বিয়ের কার্ড বানাতে যাওয়া

in Incredible India3 months ago

নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে আরো নতুন একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

নিজের বিয়ের আর দেড় মাস বাকি। তাই এখন প্রচন্ড ব্যস্ততা রয়েছে। এক এক করে সমস্ত কাজ সেরে ফেলতে হচ্ছে। তবে অধিকাংশ কাজই এখনো পড়ে রয়েছে। কারণ মা বাড়িতে না থাকলে এতসব কাজ কি একা করা যায়! মা আসবে জানুয়ারি মাসে, তখনই বেশিরভাগ কাজ সেরে ফেলতে হবে। তবে মা আসার আগে আমি নিজে যতটা পারি কাজ এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। এই বিয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল আমন্ত্রণ পত্র। সকলকে নিমন্ত্রণ করার জন্য নিমন্ত্রণ পত্র তো বানাতেই হবে। তাই মা বলেছিল মা আসার আগেই এই কাজটা সেরে রাখতে। তাই গতকাল গিয়েছিলাম কার্ডের দোকানে।

1000347311.jpg

যদিও গতকাল কিন্তু আমাদের বাড়ির বিয়ের কার্ড বানাতে যাইনি। গতকাল গিয়েছিলাম আমার শ্বশুর বাড়ির তরফ থেকে বিয়ের কার্ড বানাতে। যেহেতু আমি আগে কখনো এইসব কাজ করিনি তাই কার্ডের কেমন কি দাম হয় সেই বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তাই নিজেদের বাড়ির কার্ড বানানোর আগে ওদের সাথে গিয়েছিলাম ওদের বাড়ির কার্ড অর্ডার দিতে। সন্ধ্যেবেলায় আমার পড়ানো ছিল। অন্যদিন সাইকেল নিয়ে যাই। তবে গতকাল টোটো করেই পড়াতে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় শুভায়ন আমাকে আনতে গিয়েছিল। আমাকে নিয়ে কৃষ্ণনগরের যেখানে এই ধরনের কার্ড বানানোর দোকান রয়েছে সেখানে নিয়ে গেল। আমাকে নামিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে বলল। তারপর ও বাবাকে মানে শ্বশুর মশাইকে নিয়ে এলো। যে দোকান থেকে বিয়ের কার্ড বানাচ্ছিল সেটা ওদের অনেক পরিচিত দোকান। দোকানের মালিক আমার শ্বশুরমশাইয়ের বন্ধু হয়। তাই ওই দোকান থেকেই বানাবে বলে ঠিক করেছিল।

1000347119.jpg

দোকানে পৌঁছে আমরা অনেক ধরনের কার্ডের মডেল দেখছিলাম। বিভিন্ন রেঞ্জের মধ্যে কার্ড ছিল। শুভায়ন আর বাবা দুজন মিলে কার্ড দেখছিল। ওরা বাড়ি থেকে আলোচনা করে এসেছিল যে কেমন প্রাইজের মধ্যে ওরা কার্ড অর্ডার দেবে। ওরা ভেবেছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস এর মধ্যে কার্ড অর্ডার করবে। তবে যখন আমাকে বলল সেই কথাটা, আমি একেবারেই রাজি ছিলাম না। কারণ তিরিশ চল্লিশ টাকা দামের কার্ড বানানোর কোনো মানেই হয় না। অনেক বড়লোক বাড়ির বিয়ের কার্ড পেয়েছি, তারাও এত টাকা দামের বিয়ের কার্ড বানায় না। বিয়ের কার্ড কেউ যত্ন করে রেখে দেয় না , শুধু তো কবে বিয়ে এবং কোথায় বিয়ে হচ্ছে এইগুলোই দেখে। তারপর ফেলে দেয়। তাই অত টাকা দামের কার্ড বানানোর জন্য আমি বারণ করেছিলাম।

1000347116.jpg

বাবা ও পরে আমার কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিল। তবে শুভায়ন একটু দোনোমোনো করছিল। ওর ইচ্ছে ছিল একটু সুন্দর দেখে কার্ড বানাবে। তাই আমিও ওকে বলেছিলাম নিজের মতো করে পছন্দ করে নিতে। আমি শুধুমাত্র একটা সাজেশন দিয়েছিলাম মাত্র। তবে পরবর্তীকালে ওর ও মনে হল যে কম দামের মধ্যেই কার্ড বানাবে। তাই কম প্রাইজের মধ্যেই আমরা কার্ড দেখছিলাম। তারপর ১৮ টাকা দামের একটা কার্ড পছন্দ হলো। কার্ডের দাম ১৮ টাকা আর প্রিন্টিংয়ে পার পিস তিন টাকা করে। মানে মোট ২১ টাকা করে খরচ হচ্ছিল এক একটা কার্ডের জন্য। শেষমেশ আমরা ওটাই ঠিক করলাম।

1000347113.jpg

এবার আপনারাই বলুন ২১ টাকার মধ্যে কার্ড টা কি খুব খারাপ হলো! আমার কিন্তু খুব খারাপ লাগেনি। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.29
JST 0.050
BTC 69046.77
ETH 2027.96
USDT 1.00
SBD 0.49