প্রথম আইবুড়ো ভাতের (শেষ পর্ব)
নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার গত দিনের পোস্ট এর বাকি পর্ব নিয়ে। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
গতকাল আপনাদের বলেছিলাম যে, বাঙালি বিয়েতে, বিয়ের আগে বর এবং কনেকে আইবুড়ো ভাতের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়। সেই উপলক্ষ্যেই আমি আমার প্রথম আইবুড়ো ভাতের নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে পরের দিন একটার মধ্যে শাড়ি পরে রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। যদিও সেই দিন মারাত্মক শীত পড়েছিল তবুও যেহেতু ভেবেই রেখেছিলাম যে সবকটা আইবুড়ো ভাতেই আমি শাড়ি পরবো তাই পছন্দ মত একটা শাড়ি পরে রেডি হয়ে গিয়েছিলাম।

ওদের সাথে কথা হয়েছিল যে ওরা যেহেতু আমাদের বাড়ির কাছাকাছি একটা রেস্টুরেন্ট 'হ্যাংলা' তে সেই দিনের দুপুরটা কাটাবে বলে ঠিক করেছিল তাই যাওয়ার পথে ওরা আমাদের বাড়ির সামনে দিয়েই যেত, তাই আমি বলেছিলাম যখন যাবে আমাকে যেন কল করে, তাহলে ওদের সাথে একসাথেই যাব। কথা অনুযায়ী ওরাও আমাকে কল করেছিল, তারপর আমরা সেখানে পৌঁছেছিলাম। সেখানে পৌঁছেই প্রথমেই আমরা আমাদের অর্ডারগুলো করে দিয়েছিলাম। বলাবাহুল্য, সেই দিন আমাকে কোনো খরচ করতে হয়নি। যেহেতু ওরা আমাকে আইবুড়ো ভাত খাওয়াতো তাই সমস্ত খরচটাই ওরাই দিয়েছিল।

ওই রেস্টুরেন্টে আইবুড়ো ভাত এর একটা থালি পাওয়া যায়। যেটা অল্প বাজেটের মধ্যে খুব ভালো। অনেক রকমের খাবার তার মধ্যে থাকে, সেই সাথে পরিমাণটাও একজনের পক্ষে যথেষ্ট থাকে। ওরা আমার জন্য ওটাই অর্ডার করেছিল।আর নিজেদের জন্য আলাদা কিছু আইটেম অর্ডার করেছিলাম। আমরা এর আগেও এখানে অন্য বান্ধবীদের আইবুড়ো ভাত খাইয়েছি, তাই থালিতে কি কি আইটেম থাকে সে সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম। যদিও প্রতিদিন থালির মেনুতে একই জিনিস থাকে না। সিজন অনুযায়ী কিছু কিছু আইটেম পরিবর্তন হয়। সেই দিন থালিতে ছিল--সাদা ভাত, পোলাও, স্যালাড, ফিশ ফ্রাই, পাঁচ রকম সবজির বড়া,নান, চিলি চিকেন, ভেজ ডাল, মিক্সড সবজির তরকারি, রুই মাছের কালিয়া, চিকেন, মটন, চাটনি, পাঁপড়, কালোজাম (মিষ্টি), ব্লু লেগুন ( ড্রিঙ্ক) ইত্যাদি। এতগুলো আইটেম একজন মানুষের পক্ষে খাওয়া সত্যিই অসম্ভব। আর এই সুন্দর থালিটার দাম ভারতীয় টাকায় 5০০ টাকা, মানে 88 steemit মতো। এতগুলো আইটেমের পরিপ্রেক্ষিতে দামটা আমার কাছে একদম ঠিকঠাক মনে হয়।
ওখানকার যারা দায়িত্ব ছিলেন, তারা প্রথমেই এসে টেবিলে খুব সুন্দর করে ডেকোরেশন করে দিয়েছিল। সেই সাথে ফুল দিয়ে আমার নাম 'PINKI' লিখে দিয়েছিল। যতক্ষণ ডেকোরেশনের কাজ চলছিল আমরা গল্প করেছিলাম এবং সেই সাথে ফটো তুলছিলাম। এত শীতের মধ্যেও সোয়েটার পরে না গিয়ে একটু কষ্ট পেয়েছিলাম ঠিকই তবে এক্সাইটমেন্ট এত বেশি ছিল যে সেইসব বিষয়ে তেমন পাত্তা দিইনি। ওরা আমার জন্য একটা রজনীগন্ধা ফুলের মালা ও নিয়ে গিয়েছিল। যেটা ওরা আমাকে পরিয়ে দিয়েছিল। সেদিন আমরা অনেক ফটো তুলেছিলাম। যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে আমি ওদের জন্য ইনভিটেশন কার্ডও নিয়ে গিয়েছিলাম। তাই ডেকোরেশনের ফাঁকে সময় পেয়ে আমি ওদের কার্ড দিয়ে নিমন্ত্রণ করেছিলাম।।

এরপর ডেকোরেশন কমপ্লিট হলে, এক এক করে আমাদের খাবার দিয়ে যায়। ওনারাই থালির সমস্ত আইটেমগুলো পরপর সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়। তারপর আমি চেয়ারে বসি। বান্ধবীরা আবার কতগুলো ফটো তুলে দেয়। তারপর আমরা খাওয়া শুরু করি। তবে প্রথম দিকে একটু খিদে পেয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল হয়তো সবটা খাওয়া যাবে। তবে খাবারগুলো আসার পর এত খাবার দেখে বুঝে গিয়েছিলাম যে আমার একার পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়।। তবে বান্ধবীরা ও আইবুড়ো ভাতের খাবার থেকে কিছু খেতে নারাজ। কারণ আমাদের মধ্যে একটা বিশ্বাস আছে যে আইবুড়ো ভাতের খাবার খেলে নাকি অবিবাহিত মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যায়। তাই ওরা আমার খাবার থেকে কিচ্ছু খাইনি। আমার একার পক্ষেও এত খাবার খেয়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।

তাই যেটুকু খেতে পেরেছিলাম খেয়েছিলাম, আর বাকি খাবারগুলো নষ্ট না করে, প্যাক করে বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম। ফেরার পথে আমরা আরো কিছু সুন্দর সুন্দর ফটো তুলেছিলাম। আর এভাবেই আমার প্রথম আইবুড়ো ভাতের দিনটি কেটেছিল।।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

