে পারছে না।
![]() |
|---|
বর্তমান সময়ে বাহিরে ঘুরতে যাওয়া ততটা নিরাপদ মনে করি না । বাচ্চার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও কোথাও ঘুরতে যাইনি, বাসায় আছি। বাসায় এভাবে থেকে একঘেয়েমি হয়ে যায়, কোন কিছু যেন ভালো লাগে না। সারাদিন শুধু সময় কাটে মোবাইল দেখে ।
এখন আমরা আপনজনদের সাথে সময় কাটানোর থেকে মোবাইলের সাথে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করি। আগেকার দিনে পরিবারের সকলে মিলে একত্রে খেতে বসে গল্প করা হতো, গল্পে গল্পে খাবার টেবিল জমজমাট হয়ে উঠত। সবাই এক সঙ্গে বসে টিভি দেখা হতো । মনে পড়ছে না,কবে পরিবারের সবাই মিলে একত্রে বসে টিভি দেখেছি কারন সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল আছে ।
যে যার মত নিজের কক্ষে গিয়ে মোবাইল নিয়ে ভার্চুয়াল খোঁজ-খবর নিয়ে থাকে। সরাসরি আমরা কেউ কারো খোঁজ নিতে পারি না ।হঠাৎ কোন অতিথি আসলে আমরা বিরক্তিবোধ করি। অনেক সময় দেখা যায় তাদেরকে বলে দেওয়া হয়, বাসায় আসার আগে ফোন দিয়ে আসতে । যেহেতু সবাই এখন কর্মব্যস্ত সেহেতু দেখা গেল, সবসময় তারা বাসয় থাকে না।
![]() | ![]() |
|---|
অতিথি আসার আগে ফোন দিয়ে জেনে নিতে হয়, তারা বাসায় আছে কিনা ? আবার এমন শুনেছি , কেউ অতিথিদের বলে থাকেন ”তুমি যদি থাকো তাহলে তোমার চাল নিব”, মানে তোমার জন্য ভাত রান্না করব ।কিন্তু গ্রামের বাড়িতে যখন তখন যে কেউ চলে আসতে পারে ।ফোন দিয়ে আসার প্রয়োজন হয় না , সে ভাত খাবে কিংবা খাবে না ,সেভাবে রান্না করা হয় না । গ্রামের বাড়িতে ভাত একটু বেশি রান্না করা হয় , হঠাৎ একজন অতিথি চলে আসলে তা খেতে পারে ।
আমার মা সব সময় বলতো “দুপুরবেলা রান্না করার সময় একজনের ভাত বেশি নেবে সব সময়” কারণ অতিতে হলো ”নারায়ণ”। কখন কে হঠাৎ চলে আসে অতিথি রূপে। তাদের চিন্তাধারা এবং বর্তমান চিন্তাধারা পুরোপুরি পাল্টে গেছে ।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
হঠাৎ মেয়ের বান্ধবীরা বাসায় চলে আসলো। আমরা জানতাম না,আমাদের স্যারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য না বলে চলে এসেছে। বাসায় যা ছিল তাই দিয়ে ওদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। ওরা সকল দশটায় চলে এসেছিল ।আমি তখন প্রার্থনা করে ঠাকুর ঘর থেকে বের হয়েছি।
ফ্রিজে ফ্রোজেন পরোটা ছিল তাই ভেজে দিলাম, ডিম ভাজি করলাম ও মিষ্টি এগুলো দিয়ে ওদের সকাল বেলার নাস্তা দিলাম। যেহেতু বাচ্চারা তেমন সবজি পছন্দ করে না তাই ওদের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, দুপুর বেলা কি কি রান্না করব? বেগুনি, ডিমের কোরমা, চিকেন রোস্ট এবং সাদা গোলাপ তৈরি করতে বললো।
![]() | ![]() | ![]() |
|---|
এমন অতিথি আসলে কোন চিন্তা হয় না। খুব অল্পে তারা খুশি হয়ে যায়। আমি ঝটপট দুপুরের রান্না শেষ করি । সবাই এক সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম ।ওরা অনেক মজা করে খাবার খেলো। ওদের প্রশংসা পেয়ে ভালো লাগলো। সুন্দর সময় খুব দ্রুত চলে যায়। কখন যে সন্ধ্যা ৬টা বেজে গেলো বুঝতে পারলাম না। হঠাৎ এমন অতিথি বাসায় আসলে মন্দো হয় না,কি বলুন? অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি ।
# ◦•●◉✿ শুভ রাত্রি✿◉●•◦












Thank you, Sir.