অনেক দিন পর বরের সাথে ঘুরতে যাওয়া

in Incredible India3 days ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

আজকে ছিল রবিবার, আমার বরের অফিস ছুটির দিন। বিকেলে আমারও পড়ানো ছিল না। তাই আমিও ফাঁকাই ছিলাম। যদিও বিকেলে ঘুরতে বেরোনোর কোনো প্ল্যানিং ছিল না, তবে বিকেলটা আমরা খুব বোর ফিল করছিলাম তাই ঠিক করলাম সন্ধ্যের সময় আমরা একটু ঘুরতে বেরোবো। তবে কোথায় বেরোবো, সেই বিষয়েও আমরা আগে থেকে ভেবে রাখেনি। সন্ধ্যেবেলায় রেডি হয়ে আমরা দুজনে বেরিয়ে পড়েছিলাম। বেরোনোর পর আমরা ঠিক করলাম যে আমরা আমাদের শহরের সবচেয়ে রেস্তোরাঁ 'Mother's Hut' এ যাবো। সেইমতো আমরা সেখানে পৌঁছে গেলাম।

1000405034.jpg

*রবিবারে যেহেতু সকলেই বাড়িতে থাকে তাই রান্নাবান্না বেশ জমজমাটই হয়। তাই খুব বেশি কিছু খাওয়ার একদমই ইচ্ছে ছিল না। তবে এই রেস্টুরেন্টটা আমাদের দুজনেরই খুব পছন্দের। এখানকার খাবার এবং পরিবেশ আমাদের খুব ভালো লাগে তাই আমরা প্রায়ই সময় কাটাতে এখানে আসি।'Mother's Hut' এর পুরনো বিল্ডিং টাই কোনো কনস্ট্রাকশনের কাজ হচ্ছে হয়তো তাই সেটা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস হল মেইন বিল্ডিং এর পাশে আরও একটা বড়ো ফুডকোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে প্রচুর মানুষ বসে তাদের খাবার উপভোগ করতে পারবে। সেই বিল্ডিংটা ওপেন ছিল। তাই আমাদের সেই বিল্ডিংয়েই যেতে বলা হয়েছিল।

আমরা সেখানে গিয়ে ওদের নির্দেশমতো একটি জায়গায় বসলাম। তারপর আমরা মেনু কার্ডটা দেখছিলাম। তবে আগে থেকেই ভেবেছিলাম যে আমরা পিজ্জা খাব। তার চেয়ে বেশি কিছু খাবার মতো একদমই খিদে ছিল না। তাই আমরা একটা আচারি চিকেন পিজ্জা অর্ডার করেছিলাম।

1000404865.jpg
'Mother's Hut' এর মেইন বিল্ডিংয়ে বহুবার এলেও এই নতুন বিল্ডিং এ আমি এই প্রথমবারই গিয়েছিলাম। যদিও আমার বর এর আগে একবার এসেছিল। এখানকার ambiance টা আমার দারুন লেগেছে। ভিতরটা এত সুন্দর করে ডেকোরেট করা যে, যে কারোরই পছন্দ হবে। সেই সাথে সমস্ত স্টাফেরা ভীষণই well mannered । আমরা বসে বসে এখানকার ambiance টা উপভোগ করছিলাম। সেই সাথে এখানকার প্রধান আকর্ষণ হল রোবট দ্বারা খাবার পরিবেশন। এখানকার রোবট গুলোর নাম অনন্যা। অনন্যা সকলের খাবার বহন করে নিয়ে যায়। এটা দেখতে বেশ ভালো লাগে। রোবট পরিচালিত হওয়ায় অনেকেই এই রোবট কে দেখতে এখানে ভিড় জমায়।

1000405036.jpg

তারপরে খাবার আসতে বেশ অনেকটাই দেরি হচ্ছিল। তাই আমরা দুজন মিলে গল্প করছিলাম ও বিয়ের আগের বহু ঘটনা আমরা recall করছিলাম। কারণ বিয়ের আগেও আমরা দুইজন মিলে সময় কাটাতে মাঝে মাঝেই এখানে চলে আসতাম। তাই সেইসব দিনের কথা মনে করে আমরা একটু nostalgic হয়ে পড়ছিলাম। তারপর আমরা নিজেদের বেশ কিছু ফটোও তুলেছিলাম।

1000405016.jpg
তারপর খানিক বাদে আমাদের পিজ্জা নিয়ে হাজির হয় অনন্যা। একজন স্টাফ এসে আমাদের সার্ভ করে দিয়ে যায়। পিজ্জা টা খেতে অসাধারণ ছিল। কৃষ্ণনগরের মধ্যে আমার এই রেস্টুরেন্টের পিজ্জা টাই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। দামটাও খুব reasonable। এই আচারি চিকেন পিজ্জার দাম নিয়েছিল ২০৫ টাকা, মানে ৩৭ স্টিম মতো। পিজ্জা খেতে খেতে চোখে পড়েছিল এখানকার ঝাড় বাতি গুলোর দিকে। এত সুন্দর করে সেগুলো ডেকোরেট করা ছিল যে চোখ ফেরানো যায় না। একটি ঝাড়বাতি লন্ঠন বা হ্যারিকেন দিয়ে ডেকোরেট করা ছিল আর একটা ঝাড়বাতি বেতের ঝুড়ি দিয়ে ডেকোরেট করা ছিল।

1000405014.jpg
খাওয়া-দাওয়া সেরে, বিল মিটিয়ে বেরোতে যাব এমন সময় দেখি ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। অগত্যা আমাদের কিছুক্ষণ বসে থাকতে হলো। আমরা বসে বসে বাইরের বৃষ্টি দেখছিলাম এবং ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করছিলাম। সেই সাথে বেশ কিছু ফটোও তুলেছিলাম। তারপর বৃষ্টি একটু কমে এলে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম।

1000405031.jpg
এই ভাবেই আমরা আজকের সন্ধ্যেটা কাটিয়েছিলাম। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.07
TRX 0.30
JST 0.058
BTC 71454.44
ETH 2186.49
USDT 1.00
SBD 0.53